চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

৫ জানুয়ারি, ২০২১ | ৪:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘রি-এন্ট্রি পারমিটের’ দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে কাতারপ্রবাসীদের অবস্থান

দ্রুত কর্মস্থলে ফিরতে ‘রি-এন্ট্রি পারমিটের’ দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন মহামারি করোনায় কাতার থেকে ছুটিতে দেশে আসা কর্মীরা। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সহস্রাধিক কাতারপ্রবাসীরা মন্ত্রণালয়ের ফটকের সামনে অবস্থা নেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কাতারের আমিরের ছবি নিয়ে ‘আমাদের দাবি, কাতার আমরা যেতে চাই’ স্লোগান দেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন মন্ত্রণালয়ের গেইটের সামনে আসেন।

প্রবাসীরা বলছেন, গত চার মাস ধরে মহামারির কারণে দেশে এসে আটকেপড়া ১২ হাজার কর্মী মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এর মধ্যে আকামার (কাজের অনুমতি) মেয়াদও শেষ হয়েছে ৯৫ শতাংশ কর্মীর। এমন বাস্তবতায় কর্মস্থলে ফিরতে ‘রি-এন্ট্রি পারমিটের’ আবেদন করা হলেও তা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব প্রবাসীদের উদ্দেশে হ্যান্ডমাইকে বলেন, আপনাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তালিকা আমরা কাতারে আমাদের দূতাবাসে পাঠিয়েছি। তারা ওখানে প্রত্যেকটা কোম্পানিতে খোঁজ করে জানছে কাদের কাদের কাজ এখনই হবে। সেই তালিকা পেলে আপনাদেরকে জানাতে পারব অথবা মালিকরা আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে জানাবেন। তখন আপনারা কাতার যাওয়া শুরু করতে পারবেন। আপনারা আগের বার বলেছিলেন যে, অন্যান্য দেশ থেকে চলে যাচ্ছে, আমরা (বাংলাদেশি) যেতে পারছি না। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি এটা সঠিক নয়। আমাদের দেশ থেকেও যাচ্ছে। হয়ত আপনারা যেতে পারছেন না, হয়ত আস্তে আস্তে যাচ্ছে বা যাওয়া শুরু হয়েছে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, এমন কোনো অবস্থা নেই যে অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের লোকরা আগে যাচ্ছে বা আমাদেরকে যেতে দিচ্ছে না, এটা সত্য নয়। এটা বিশ্বাস করবেন না। কারণ আমরা খবর নিয়েছি যে, ওখানে যে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত আছেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আছেন তাদের থেকেও খবর নেয়া হয়েছে। তাদের লোকেরাও আটকে আছে। সুতরাং সব দেশে কমবেশি এক ধরনের কষ্টের মধ্যে, ঝামেলার মধ্যে আছেন। এটা আপনাদের বুঝতে হবে। আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ কোভিড পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমরা চাইলেই সেখানে নিয়ে যেতে পারছি না। যেমন মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে, কোরিয়াতে নিচ্ছে না- এরকম অনেক দেশ আছে একেবারেই নিচ্ছে না।

সিনিয়র সচিব বলেন, সেদিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কিছু বেটার আছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। যার জন্য সৌদি আরবে আস্তে আস্তে যাচ্ছে। ওমানে, বাহরাইনে, অন্যান্য দেশে যাওয়া শুরু হয়েছে। আমাদের কাতার দূতাবাসের লোকজন কাজ করছেন। মালিকদের সাথে তারা যোগাযোগ করে তালিকাটা কমপ্লিট করতে পারলে আমাদের জানাবেন। সেজন্য আপনারা এখানে ভিড় না করে ধৈর্য ধরুন। আগামী সপ্তাহে একটা ছোট প্রতিনিধিদল আমাদের কাছে আসলে আমরা প্রচেষ্টার ফলাফলটা আপনাদের জানাতে পারব। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 114 People

সম্পর্কিত পোস্ট