চট্টগ্রাম রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ | ১:১১ পূর্বাহ্ন

তারেক জুয়েল

কালের ক্ষণজন্মা

কালিদার সাথে কিছু সময়

অপু আপা, আমার সেজ বোনের বান্ধবী, পৃথিবীতে হাতেগোণা যে ক’জন মানুষ আছেন যারা আমার সব কাজে মুগ্ধ হয়, অপু আপা তাদের মধ্যে অন্যতম। একদিন আমার বাসায় এসে দেয়ালে ঝোলানো পেইন্টিংগুলো দেখে বললেন- ‘তোমার কাছে কালিদাসের পেইন্টিং নেই?’ আমি তখন সবে মাত্র এক্রিলিক, ওয়াটার কালার, পেন্সিল ড্রইং, প্রিন্ট এসবের মানে শিখতে চেষ্টা করছি। ‘কালিদাস’ নামটা শুনেই কেমন যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি হলো। নামটার মধ্যে একটা ভারিক্কী ছিল। অনেকটা ‘জীবনানন্দ দাশ’ নামটার মতো, যে নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর কর্মের বিশালতা। কালিদাসের নামটা ঐদিনই প্রথম শোনা।

‘না, নেই আপা।’
‘নাহ্, তোমার কালিদাসের একটা পেইন্টিং থাকা উচিত।’
আমি ব্যক্তিগতভাবে পেইন্টিং এরচে আর্টিস্টদের সাথে পরিচিত হতে বেশী পছন্দ করি। ক্যানভাসে একজন আর্টিস্ট একটা বিশেষ ক্ষণ অথবা মুহূর্ত কিংবা তার বিশেষ কোন আবেগকে ধরে রাখে। একটা পেইন্টিং দেখে একটা আর্টিস্টকে আর কতোটুকুই বা চেনা যায়? কালিদাসের নামটা তখন থেকেই মনে গেঁথে যায়। পেইন্টিং নয়, মানুষটাকে চিনতে হবে।

২০১৬। এক দুপুরে খবর পেলাম কালিদাস এসেছেন নদীর ওপারে কোরিয়ান ইপিজেডে একটা আর্ট ক্যা¤েপ। ঐ দিনই শেষ দিন, বিকেলে চলে যাবেন। আমি তখন শহরের অন্য মাথায়। পাগলের মত গাড়ি চালিয়ে চলে যাই। সত্যি বলি ঐ দিনের আগ পর্যন্ত আমি কালিদাসকে কখনও দেখিনি, এমন কি ছবিও না। কোরিয়ান ইপিজেডে আর্ট ক্যা¤েপ পৌঁছে একজনকে জিজ্ঞেস করি, ‘কালিদাস কোন জন?’ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। মনে মনে ভেবেছিলাম কালিদাস হবেন একজন বয়সের ভারে ন্যুব্জ যাওয়া মাথাভর্তি সাদা চুলের একজন আর্টিস্ট যার কিনা অন্য একজনের সাহায্য নিয়ে চলতে হয়। বরং যাকে দেখিয়ে দিলেন তার বয়স ৫০-এর উপরে নয়, নিজস্ব স্টাইলের পরনের কাপড়, মাথায় অন্য ধরনের টুপি, গলায় মালা, হাতে পুঁতির ব্রেসলেট পরা শক্তসামর্থ্য কালিদাসকে যে কোনো তরুণ ঈর্ষা করবে। পরে জেনেছিলাম ওনার বয়স তখন ছিল ৭০।
আমি অনেক দিনের পরিচিত এমন ভাব করে কাছে গিয়ে খুব কনফিডেন্টলি বললাম, ‘কালি দা কেমন আছেন? কেমন হলো কাজ?’ কালিদাও আমার পরিচয়-টরিচয় নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি না করে বেশ পরিচিতভাবেই বললেন, ‘আজকের কাজটা বেশ হয়েছে জায়গাটা সুন্দর।’ এরপর আরও কথা হলো। কার্ড দিলেন। কথার ফাঁকে কাগজ আর কলম এগিয়ে দিয়ে-‘দাদা একটা অটোগ্রাফ।’-‘অবশ্যই,’ বলে একটা ছবি এঁকে দিয়ে নিচে নাম লিখলেন
“কালি”। কলমটা ছিল আমার মেয়ের। ছবি আঁকার। কালিদা কলমটা ফেরত দেবার সময় প্রশংসা করে বললেন, ‘কলমটাতো বেশ।’ বললাম, ‘দাদা রেখে দিন।’ তখন ‘আচ্ছা ধন্যবাদ’ বলে চলে গেলেন। আমিও চলে আসার জন্য যখন ফিরে আসবো তখন দেখি কালিদা আবার ফিরে আসছেন। কাছে এসে বললেন, ‘আপনাকে আরেকটা ছবি এঁকে দেই?’ ‘অবশ্যই দাদা, না বলার মতো পাগলতো এখনও হইনি।’ উনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে আরেকটা ছবি এঁকে দিয়ে আবার দেখা হবে বলে চলে গেলেন।
আমি কালিদার চলে যাওয়া দেখছিলাম আর ভাবছিলাম, কি অদ্ভুত একজন মানুষ। দ্বিতীয় ছবিটা তিনি কোনো ঝোঁকের মাথায় অথবা আমাকে পছন্দ করে এঁকে দেন নি। তিনি আসলে কলমটার দাম চুকিয়ে গেলেন। কোন ঋণ রাখলেন না। মানুষটার প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়ে যায়। শেখার অনেক কিছু আছে।

