চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১

১ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

শুরু হল বিজয়ের মাস

আজ থেকে শুরু হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই মাসেই বীর বাঙালি বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার মাস এটি। বছর ঘুরে আবার এলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রতিটি দিনই ছিল ঘটনাবহুল। স্বাধীনতাকামী বাঙালির হৃদয়ে বিজয়ের বৈজয়ন্তী উড়িয়ে আসা সেই দিনগুলো ছিল গৌরবের, শিহরণের, পরম আরাধ্যের। পাকিস্তানকে পর্যুদস্ত করে অর্জিত সে বিজয় ছিল আনন্দের— প্রিয়জন হারানো শোকেরও বটে।

বিজয়ের সেই আনন্দকে বুকে ধারণ করে বিগত ৪৯ বছরে একটু একটু করে বদলে গেছে আমাদের স্বপ্ন স্বদেশভূমি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে এখন আমরা পৌঁছে গেছি উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তরুণ প্রজন্ম নতুন উদ্দীপনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে।

১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গেরিলা হামলা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেনাবাহিনী আরও ভয়াবহভাবে নিরীহ জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পারে জিঞ্জিরাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে এক দিনেই হত্যা করা হয় ৮৭ জনকে।

এ সময় বাঙালির স্বাধীনতার লড়াইকে আড়ালে রাখতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে বেতারে ঘোষণা দেন। তবে সেদিন কোনো ষড়যন্ত্রই বাঙালিকে বিজয় অর্জন থেকে পিছিয়ে রাখতে পারেনি। মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করতে তারা মরণপণ লড়াই চালিয়ে যান।

একদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ যুদ্ধ, অন্যদিকে মিত্রবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে জীবন বাঁচাতে পাকিস্তানি হানাদাররা বীর বাঙালির কাছে আত্মসমর্পণের পথ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ দ্রুত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ বেয়ে আসে পরম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালের আজকের দিনে মুক্তিবাহিনী সিলেটের শমশেরনগরে আক্রমণ চালিয়ে টেংরাটিলা ও দোয়ারাবাজার শত্রুমুক্ত করে। মুক্তিবাহিনীর অপারেশনের মুখে পাকিস্তানিরা সিলেটের গ্যরা, আলীরগাঁও ও পিরিজপুর থেকেও ব্যারাক গুটিয়ে নেয়। এ সময় রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের এক মুখপাত্র ‘শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার শেষ হয়নি’ বলে বিবৃতি দেন।

একই দিনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার পার্লামেন্ট বক্তৃতায় উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সৈন্য সরানোর জন্য ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহ্বান জানান। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা গোলাম আযম এ সময় ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক করে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের দাবি তোলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দি ত এই নেতা তখন মুক্তিযুদ্ধকে ‘কমিউনিস্টদের অপতৎপরতা’ হিসেবে অভিহিত করে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন।

তবে বৈশ্বিক মহামারি নোভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে প্রতিবছরের মতো এবার আর বিজয়ের মাসে দেশবাসী বিজয় ও মুক্তির আনন্দে উল্লাস করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। ভালোবাসায় উজ্জীবিত ও শোকে মূহ্যমান হয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে অগণিত মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানাবার সুযোগ এবার আর পাচ্ছে না বাঙালি জাতি। তবে সবার হৃদয়ের গহীন কোণ থেকে চেতনায় অনুরণিত হবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, অপার ভালোবাসা।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 185 People

সম্পর্কিত পোস্ট