চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২১

সর্বশেষ:

১৮ অক্টোবর, ২০২১ | ৬:৪১ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

কলেজছাত্রকে তুলে এনে ‘জোর করে’ বিয়ে, তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র নাজমুল আকনকে (২৩) অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরদ্ধে। এ ঘটনায় নাজমুল বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় ইশরাত জাহান পাখি (২৫) নামে এক নারীসহ আরও অজ্ঞাত ছয়-সাত জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নাজমুল জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের জালাল আকনের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র। আর অভিযুক্ত নারী ইশরাত একই উপজেলার গাজিপুর সাকিন এলাকার মো. আউয়ালের মেয়ে বলে জানা গেছে।

নাজমুলকে অপহরণ ও পরে তাকে জোর করে বিয়ের দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক নারীর (ইশরাত জাহান পাখি) বাম পাশে বসে আছেন নাজমুল। পেছন থেকে নাজমুলের গলা দু’দিক থেকে চেপে ধরে রেখেছেন এক ব্যক্তি। এ সময় ওই নারীকে নীল কাগজে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে। স্বাক্ষর নেওয়ার পর নাজমুলকে মিষ্টি খাইয়ে দেওয়া হয়। তবে নাজমুল তা মুখ থেকে ফেলে দেন। ভিডিওটিতে সেখানে আরও কয়েকজনের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। 

এদিকে মামলা দায়েরের পর ১৫ অক্টোবর দুপুর থেকে অভিযুক্ত ওই নারী নিজেকে নাজমুলের স্ত্রী দাবি করেন। এবং মেয়েটি নাজমুলের বাবার বাড়ি মির্জাগঞ্জে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় পুরো মির্জাগঞ্জ এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে। 

এসব ব্যাপারে নাজমুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ্ আল-নোমান জানান, তার মক্কেল নাজমুল পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের নিয়মিত ছাত্র এবং তিনি সরকারি কলেজের আবাসিক হোস্টেলে থাকেন। মামলার আসামি ইশরাত জাহান পাখি দীর্ঘদিন ধরে নাজমুলকে মোবাইলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিয়ের প্রলোভন দেখান। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে নাজমুলকে চোখ বেঁধে অপহরণ করা হয়। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে সাত-আটজন ব্যক্তি জোর করে তাকে একটি নীল কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ দিয়ে তারা একটি কাবিন নামা তৈরির পায়তারা করছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৬৫/৩৭৯/৩৮৪/৫০৬ ধারা অনুযায়ী আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। 

এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত নারী ইশরাত জাহান পাখি দাবি করেন, নাজমুলের সঙ্গে তার দু’বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর নিজ ইচ্ছাতেই তাকে বিয়ে করেছেন নাজমুল। এখানে অপহরণ কিংবা জোর করে বিয়ে করার যে অভিযোগ করা হয়েছে- তা মিথ্যা। যে কারণে বর্তমানে তিনি (ইশরাত) নাজমুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন। 

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

পূর্বকোণ/পিআর/পারভেজ

শেয়ার করুন
  • 282
    Shares
The Post Viewed By: 533 People

সম্পর্কিত পোস্ট