২০১৭। এক বিকেলে অফিসে কাজ করছি। ছোট ভাই সৌরভের ফোন। সৌরভ আছে ঢাকার কসমস আর্ট গ্যালারির এক্সিকিউটিভ আর্টিস্টিক ম্যানেজার হিসেবে। ‘তারেক ভাই আমরা আসছি চট্টগ্রাম। এখন ঢাকা এয়ারপোর্ট। একটু পরই ফ্লাইট।’ ‘আসো। ফ্রি থাকলে দেখা হবে।’ আমার নির্লিপ্ত উত্তর। সৌরভ এবার বললো, ‘আমাদের সাথে কালিদাও আসছে।’ কালিদা আসছে শুনেই আমার গলার টোন পুরো চেঞ্জ। ‘তোমাদের এ্যারাইভাল কখন? কে যাবে এয়ারপোর্টে তোমাদের আনতে? আমি আসছি তোমাদের নিতে।’
ঘণ্টা দুই পর এয়ারপোর্ট থেকে আমি ফিরছি, পাশে বসা বাংলাদেশের বিখ্যাত আর্টিস্ট কালিদাস কর্মকার। ৭১ বছর বয়সের এক প্রাণবন্ত মানুষ। কালিদাকে পাশে পেয়ে অনর্গল কথা বলছি, কালিদাও বলছেন, উত্তর দিচ্ছেন। জানতে চাইলাম-‘এ বয়সে আপনি এখনও কেম্নে এতো ফিট আছেন দাদা?’ বললেন, ‘তিনটা জিনিস ফলো করবে, তারেক-

– এক্সার্সাইজ
– পজিটিভ থিংকিং, আর
– আবেগীয় প্রেম।’
প্রথম দুটো জানা। মাঝে মাঝে এদিক ওদিক মোটিভেশনাল স্পিচ দিতে হয়। আবেগীয় প্রেম কথাটা শুনে কালিদার দিকে তাকাতেই যেন মনের ভাষা পড়তে পারলেন। ‘আবেগীয় প্রেম হলো আসল, সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে প্রেমের বিকল্প নেই’ কালিদা বললেন। শুনে আমি মুচকি হাসি দিই এমনভাবে যেন আমি গুরুর কাছ থেকে প্রেম করার লাইসেন্স পেয়ে গেলাম। কালিদা এবারও মনের কথা বুঝে দুষ্টু হাসি হেসে বলেন-‘তারেক, এ প্রেম হতে হবে শুধু বৈধ স¤পর্কের মধ্যে। অবৈধ প্রেম আবেগী হলেও লাভ হবে না। ওটা পাপ।’

তারপর দিন রাতে কালিদাকে বাসায় ডিনারের দাওয়াত দিই। লাল রঙের ফতুয়া, মাথায় সেই নিজস্ব টুপি পরে এলেন দাদা। আমার বাসায় আমার যে ক’টা পেইন্টিং ছিল সবগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছিলেন আর ভূয়সী প্রশংসা করছিলেন তখন বুঝলাম মানুষটার কাছে কোনো আর্টই ছোট না, সে যারই হোক। তাঁর মন যেন রঙ তুলি আর ক্যানভাসে বানানো। এর বাইরে আর কোন জগৎ তার জানা ছিলো না! ঐদিন অনেকটা আশির্বাদের সুরে বলেছিলেন, ‘তারেক আপনার একদিন অনেক বড় কালেকশান হবে।’ দাদা সবাইকে, যারা আঁকে অথবা যারা আর্ট পছন্দ করেন, সবাই কে তিনি উৎসাহ দিতেন। বাংলাদেশের চিত্রকর্ম শিল্পের বিস্তারে এই লোকের অবদান অস্বীকার করা যাবে না।
সেদিন অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা হলো। দাদার জীবনের গল্প হলো, স্ত্রীবিয়োগে তার ছোট মেয়েটাকে বড় করেছিলেন মাদার তেরেসা। রাঙামাটি তার অনেক প্রিয় একটা জায়গা। একসময় কর্মস্থল ছিলো। ডিনার শেষে দাদার সাথে আড্ডা মেরে কথা শেষ হয়নি। মনে হয় এ মানুষটার সাথে আরো যত সময় কাটাতে পারব ততই অনেক কিছু শিখতে পারব। জানবো তার বৈচিত্র্যময় জীবনের কথা। তাই ঐ সময়ই দাদাকে পরের দিন সকালে নাস্তার দাওয়াত দিয়ে দিই। ইতিহাস সাক্ষী, আমার স্ত্রী আমার কোনকথায় একবারে কখনোই রাজি হয় নি। রাত ১২টার সময় যদি বলি দাদাকে কাল সকালে নাস্তার দাওয়াত দিয়েছি, স্ত্রী স্বাভাবিকভাব রেগে উঠবে। নির্ঘাত বলবে, ‘এত অল্প সময়ে আমি মেহমানদের জন্য নাস্তা কিভাবে রেডি করবো? পাউরুটি আর মাখন খাওয়াবো নাকি?’ কিন্তু গিন্নিকে বলতেই ও অবাক করে বললো, ‘ভালোই হবে, আসতে বলো, আমি খুব ভোরে উঠে সব রেডি করে ফেলবো।’ বুঝতে পারলাম, আমার গিন্নিও দাদার ভক্ত হয়ে গেছে। সেরাতে বাকি কথা রেখে দেই তারপর দিন সকালের জন্য।

