চট্টগ্রাম সোমবার, ০১ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১২:০৪ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলমান থাকার আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থমকে গেছে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ। বাংলাদেশ-মিয়ানমার এবং চীনের মধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ত্রিপক্ষীয় একটি বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সেনা সরকার কী অবস্থান নেবে সে বিষয়ে সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে- এমনটাই আশা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছিল ২০১৮ সালে জানুয়ারিতে। প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে দ্বিপাক্ষিক সেই চুক্তিকে মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে বাংলাদেশ সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেন, দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সেই চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারেই বাংলাদেশ চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, ‘আমরাতো সরকার টু সরকারের অ্যাগ্রিমেন্ট (চুক্তি) হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বিশেষে অ্যাগ্রিমেন্ট হয়নি। সুতরাং দ্য প্রসেস শুড কন্টিনিউ (তাই এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা উচিত)।’

‘আর আমাদের ইতিহাস আছে- আগে যখন মিয়ানমারে সামরিক সরকার ছিল, সেটা ৭৮ সাল বা ৯২ সাল বলেন, সামরিক সরকারের সময়ই প্রত্যাবাসনটা হয়েছে। সো হোয়াই নট দিজ টাইম?’ যোগ করেন মোমেন।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা রিপ্যাট্রিয়েশন (প্রত্যাবাসন) যদি করে, তাহলে তাদের জন্য একটা সুযোগ যে তারা অন্যদের সঙ্গে আছে। সো দে শুড টেক দ্যাট অ্যাডভান্টেজ (তাই তাদের এই সুযোগ নেওয়া উচিত)। আমরা বলেছি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে-আমরা সেটা আশা করি।’

দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তিন বছরেও অং সান সু চি’র সরকার তা বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি সামলাতে চীনের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আমরা সবার কাছে অ্যাপ্রোচ করেছি। আমরা মিয়ানমারের কাছে অ্যাপ্রোচ করেছি। সব রাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতেও আমরা গেছি। চীন এ ব্যাপারে কিছু অগ্রসর হয়ে এসেছে। জাপানও এগিয়ে এসেছিল। তবে চীন অনেক অগ্রসর হয়েছে।’

মোমেন বলেন, ‘আমরা চীনকে আস্থার মধ্যে রেখেছি। আমাদের পশ্চিমা অনেক বন্ধু রাষ্ট্রের একটা উৎকণ্ঠা যে এখন হয়তো আরও রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে আসতে পারে। আমরা বর্ডার সিকিউর করে রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘আগে যারা এসেছিল, আমাদের জনগণই তাদের গ্রহণ করেছিল। এখন আমাদের জনগণ আর তাদের গ্রহণ করার মুড়ে নাই। এখন এই ধরনের দুর্ঘটনা হলে অন্যরা নিয়ে যাক। আমরা নিতে রাজি নই।’

মিয়ানমারের পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করা সহসাই সম্ভব নয় সেটা নিশ্চিত বলা যায়। এখন মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা শুরু করার ক্ষেত্রে চীনের ওপরই নির্ভর করতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সূত্র: বিবিসি

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 142 People

সম্পর্কিত পোস্ট