চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১

সর্বশেষ:

১৪ এপ্রিল, ২০২১ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

দেশে আজ থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধি-নিষেধের সময় বিদেশগামী ফ্লাইট চালু রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) ও এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)।

সোমবার এক ঘোষণায় বুধবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সকল যাত্রীবাহী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের আনাগোনা নিষিদ্ধ করে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এ পরিস্থিতিতে বায়রা ও আটাব বলছে, কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে অন্তত ২৮ হাজার বিদেশগামী শ্রমিক দুর্ভোগে পড়বে এবং তাদের অনেকের জন্য চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হবে।

আটাবের সভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, এই এক সপ্তাহে যাদের যাবার কথা, সময়মত যেতে না পারলে তাদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আবার অনেকের আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। অনেকে পরে গিয়ে আর চাকরিতে ফিরতে পারবেন না।”

ফ্লাইট বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, যাত্রীরা কভিড-১৯ টেস্ট করে যাবে এবং বিমানবন্দরে পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু সেটি করার বদলে ঢালাওভাবে ফ্লাইট বন্ধ করে শ্রমিকদের ফেরাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

আরও বলেন, “লকডাউনে গার্মেন্ট কলকারখানা খোলা থাকবে, অবকাঠামো নির্মাণ চলবে, ব্যাংক খোলা থাকবে— তাহলে বিদেশে গিয়ে কাজ করেন এমন শ্রমিকরা কী অপরাধ করলো? এক সপ্তাহ পর তো আবার টিকেট সংকট দেখা দেবে। ফ্লাইট চালু হলেও তো অনেকে যেতে পারবে না।”

প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার প্রবাসী শ্রমিক ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গিয়ে থাকেন বলেও জানান মনসুর আহমেদ।

ওদিকে বায়রা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ অনেক দেশই জরুরি খাত হিসেবে শ্রমিকদের বিদেশে পাঠাচ্ছে। তারা মনে করেন এ অবস্থায় বাংলাদেশ এটি বন্ধ করলে শ্রমবাজার প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশই।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রাখলে সেটি করোনা সংক্রমণের গতি রোধে ভূমিকা রাখবে কি-না। কারণ ইতালি ও যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে যখন সংক্রমণ ব্যাপক মাত্রায় বাড়ছিল, তখনো সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করেনি বাংলাদেশ। শুধু নির্দিষ্ট কিছু রুটে গত বছর বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।

বলা হচ্ছে, সে সময় বিদেশ থেকে আসা অনেককেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনেও ঠিক মতো রাখা হয়নি। আবার অনেকেরই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, “এটা ঠিক যে আমরা আগে সময়মত বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা যায়নি। তারপরও বিশ্বে এখন ভাইরাসটির অনেক ভ্যারিয়ান্ট দেখা যাচ্ছে। আবার ভারতসহ অনেক দেশেই সংক্রমণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। সেক্ষেত্রে নতুন আর কোন ভ্যারিয়ান্ট (বাংলাদেশে) আসতে পারবে না বা আক্রান্ত কেউ আসতে পারবে না। এটুকু অন্তত লাভ হবে।”

এ দিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার নির্দেশনায় নাগরিক ও মালামাল পরিবহনে অনাবশ্যক কোন বাধা যেন তৈরি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে।

“কিন্তু এখন সুনামির গতিতে সংক্রমণ বাড়ছে। চলাচল বন্ধ হলে সেটি তো বাধাগ্রস্ত হবেই। তাই সরকার হয়তো ভাবছে ঝুঁকি কমিয়ে আনতে এটা ভূমিকা রাখবে। তবে সরকারকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত জাস্টিফাই করতে হবে।”

আরও বলেন, মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ যাতে কমিয়ে আনা যায় সেজন্য হয়ত ঢালাও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তবে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার মধ্যে শুরু থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল।

গত বছর বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ২২ মার্চ থেকে দশটি রুটের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে ১০ দিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেটা কয়েক দফা বাড়িয়ে দুই মাস পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

সম্প্রতি সংক্রমণ বাড়ার জেরে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী সাতদিনের কঠোর বিধি-নিষেধ ঘোষণা করা হয়, তখন থেকেই অভ্যন্তরীণ সব রুটে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরপর ১৪ এপ্রিল তা কার্যকর হচ্ছে আন্তর্জাতিক রুটেও।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 192 People

সম্পর্কিত পোস্ট