চট্টগ্রাম বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

ধান সংকটের অজুহাতে বাড়ছে চালের দাম

মিলারের ফের চালবাজি হ দু’দিনে বস্তাপ্রতি বেড়েছে একশ থেকে দেড়শ টাকা

কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে নিয়ে এখন বাজার নিয়ে খেলছে মিল মালিকেরা। গত দু’দিনে চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে একশ থেকে দেড়শ টাকা। গত ডিসেম্বরে বেড়েছিল দুই টাকা। এক মাসের ব্যবধানে দুই দফায় তিনশ টাকা থেকে সাড়ে তিনশ টাকা বেড়েছে। চালের দাম বাড়ার কারণে নি¤œ ও মধ্যবিত্তের খরচ আরেক দফা বাড়ল।

ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে চালের সংকট না থাকায় রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পর্যাপ্ত চাল মজুত থাকার পরও অকারণে বাড়ছে চালের দাম। সরকারের নজরদারি না থাকায় মিল মালিকেরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে।
পাহাড়তলী বণিক সমিতির সহ সভাপতি জাফর আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘তিন মাসে আগে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে নিয়েছে মিল মালিকেরা। সব ধান মজুত করে এখন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে নতুন চাল আসবে। এই সুযোগ নিচ্ছে মিল মালিকেরা।

চালের পাইকারি মোকাম চাক্তাই ও পাহাড়তলী বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা ইরি-আতপ চালের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩শ টাকা থেকে ১৩৫০ টাকা। মাসখানেক আগে তা ৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বেতি-২৮ বিক্রি হচ্ছে বস্তাপ্রতি মানভেদে ১৯শ টাকা। ডিসেম্বর মাসে তা বিক্রি হয়েছিল ১৪৫০ থেকে ১৫শ টাকা। বেতি-২৯ চাল বিক্রি হচ্ছে ১৭শ টাকা দরে। মাসখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ১৪৫০ টাকায়। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১৮শ থেকে দুই হাজার টাকা। দুই দিনে বেড়েছে একশ টাকা। জিরাশাইল সিদ্ধ মানভেদে একশ টাকা বেড়ে ২২৫০ টাকা থেকে ২৪শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসে তা ১৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩শ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বেতি-২৮ সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ১৯শ টাকায়। এক মাস আগে ছিল ১৭শ টাকা। স্বর্ণাসিদ্ধ (নূরজাহান সিদ্ধ) প্রায় ১৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬শ থেকে ১৬৫০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে ১৩শ টাকা থেকে তিন দফায় বেড়েছে। পাইজাম চাল একশ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭শ টাকায়। গুটি সিদ্ধ একশ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫০ থেকে ১৫শ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানায়, গত জানুয়ারিতে আমন ধান কাটার সময় চালের দাম বেড়েছিল। কৃষকের কষ্টার্জিত ধানে লাভ পাওয়ার অজুহাতে চালের দাম বেড়েছিল বলে দাবি করেছিল মিল মালিকেরা। কিন্তু এর আগে ধান কাটার পর কম দামে চাল কিনে নিয়েছে কৃষক। কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে নেওয়ার পর এখন বাজার নিয়ে খেলছে মিল মালিকেরা। দেশের চালের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কারসাজি করে চাতাল মালিক ও ব্যবসায়ী সি-িকেট কারসাজি করে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ পূর্বকোণকে বলেন, পুরোনো চালের দাম বেশি বেড়েছে। নতুন চালের দাম তেমন বাড়েনি।
ফরিদ উদ্দিন দাবি করেন, ‘সরকার চাল কেনা বন্ধ করে এখন বেশি পরিমাণ করে ধান কিনছে। বাজারে ধানের সংকট হওয়ার কারণে চালের দাম বেড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মালিক মালিকেরা মাত্র ২০ শতাংশ চাল সরবরাহ করার ক্ষমতা রয়েছে। আর ৮০ শতাংশ চাল সরবরাহ করে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের মিলাররা।’

আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানায়, উত্তরবঙ্গের ময়মনসিংহ, শান্তাহার, নওগাঁ, কৃষ্টিয়া, দিনাজপুর, আশুগঞ্জের চাতাল মালিক ও ব্যবসায়ী সি-িকেট দীর্ঘদিন ধরে চালের বাজার জিম্মি করে রেখেছে। কৃষক ঠকিয়ে মিল মালিকেরা চালের বাজার অস্থির করে তুলেছে।
প্রতিবছর আমন ও বোরো মৌসুমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ধান-চাল ক্রয় করে সরকার। কৃষকের কাছ থেকে ধান ও মিলারের কাছ থেকে চাল কিনে খাদ্য বিভাগ। তবে ধান কাটার পরপরই কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে নেয় মিল মালিকেরা। সেই ধান মিলিং করে সরকার ও ভোক্তাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করছেন মিলাররা। এক মাসের ব্যবধানে তিন দফায় চালের দাম বস্তাপ্রতি সাড়ে তিনশ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

The Post Viewed By: 62 People

সম্পর্কিত পোস্ট