চট্টগ্রাম সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

হাসিনা-মোদী বৈঠক ১৭ ডিসেম্বর

১০ ডিসেম্বর, ২০২০ | ২:৫৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাসিনা-মোদী বৈঠক ১৭ ডিসেম্বর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভার্চ্যুয়াল শীর্ষ সম্মেলন আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ও লাইন অফ ক্রেডিটের (এলওসি) অধীন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল বুধবার (৯ ডিসেম্বর) দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক সামনে রেখে এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের সীমান্ত যেন শান্তিপূর্ণ থাকে, একইসঙ্গে ভারতের ক্রেডিট লাইনের আওতায় দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটাই আলোচনা প্রাধান্য পাবে।

সূত্র জানায়, ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টায় বসবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকটি এক থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী হতে পারে। ভার্চুয়াল বৈঠকে বেশি আলোচনা করা যায় না। এ জন্য একটি যৌথ বিবৃতিতেও সম্পূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসবে।

সূত্র আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডবিহীন শান্তিপূর্ণ সীমান্ত, এলওসি প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন, পানিবণ্টন, বাণিজ্য ফ্যাসিলিটিশেন, কোভিড-১৯ সহযোগিতা, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনসহ বিভিন্ন বিষয় থাকবে আলোচনায়।

শান্তিপূর্ণ সীমান্ত 

অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বেশি হচ্ছে, যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার উদ্বিগ্ন। এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতের সঙ্গে প্রতিটি বৈঠকে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করে এটি বন্ধ করার জন্য জোরালো তাগিদ দেয়া হয়। এবারের শীর্ষ সম্মেলনেও তা নিয়ে কথা হবে।’ এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক করাটা কঠিন হয়ে পড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই কর্মকর্তা।

এলওসি

ভারতের এলওসি নিয়ে প্রথম থেকে কাঠামোগত সমস্যা ছিল। এর সম্পূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আরেক কর্মকর্তা বলেন, যেকোনও এলওসি প্রকল্প প্রথম ধাপ থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক সময় লাগে।’
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রথমে প্রকল্পের আইডিয়া ভারতের কাছে পৌঁছানোর পর কয়েক মাস লাগবে সেটার অনুমোদন হতে। এরপর এ সংক্রান্ত স্টাডি, দরপত্র আহ্বান, দরপত্র চূড়ান্ত করাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে কয়েক মাস করে সময় লাগবে। এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। এছাড়া শর্ত অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে পরিমাণ মানুষ ও সামগ্রী লাগবে তার ৭৫ শতাংশ ভারত থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এতেও অনেক খরচ বাড়তে পারে। এগুলোর সমাধানের দিক নির্দেশনা নিয়েও আলোচনা হবে শীর্ষ বৈঠকে।

পানি সহযোগিতা

তিস্তা ছাড়া আরও ৬টি নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা করছে দুই দেশ। এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক আগে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা শেষ হলেও এখন স্বাক্ষর করা বাকি। এটি দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানানো হবে। মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমার নিয়ে গত বছর দুই দেশের পানি নিয়ে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হয় এবং এটি কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে বাংলাদেশ আলোচনা করবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
এছাড়াও তিনি জানান, বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও সহযোগিতা, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কীভাবে করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হবে।

 

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 92 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট