চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২০ ডিসেম্বর, ২০২০ | ৫:০১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি থেকে পদত্যাগের ইঙ্গিত মেজর হাফিজের

রিজভীর পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশে ক্ষুব্ধ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। গতকাল বনানীতে নিজের বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর ক্ষোভের কথা জানিয়ে দল থেকে পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘সামরিক বাহিনী যেসব বন্ধুদের সঙ্গে চাকরি-বাকরি করেছি তারা সবাই এবং ব্যক্তিগত বন্ধুদের মধ্যে যারা রাজনীতি করেন না, তারা সবাই আমাকে পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন। আমি নিজেও সেরকম চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু আমার এলাকার নেতা-কর্মীরা আড়াই’শ মাইল দূর থেকে লঞ্চে-নৌকায় ঢাকায় এসে অনুরোধ করেছেন- আপনি পদত্যাগ করবেন না, অবসর নেবেন না। তাদের অনুরোধে আজকে আমি পদত্যাগ করলাম না। আমি দেখতে চাই আমার ব্যাখ্যা তাদের (নেতাদের) কাছে সন্তোষজনক হয় কিনা। তারপর আমি সিদ্ধান্ত নেব।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের দাবি জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপির একজন নগন্য কর্মী হিসেবে কয়েকটি সুপারিশ পেশ করতে চাই। ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই দলের জাতীয় কাউন্সিল আহ্বান করা হোক। দলে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি বাণিজ্য এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে এসেছে। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্যের নেতৃত্বে একটি কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে কাউন্সিল সভার রিপোর্ট পেশ করা হোক। ভবিষ্যতে সকল নির্বাচনে দল থেকে একজনকে প্রার্থী এবং একজনকে বিকল্প প্রার্থী রূপে মনোনয়ন দেওয়া হোক। এতে মনোনয়ন বাণিজ্যের সুযোগ কমে যাবে।’

হাফিজ বলেন, ‘দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং অঙ্গ সংগঠনের কমিটিসমূহ কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে গঠন করা হোক। সম্প্রতি আমার নির্বাচনী এলাকায় ছাত্রদলের কমিটি কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় বসে গঠন করেছেন। আহবায়ককে আমি নিজেই চিনি না। শুনেছি, ছাত্রলীগের কর্মীরাও এ কমিটিতে স্থান পেয়েছে। আমার সুপারিশকে বিবেচনা করা হয়নি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে চিঠি দিয়ে কোনো উত্তর পাইনি। ২৯ বছর সার্ভিস দেওয়ার পর চিঠির একটি উত্তর আশা করতেই পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হলে তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাহলেই সৎ, নির্লোভ, মহান নেতা শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মা শান্তি পাবে।’

কর্মীদের প্রতি তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের চিন্তা করতে বলি- দেশের জনপ্রিয় দল বিএনপি কেন আজ ক্ষমতার বাইরে, কারা এর জন্য দায়ী। এখনও তো বিএনপি সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। ১৯৯৬ সালে লেজে গোবরে হয়ে আমরা ইলেকশনে গিয়েছি। তারপরও ১১৬টা আসন পেয়েছি। প্রত্যেকটা মন্ত্রী পরাজিত হয়েছে। অথচ আমরা এমপিরা বিজয়ী হয়েছি। সুতরাং চিন্তা করেন, মুক ও বধির না হয়ে চিন্তা করেন। দলকে ভালোর জন্য কনট্রিবিউট করেন। দলকে সাজেশন দেন, কী করা উচিত। কেবলমাত্র তোষামদ করে দায়িত্ব শেষ করবেন না। জিয়াউর রহমানকে অনুসরণ করুন। তার মতো সততার সঙ্গে রাজনীতি করুন। তিনি বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার নেতা জিয়াউর রহমান বলে গিয়েছেন, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমার কাছেও দেশ সবচেয়ে বড়।’

 

পূর্বকোণ/মামুন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 168 People

সম্পর্কিত পোস্ট