চট্টগ্রাম বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

৩ আগস্ট, ২০২১ | ৮:৩৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

করোনার কম ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের হোটেলে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তা

হাসপাতালে আসন সঙ্কট দেখা দেয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কম ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের হোটেলে রেখে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তা-ভাবনা সরকার করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভার পর এ কথা জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, যারা করোনার মাইল্ড কেস, সেই সমস্ত পেশেন্টের জন্য আলাদা করে হোটেল ভাড়া করা হবে। সেই হোটেলগুলোতে ডাক্তার, নার্স, ওষুধ সব থাকবে, সাথে থাকবে কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডার। হাসপাতালে যেহেতু জায়গা নাই, তাই এখন হোটেলগুলো খোঁজা হচ্ছে, যাতে মৃদুভাবে যারা করোনায় আক্রান্ত রোগী, তাদের একটা ব্যবস্থা করা যায়।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে সিট বাড়ানোর বিষয়েও কথা হয়েছে, এখন হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশ সিট রোগী দিয়ে পূর্ণ আছে, সিট সেভাবে ফাঁকা নাই। আইসিইউ ৯৫ শতাংশ ভর্তি আছে, হাসপাতালের সিট বাড়ানোর লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে, সেটার কাজ চলমান আছে। সেখানে এখন ৫০০ থেকে ৬০০ বেড হয়তো আয়োজন করা সম্ভব হবে এই মুহূর্তে। পরে একে ১ হাজার বেডে পরিণত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি, সেটা হলো- করোনা আক্রান্ত সবাইকে কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে না। যেগুলো হালকা, মাইল্ড কেস, সে সব রোগীর জন্য আমরা আলাদা হোটেল ভাড়া করার চিন্তা করেছি। যে হোটেলের মধ্যে আমাদের ডাক্তার থাকবেন, নার্স থাকবেন, ওষুধপত্র থাকবে, কিছু অক্সিজেনের ব্যবস্থাও আমরা রাখবো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই। হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি। যেখানে আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারি, মৃদু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রাখতে পারি। ওখানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাতে ভালো হয়ে বাড়ি যেতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

আগামী ৭ আগস্ট থেকে সাত দিনের জন্য বাংলাদেশ প্রত্যেকটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে টিকা দেয়ার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই সাত দিনে আমরা প্রায় এক কোটি টিকা দেব। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

এজন্য সভায় বিভিন্ন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়েছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে গ্রামের বয়স্কদের আমরা অগ্রাধিকার দেব। পঞ্চাশোর্ধ যারা আছেন, তাদের আমরা অগ্রাধিকার দেব, এই বয়সীদের মৃত্যু এখন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে সোয়া কোটি টিকা আছে। আরও এক কোটি টিকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছবে। অর্থাৎ টিকা কর্মসূচি বজায় থাকবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন ‘এনআইডির (জাতীয় পরিচয়পত্র) মাধ্যমে আমরা ভ্যাকসিন দেব। যাদের এনআইডি নেই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে ঘোষণা আগেই দেয়া হয়েছে।’

পূর্বকোণ/পিআর/পারভেজ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 316 People

সম্পর্কিত পোস্ট