চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ | ৭:৩৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

অনিয়ম, দুর্নীতি, অসদাচরণে অভিযোগের জবাবে যা বললেন সিইসি

বাংলাদেশের ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে এসব বিষয়ে তদন্তের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের আহবান জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছিলেন ১৪ই ডিসেম্বর।

পরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ওই চিঠিটি প্রকাশ করেছিলেন আইনজীবী শাহদীন মালিক।

ওই ৪২জন নাগরিকের মধ্যে কম বেশি সবাই সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব,যার মধ্যে আছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আকবর আলী খান, হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, এম হাফিজউদ্দিন খান, ডঃ ইফতেখারুজ্জামানের মতো ব্যক্তিরা।

পরে শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন যে তারা যেসব অভিযোগ তুলেছেন এগুলো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত করলেই সত্যতা মিলবে এবং সেটি হলে এ কমিশনকে অপসারণ করা যেতে পারে।

মিস্টার মালিক বলেছিলেন যে বক্তৃতা দেয়ার নাম করে অনিয়ম, কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি, ইভিএম কেনায় অনিয়ম, নির্বাচনে অসদাচরণ ও অনিয়মের মতো অভিযোগগুলো তারা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি কে এম নুরুল হুদা এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যাতে কার্যত ওই ৪২ নাগরিকের তোলা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন।

‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার নামে ২ কোটি টাকার মতো আর্থিক অসদাচরণ ও অনিয়মের  অভিযোগের জবাবে সিইসি বলেছেন একাদশ সংসদ নির্বাচন ও ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ১৫ জন বিশেষ বক্তার জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল না।

“অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কর্মপরিকল্পনায় বক্তার সম্মানী ভাতা বাদ এক কোটি চার লাখ টাকা ও ৫ম উপজেলা নির্বাচনের জন্য ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা সংস্থান রাখা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ জন বক্তা বক্তব্য দেওয়ার জন্য সম্মানী গ্রহণ করেছেন। আর প্রশিক্ষণ কোর্সের উপদেষ্টা হিসেবে ইসি সচিব সম্মানী নিয়েছেন। অব্যবহৃত অর্থ ট্রেজারিতে ফেরত গেছে।”

কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে সিইসি বলেন কোনো প্রমাণ ছাড়াই ৪ কোটি ৮ লাখ টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।

“নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিলো নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত,” বলেন তিনি।

নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন নির্বাচন কমিশন গাড়ি বিলাস করেনি বরং তিন বছর ছয় মাস প্রাধিকারভুক্ত গাড়ি পায়নি।

তারা প্রকল্প থেকে সচিবালয়ের কাজের জন্য দেয়া গাড়ি শেয়ার করে ব্যবহার করেছেন মাত্র।

“কাজের নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।”

ইভিএম ক্রয় ও ব্যবহারে অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত করতে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে ভোটদান সহজ হয়েছে ও দ্রুত ফল প্রচার সম্ভব হচ্ছে।

“ইভিএম ক্রয়ের কোন তহবিল কমিশনের কাছে ন্যস্ত হয় না। এ কাজে নির্বাচন কমিশন কোনে আর্থিক লেনদেনে সম্পৃক্ত থাকে না। তাই দুর্নীতির প্রশ্নই ওঠে না”।

জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে সিইসি বলেন, বিদেশী কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক কিংবা গণমাধ্যমে কোন গুরুতর অনিয়ম ও অসদাচরণের কোন বিষয় প্রচার হয়নি।

“একাদশ সংসদ নির্বাচন বা সিটি নির্বাচনের ফল বাতিল বা পরিবর্তন বিষয়ে আদালত থেকেও কোনো আদেশ কমিশন পায়নি। তাই কমিশনকে দায়ী করে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তা অনভিপ্রেত,” বলেন সিইসি নূরুল হুদা। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 131 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট