চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১

১৬ মে, ২০১৯ | ৩:০১ পূর্বাহ্ণ

আল আকসা, জেরুজালেম

আল আকসা বা মসজিদুল আকসা হচ্ছে ইসলামের প্রথম কেবলা। এটি বায়তুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচিত। পবিত্র কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর নির্মিত হয় আল আকসা। মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় পবিত্র স্থান বলা হয় এই মসজিদকেই। ১৯৮১ সালে একে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। পবিত্র আল কুরআনে অনেক পবিত্র স্থানের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম এই আল মসজিদুল আকসা। মসজিদটি অবস্থিত ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে। মসজিদুল আকসা অর্থ ‘দূরবর্তী মসজিদ’। ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী মুহাম্মদ (সা.) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল আকসা মসজিদে এসেছিলেন।
প্রথম কিবলা : ইসলামে আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। প্রথম দিকে মুসলমানরা এই স্থানকে কিবলা হিসেবে ব্যবহার করত। হিজরতের পরে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরিবর্তে কাবা হয়ে যায় নতুন কিবলা।
নির্মাণ ও সংস্কার : এ মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। হজরত ইবরাহিম (আ.) র্কর্তৃক কাবাগৃহ নির্মাণের ৪০ বছর পর হজরত ইয়াকুব (আ.) এই মসজিদ নির্মাণ করেন। এরপর খ্রিস্টপূর্ব ১০০৪ সালে হজরত সোলায়মান (আ.) এই মসজিদটি পুননির্মাণ করেন। বিভিন্ন শাসকের সময় মসজিদে অতিরিক্ত অংশ যোগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গম্বুজ, আঙিনা, মিম্বর, মেহরাব ও অভ্যন্তরীণ কাঠামো।
৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে সমগ্র বায়তুল মোকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের দখলে আসার পর মুসলমান শাসকরা কয়েকবার এ মসজিদের সংস্কার করেন। কিন্তু ১০৯৬ সালে খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা ফিলিস্তিন দখল করে নেওয়ার পর আল আকসা মসজিদের ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গির্জায় পরিণত করে। তারা মসজিদের গম্বুজের ওপরে ক্রুশ স্থাপন করে এর নাম রাখে- ‘সুলাইমানি উপাসনালয়।’ এরপর নানা সময়ে হয়েছে সংস্কার ও পরিবর্তন। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে বিশ শতকের প্রথম সংস্কার সাধিত হয়। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে এক বার এই মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও ঘটনা ঘটে।
স্থাপত্য : এটির সঙ্গে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা। এটি ডোম অব দ্য রক বলেও পরিচিত। এখানে অবস্থিত সাখরা নামক পাথরের কারণে স্থানটি ধর্মীয় দিক দিয়ে গুরুত্ববহ। কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনা অবস্থিত একই প্রাঙ্গণে। স্থাপনাগুলোসহ এই পুরো স্থানটিকে বলা হয় হারাম আল শরিফ। শুধু মুসলিম কেন ইহুদি ধর্মে এই স্থানটিকে পবিত্র বলে উল্লেখ রয়েছে। এ স্থানটিকে তাদের কাছে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলে পরিচিত।
এই মসজিদ এবং তার আশপাশের এলাকা বহু নবীর স্মৃতিবিজড়িত। এ পবিত্র নাম শুধু একটি স্থানের সঙ্গে জড়িত নয় বরং এ নাম সব মুসলমানের ইমান ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আয়তাকার আল-আকসা মসজিদ ও এর পরিপার্শ্ব মিলিয়ে আকার ১,৪৪,০০০ বর্গমিটার তবে শুধু মসজিদের আকার প্রায় ৩৫,০০০ বর্গমিটার। এখানে এক সঙ্গে ৫,০০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 488 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট