চট্টগ্রাম বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০

২৯ মে, ২০১৯ | ২:৩২ পূর্বাহ্ন

পূর্বকোণ ডেস্ক

জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপান সবসময় আমার হৃদয়ের কাছে : হাসিনা

চারদিনের সরকারি সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেল সাড়ে ৬ টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে টোকিওয়ের হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাশিকো আবে ও জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতেমা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে শিনজোর আমন্ত্রণে শেখ হাসিনার এ সরকারি সফর। পরে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সফরকালীন আবাসস্থল হোটেল নিউ অতানিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে ঢাকার সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৫১১ ফ্লাইটে টোকিওর হানিদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাপান সফর শেষে সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা ১২ দিনের সরকারি সফর শেষে আগামী ৮ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।-বাংলানিউজ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। অন্যান্য সফর সঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর

রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ-এর প্রেসিডেন্ট রুবানা হক।
৩১ মে সকালে জাপান থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার সময় জেদ্দা পৌঁছানোর কথা বাংলাদেশ সরকার প্রধানের।
এদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ‘মক্কা সামিট: টুগেদার ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
এরপর ১ ও ২ জুন সৌদি আরব অবস্থান করে পবিত্র ওমরা পালন ও মহানবী (সা.) এর পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করবেন শেখ হাসিনা।
৩ জুন দিনগত রাত ১টার দিকে সৌদি থেকে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় দুপুরে হেলসিংকিতে পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। ৪ জুন তিনি ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
‘জাপান সব সময় আমার হৃদয়ের কাছে’
শৈশবে জাপানের জন্য নিজের টানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে এটা তার মধ্যে প্রবাহিত হয়েছে।
জাপানে রাষ্ট্রীয় সফর শুরুর আগে মঙ্গলবার দেশটির সবচেয়ে পুরনো ও অন্যতম শীর্ষ গণমাধ্যম দ্য জাপান টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, “শৈশব থেকেই জাপান নিয়ে আমার মধ্যে মোহ কাজ করত। আমি জাপানি চিত্রকলা, ক্যালেন্ডার, ডাকটিকেট, পুতুল ইত্যাদি সংগ্রহ করতাম। জাপান সব সময়ই আমার হৃদয়ের কাছে।” ওই নিবন্ধে ‘কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সেবা ও শিল্প খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির পরিক্রমায়’ বাংলাদেশের রূপান্তরের কালে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান।-বিডিনিউজ
তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটাই জাপানে তার প্রথম সফর। এর আগে ২০১৪ সালে তিনি জাপান সফর করেন। এবার তার সফরের আগে জাপানে নতুন সাম্রাজ্য শুরু হয়েছে। নতুন যুগকে ‘আশা ও ঐকতানের’ যুগ হিসেবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “নতুন এই যুগ আমাদের আরও কাছে টানুক, সম্পর্ক গভীরতর করুক এবং আমাদের শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সহায়তা করুক।”
‘উন্নয়নের জন্য জাপান-বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শিরোনামে এই নিবন্ধে তিনি ‘বাংলাদেশকে আরেকটি জাপান হিসেবে গড়তে’ তার বাবার আকাক্সক্ষার কথা তুলে ধরেন।
জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানুষের উন্নততর জীবনমান নিশ্চিত করতে চলমান বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই বিনিয়োগের সবচেয়ে উদার ও উপযোগী পরিবেশের সুযোগ দিচ্ছে।
জাপানি বিনিয়োগকারীদের একটিসহ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা লিখেছেন, “পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপান সব সময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে।”
সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের দুই দেশের পতাকার মধ্যে অনেক সামঞ্জস্য আছে। জাপানি ছাত্ররা খাবারের পয়সা বাঁচিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
জাতির জনকের কথা স্মরণ করে তার কন্যা বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি থেকে শিল্পায়নের পথে রূপান্তরে জাপানকে অনুসরণে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।”
১৯৭৩ সালের অক্টোবরে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফর ও পরের বছর তার অনুরোধে জাপানের পক্ষ থেকে যমুনা (বঙ্গবন্ধু) সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা পরিচালনার কথা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি লিখেছেন, ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফরের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাপান রূপসা সেতু নির্মাণ করে দিয়েছিল। এছাড়া পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইও করে দিয়েছিল।
সেসময় দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে দুদেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায় ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে জাপানি উদ্যোক্তা বাড়তি আগ্রহে আমরা খুবই উৎসাহিত।”
এখন বাংলাদেশে ২৮০ জাপানি কোম্পানি ব্যবসা করছে, যা গত দশকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। জাপারেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপ বলছে, জাপানের অনুমোদিত কোম্পানির বাংলাদেশে ব্যবসায় উন্নতি করছে।
প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আমরা অর্থনীতির সকল খাতে বিদেশি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের রাস্তা উন্মুক্ত রেখেছি। এবং সেক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণে কোনো বিধিনিষেধ নাই। ”
২০১৬ সালের জুলাইতে গুলশানে জঙ্গি হামলায় নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্ব পরীক্ষিত হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০১২ সালে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের রজতজয়ন্তী উদযাপন করবে। জাপান এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। ১৯৭২ সাল থেকে দেশটির কাছ থেকে বাংলাদেশ মোট এক হাজার ১৩০ কোটি ডলারের সহায়তা পেয়েছে।
শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় ৪০তম ঋণ সহায়তার আওতায় আড়াইশ কোটি ডলারের একটি ঋণচুক্তি হবে।

The Post Viewed By: 333 People

সম্পর্কিত পোস্ট