চট্টগ্রাম সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

১৮ মে, ২০২১ | ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেই পথশিশু মারুফের পরিচয় মিলেছে

সম্প্রচার অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই ক্যামেরায় ঢুকে পড়ে এক ভবঘুরে শিশু। প্রশ্ন তোলে লকডাউনের যৌক্তিকতা নিয়ে। কে যেন তাকে লিখিয়ে-পড়িয়ে-শিখিয়ে দিয়েছে সেই প্রশ্ন। তারপর তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। ঠিকানাহীন সেই পথশিশু মারুফের ঠিকানা হয় আশ্রয়কেন্দ্রে। ক্যামেরার সামনে আসা যেন তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। এখন মিলেছে তার মায়ের সন্ধানও।

 

জানা যায়, ২০১৮ সালে গাজীপুর থেকে হারিয়ে যায় সেই পথশিশু মারুফ। সৎমায়ের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও নাড়িছেঁড়া ধনের সন্ধান না পেয়ে ফিরে আসেন চট্টগ্রামে। কাজ করছেন সীতাকুণ্ডের একটি পোশাক কারখানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বুকের ধনকে চিনতে ভুল করেনি মা মহিমা খাতুন। ছুটে যান ঢাকায়। কিন্তু বিশাল ঢাকায় ছেলের সন্ধান দিতে পারেনি কেউ। হতাশ হয়ে ফিরে আসেন।

 

মহিমা খাতুন বলেন, নিজের কানের দুল ও সঞ্চিত চাল বিক্রি করে ছেলের খোঁজে ঢাকায় গিয়েছি। অনেক খুঁজেও ছেলের সন্ধান পাইনি। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে সন্তানকে হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। কখন দেখা পাবেন, সেই আশায় বুক বেঁধে আছেন তিনি।

 

জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসার পর মারুফের পরিবারের খোঁজ করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু কোন সন্ধান না পেয়ে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তর আশ্রয়কেন্দ্রের জিম্মায় দেয়া হয়। এখন মিলল মায়ের পরিচয়ও।

 

মারুফ নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার সাগরিয়ার জো খালী এলাকার মহিমা খাতুনের ছেলে। ২০০৪ সালে গাজীপুরের আলমগীর হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় মহিমার। মারুফ হল তার প্রথম সন্তান। দ্বিতীয় সন্তান প্রসবকালে আরেক নারীকে বিয়ে করেন আলমগীর। আলমগীরের দ্বিতীয় বিয়ের পর সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরালয়ে আশ্রয় নেন মহিমা। ছিলেন ৬ বছর।

 

মহিমা খাতুন বলেন, প্রথম দিকে মানুষের বাসায় কাজ করতাম। মারুফের বাবা আমাদের ভরণপোষণ দিত না। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিই। সেখানে সন্তানদের নিয়ে নতুন সংগ্রাম শুরু করি। কিন্তু ২০১৮ সালে ঘটে যায় এক দুর্ঘটনা। বেড়ানোর কথা বলে সৎ মা তাকে গাজীপুরে নিয়ে যায়। পরে তার বাবা জানান, দাদার বাড়ি গাজীপুর থেকে হারিয়ে যায় তার সন্তান। মায়ের মন, কিছুতেই বাধা মানে না। সন্তানের খোঁজে ছুটে যান গাজীপুর। থাকেন এক সপ্তাহ। দুই ছেলের কারো খোঁজ পাননি মহিমা। সন্তানদের খোঁজ না পেয়ে ফিরে আসেন চট্টগ্রামে। ফিরে যান সেই পোশাক কারখানায়। সেই থিতু হন।

 

তিন বছর ধরে সন্তানকে হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন মহিমা। আশায় ছিলেন, একদিন দেখা পাবে বুকের ধনদের। ভাইরাল হওয়ার পর নতুন স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার চোখে-মুখে এখন ভাসছে সন্তানের চেহারা।

 

তবে ভালো আছেন মারুফ, তা জানালেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। নারায়নগঞ্জ গোদাইন সিদ্ধিরগঞ্জের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের উপ-সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার আরজু জানান, কেউ যোগাযোগ করলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, মারুফ ভালো আছে। হাসি খুশি আছে। আমরা ভালোমতো পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তর করতে পারলেই খুশি।

 

পূর্বকোণ/মামুন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 767 People

সম্পর্কিত পোস্ট