চট্টগ্রাম সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২

২৮ নভেম্বর, ২০২১ | ১:২৭ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

কাজের গতিতে বাধা দুই সংকট

চাহিদার এক-চতুর্থাংশ জনবল দিয়ে চলছে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম। অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পদ রয়েছে ৭১। বিপরীতে লোকবল রয়েছে মাত্র ১৯ জন। ৫২টি পদে এখনো লোকবল নিয়োগ করা যায়নি। এমনকি রাবার বোর্ডের সচিব (উপসচিব) এবং পরিচালক (যুগ্মসচিব) পদে কোন কর্মকর্তা না থাকায় লোকবল নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে একজন উপসচিবকে নিয়োগ কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব দিয়ে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ রাবার বোর্ড।
বর্তমানে নিয়োজিত লোকবলের মধ্যে আউটসোর্সিংয়ে নয়জন এবং দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পাঁচজন রয়েছেন। এর বাইরে নিজস্ব কর্মকর্তা রয়েছেন পাঁচজন। এরা হলেন চেয়ারম্যান একজন, উপ-পরিচালক ২ জন এবং সহকারী পরিচালক দুইজন। শুধু লোকবল সংকট নয়, বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন থেকে পৃথক করে বাংলাদেশ রাবার বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হলেও আড়াই বছরেও মিলেনি নিজস্ব কার্যালয়। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) থেকে ভাড়া করা একটি ভবনে রাবার বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটির অবস্থান নগরীর ষোলশহরস্থ বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ এলাকায়। এর আগে বাবার বোর্ডের কার্যালয় ছিল নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বিএফআরআই এর রেস্টহাউসে। ফলে নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করার কারণে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে বোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে রাবার চাষ সম্প্রসারণ, লাভজনক ও চাষীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশ রাবার বোর্ড আইন ২০১৩ (২০১৩ সালের ১৯ নম্বর আইন) অনুবলে ৫ মে ২০১৩ বাংলাদেশ রাবার বোর্ড প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে আলাদা দপ্তর হিসেবে যাত্রা শুরু হয়। এর আগে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সাথে রাবার বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। শুরুতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব রাবার বোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি একজন নিয়মিত চেয়ারম্যান যোগদান করেন। তিনি একই বছর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে গত আড়াই বছরেও নিজস্ব কার্যালয় পায়নি বাংলাদেশ রাবার বোর্ড। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) থেকে ভাড়া করা একটি ভবনে রাবার বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটির অবস্থান নগরীর ষোলশহরস্থ বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ এলাকায়। এর আগে বাবার বোর্ডের কার্যালয় ছিল নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বিএফআরআই এর রেস্টহাউসে।
বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দা সারওয়ার জাহান দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় রাবার বোর্ডের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে পাঁচজন কর্মকর্তার বাইরে আউটসোর্সিং নয়জন এবং দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পাঁচজন কর্মচারী দিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট-বিএফআরআই’র একটি ভাড়া করা বাড়িতে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিজস্ব জমি বা অফিস ভবন নেই। খাসজমি প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম ও সভাপতি, সরকারি আবাসন বোর্ডকে লেখা হয়েছে।’

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 309 People

সম্পর্কিত পোস্ট