চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১

১০ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১২:১৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ব্রিটিশ আমলের বগি বদলে বসছে অন্য ট্রেনের ব্যবহৃত বগি

মেঘনা-বিজয় রেলযাত্রীদের জন্য ‘সুখবর’

দ্রুত সময়ে বদলানোর নির্দেশ কার্যকর হতে পারে ১৬ ডিসেম্বর

এবার একটু উন্নত হচ্ছে চাঁদপুরগামী মেঘনা ও ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ আমলের বগি দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা ট্রেন দুটি পাচ্ছে উন্নত মানের বগি। মঙ্গলবার রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশন) মো. খায়রুল কবির স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

তবে নতুন বগি নয়। মেঘনা ও বিজয় এক্সপ্রেসে সংযুক্ত করা হবে জয়ন্তিকা ও উপবন এক্সপ্রেসের চায়না ও ইরানি কোচ। কারণ, ঢাকা-সিলেট রুটের জয়ন্তিকা ও উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিতে সংযুক্ত করা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা নতুন কোচ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, জয়ন্তিকা ও উপবন এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেন। এখানকার বগিগুলো অনেক ভালো মানের, নতুনের মতোই। অন্যদিকে মেঘনা ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের বগিগুলো ব্রিটিশ আমলের। ভেতরের সিটগুলোর অবস্থাও নাজুক। তাই মেঘনা ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে নতুন বগি যুক্ত হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী ফকির মো. মহিউদ্দিন জানান, মেঘনা ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে জয়ন্তিকা ও উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বগিগুলো সংযুক্ত করতে রেলভবন থেকে একটি চিঠি দিয়েছে। শিগগিরই বগিগুলো সংযুক্ত করা হবে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা পূর্বকোণকে বলেন, ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ইন্দোনেশিয়ার নতুন কোচ লাগানোর পর থেকেই সুবর্ণ থেকে ১৭টি চায়না কোচ পাওয়া যায়। যেগুলো দিয়ে অনেক আগে থেকেই সিদ্ধান্ত হচ্ছিলো মেঘনা ও বিজয় এক্সপ্রেসে যুক্ত করার। এরইমধ্যে মেঘনা ও বিজয় এক্সপ্রেসে জয়ন্তিকা ও উপবন এক্সপ্রেসের চায়না ও ইরানি কোচ সংযুক্ত করার নির্দেশনা আসে। আশা করছি বিজয়ের মাসে বিজয়ের দিনে বিজয় এক্সপ্রেসে ভালো মানের এ কোচ সংযুক্ত করা হবে। এমনটাই পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের।

এদিকে নতুন কোচ না মিললেও ভালো মানের কোচ সংযুক্ত হওয়ার সংবাদে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রেন দুটির যাত্রীরা। গতকাল চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে মেঘনা এক্সপ্রেসে করে যাত্রা করা মো. আরিফ হোসেন নামে এক যুবক বলেন, ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। চাকরির সুবাদে কখনো মেঘনা কখনো সাগরিকায় চড়ে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর আবার চাঁদপুর-চট্টগ্রাম যাতায়াত করতে হয়। ট্রেন দুটির মধ্যে মেঘনা কিছুটা ভালো বলা চলে। তবুও বগিগুলোতে থাকা সিট, জানালা আর টয়লেটের অবস্থা দেখলে কোনো প্রথম শ্রেণির যাত্রী এ ট্রেনে যাত্রা করতে চাইবেন না। বগিগুলো অনুন্নত হওয়ায় এ রুটের বেশিরভাগ যাত্রীই বাসে যাতায়াত করে। তবে আশা করছি উন্নত মানের নতুন এ বগিগুলো সংযুক্ত হওয়ার পর যাত্রী সেবার মান যেমন বাড়বে তেমনি বাড়বে যাত্রী সংখ্যাও। তাই বিলাসবহুল বগি না পেলেও আমরা এতেই সন্তুষ্ট।’

 

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 152 People

সম্পর্কিত পোস্ট