চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১১ জুলাই, ২০১৯ | ৩:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক , ঢাকা অফিস

গণপিটুনিতে হত্যাকারী নিহত

কুমিল্লায় দিন দুপুরে মা শিশুসহ ৫ জনকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। পরে ওই ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাধানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাধানগর গ্রামের মো. শাহ আলমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০) ছেলে আবু হানিফ (১২), একই গ্রামের নুরুল ইসলামে স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৬), মা মাজেদা বেগম (৫৫) ও ছ্যাচড়া পুকুরিয়া গ্রামের বজলু মিয়ার স্ত্রী (৩৮)। বজলু মিয়ার স্ত্রীর নাম জানা যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ঘাতকের নাম মোখলেসুর রহমান। পেশায় রিকশাচালক। তিনি মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন বলে স্থানীয়রা

জানিয়েছেন। বুধবার ভোরে বাড়িতে ঢুকে পাঁচজনকে কুপিয়ে হত্যা করে সে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। এ সময় গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, সকালে মোখলেসুর বাড়িতে এসে ঘর থেকে দা নিয়ে প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের বাসায় ঢোকে। ঘরে থাকা নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগমকে আচমকা কোপাতে শুরু করে। নুরুল ইসলাম স্ত্রীকে বাঁচাতে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে মোখলেস। তাদের আর্তচিৎকারে নুরুল ইসলামের মা মাজেদা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
এর পর মোখলেস রক্তমাখা দা নিয়ে যায় আরেক প্রতিবেশী শাহ আলমের বাড়িতে। সেখানে শাহ আলমের ছেলে স্কুলছাত্র আবু হানিফকে (১০) জবাই করে হত্যা করে। ছেলেকে বাঁচাতে এলে শাহ আলমের স্ত্রী আনু বেগমকেও জবাই করে মোখলেস। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন মোখলেসকে আটক করে গণপিটুনি দেন। এতে তার মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশীরা নুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী নাজমা ও মা মাজেদা বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা নাজমা ও মাজেদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম নুরুল ইসলাম বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের খবরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

The Post Viewed By: 169 People

সম্পর্কিত পোস্ট