চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৩ মে, ২০১৯ | ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নতুন করারোপ

চালের আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ করলো সরকার

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিদেশ থেকে চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ বহাল রেখে রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নতি করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাল আমদানির ক্ষেত্রে আরও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করেছে এনবিআর। গতকাল বুধবার সংস্থাটির সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে এনবিআর।-বাংলানিউজ
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২২ মে থেকে চাল আমদানি করতে হলে ৫৫ শতাংশ কর দিতে হবে সরকারকে। ৫৫ শতাংশ করের মধ্যে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ এবং এআইটি ৫ শতাংশ করে দিতে হবে।
এ বিষয়ে সিনিয়র সচিব অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, এনবিআরের মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের ১০ মাসে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এতে দেশীয় কৃষকদের উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। যার ফলে প্রান্তিক কৃষকরা আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকদেরকে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসন অনুযায়ী আমদানি পর্যায়ে চালের উপর আমদানি শুল্ক কর বৃদ্ধি করা হয়েছে’। এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকের পাকা ধানক্ষেতে আগুন লাগানোর ঘটনা স্যাবোটাজ কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের আরো বলেন, আমাদের সরকার কৃষিবান্ধব। আমরা কৃষকদের জন্য যা করেছি, অতীতের কোনো সরকারই তা করেনি। কৃষকবান্ধব কর্মসূচির কারণেই বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ অবস্থায় একজন কৃষক কেন তাঁর ধানক্ষেতে আগুন দিতে যাবেন, এটা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক গত ১২ মে নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংবাদ বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে তা ভাইরাল হয়। দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছে।
এর আগে কৃষকদের ধানক্ষেতে আগুন লাগানোর ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনিও ওই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটিকে স্যাবোটাজ হিসেবে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, সরকারকে বিপদে ফেলতে ও বিব্রত করতে একটি অশুভ চক্র কৃষকদের উসকানি দিয়ে ধানের জমিতে আগুন দিয়েছে। সরকারকে বিপদে ফেলতে একটি চক্র গণমাধ্যমকর্মীদের সেখানে বিশেষ উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়ে ধানক্ষেতে আগুনের ঘটনা ফলাও করে প্রচার করেছে।
এসব চক্রান্ত সফল হবে না জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যেমন কৃষকদের নিয়ে ভাবতেন, তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারও কৃষকবান্ধব। তাই এসব অশুভ চক্রান্ত ও পাঁয়তারা কোনোদিনই সফল হবে না।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট