চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

পূর্বকোণ ডেস্ক

৬ খাতকে ‘শিশুশ্রম মুক্ত’ ঘোষণা করল শ্রম মন্ত্রণালয়

রপ্তানিমুখী চামড়াজাত দ্রব্য শিল্পসহ ৬ খাতকে ‘শিশুশ্রম মুক্ত’ ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। অন্যান্য খাতগুলো হল- পাদুকা, রেশম, ট্যানারি, সিরামিক, গ্লাস, জাহাজ প্রক্রিয়াজাতকরণ। শ্রম ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এ ঘোষণা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেরানীগঞ্জে গেঞ্জি সেক্টরে এখনও শিশুদের বড় একটি অংশ কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকা জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলব। কেরানীগঞ্জে শিশুশ্রম বন্ধ করতেই হবে।”

মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, “গত ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদের সপ্তম সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সুপারিশ বিবেচনা করে বিভিন্ন খাতকে সময় সময় শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করার সুপারিশ আসে। পরে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ‘জাতীয় মনিটরিং কোর কমিটি’ গঠন করা হয়।”

ট্যানারি, গ্লাস, সিরামিক, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানিমুখী চামড়াজাত দ্রব্য ও পাদুকা ও রেশম- এই ছয় শিল্পখাতের মালিকপক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব খাতে কোনো শিশু শ্রমিক নেই।

সংশ্লিষ্ট খাতের সমিতি থেকে প্রত্যয়ন পাওয়ার পর জাতীয় মনিটরিং কোর কমিটি গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এ ছয় খাতের বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করে। তার আগেই কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পরিদর্শকরা কারখানা পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়। আর জাতীয় মনিটরিং কোর কমিটি ছয়টি খাত পরিদর্শন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ছয়টি প্রতিবেদন দাখিল করে।

মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, “কোর কমিটি জানিয়েছে, তাদের পরিদর্শনের সময় এই ছয় সেক্টরের কারখানার মালিকরা জানিয়েছেন, তাদের কারখানায় কখনও শিশু শ্রমিক নেয়া হবে না। কোর কমিটিও তাদের পরিদর্শনে কোনো শিশু শ্রমিক সেখানে দেখতে পাননি। তাই আমি এই ছয়টি সেক্টরকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করছি।”

প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান আরও বলেন, “সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ শিশুশ্রম মুক্ত বলে আশা করছি।”

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত শিশু রয়েছে ১২ লাখ ৮০ হাজার।

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের নিচে কাউকে কারখানায় শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত করা যাবে না। তবে ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ নয়, এমন হালকা কাজ করতে পারবে।

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 145 People

সম্পর্কিত পোস্ট