বাতাসে তখন হালকা শীতের আমেজ। পরদিন সকালে দাদা আবার এলেন আমাদের সাথে ব্রেকফাস্ট করবেন। ব্রেকফাস্টের পর বারান্দায় বসে এবার কালিদা বলছিলেন তার জীবনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা। বিশ্ব-ভ্রমণে বের হবেন। কোন দেশে যাবেন, কী করবেন এসব। হঠাৎ সৌরভকে বললেন, ‘আমাকে রঙ তুলি আর কাগজ দাও। ছবি আঁকবো।’ বারান্দায় এক কোণায় গিয়ে অল্প সময়ে অপরূপ ছবি এঁকে ফেললেন। আমি পাশে দাঁড়িয়ে পুরোটা ভিডিও করি। এক লিজেন্ডের ছবি আঁকা দেখছি। তুলির প্রতিটা স্ট্রোক অব্যর্থ, নিখুঁত, নির্ভুল। আঁকা শেষে ছবিটা আমার হাতে দিয়ে বললো,’ ‘এটা তোমার পরিবারের জন্য আমার উপহার। নেক্সট টাইম আসলে যেন তোমার বাসার দেয়ালে দেখতে পাই।’

২০১৮। কালিদা, আমি, আমার পরিবার, সৌরভ আর বিশ্বজিৎ গোস্বামী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রভাষক), বৌদি, মেয়ে বারিষ, রিপন ভাই সবাই এলেন চট্টগ্রাম। এবার আমরা যাবো রাঙামাটি। পুরা একটা পাগলা ট্রিপ হবে। মানুষের মুখে শোনা কালিদা যেখানেই যায় সেখানের মধ্যমণি হয়ে যান। তার ব্যক্তিত্ব কিংবা পাগলামি, সবকিছুই নাকি উপভোগ্য।
অরণ্যক গেস্টহাউজে আমরা উঠেছিলাম। সামনেই লেক। বিকেলে সবাই গেলাম লেকের ঘাটে। কালিদা গিয়েই বললেন, ‘আমি সাঁতরাতে চাই।’-‘এখানে সাঁতরানো মানা। খালি রাইডগুলো ট্রাই করতে পারবেন।’ কালি দা একটা কায়াক নিয়ে সৌরভ কে সাথে করে বৈঠা মারা শুরু করলেন। ৭২বছর বয়সি কালিদা ছিল ফুল অফ এনার্জি। ক্লান্তি নেই। প্রায় ঘণ্টা খানেক রাঙামাটির লেকে কায়াকিং করে ফিরে এলেন। ফিরে এসে কায়াক ভিড়িয়ে যখন কালিদা ঘাটে উঠছিলেন তখন পা পিছলে হঠাৎ লেকে পড়ে যান। লেকের পানিতে পড়েই তিনি সাঁতরাতে শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ সাঁতরে তিনি পাড়ে ওঠেন। আমি তো প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সত্যি সত্যি পানিতে পড়ে গেল কিনা। কালিদা বুঝতে পেরেছিলেন, তাই কাছে এসে আস্তে আস্তে বললেন, ‘তারেক ইচ্ছে করে আমি পানিতে পড়েছি। খুব সাঁতরাতে চাচ্ছিলাম, আমি মনের কোন ইচ্ছে অপূর্ণ রাখি না। যখন যেটা ইচ্ছে হয় করে ফেলি। কি দরকার উইশ লিস্ট লম্বা করে। পরে লিস্টটা এত লম্বা হবে কিন্তু সময় পাব না।’
রাতে অরণ্যকের ডাইনিং রুমে সবাই খাচ্ছিলাম। আলাদা একটা টেবিলে বসেছিল আমাদের একটা গাড়ির ড্রাইভার। কালিদা খাবার সময় দুবার উঠে গেছেন শুধু ড্রাইভারটা ঠিক মত খাচ্ছে কিনা দেখার জন্য।
রাঙামাটিতে দুদিনের ট্রিপে, পরের দিন গেলাম বোট নিয়ে শুভলং। বোটে উঠে কালিদা একটা ছবি আঁকলেন হাত দিয়ে, তুলি ছাড়াই। তারপর পুরোটা পথ তিনি মাতিয়ে রাখলেন ।

শুভলং থেকে ফেরার পথে আইল্যান্ডের মতো জায়াগায় যেখানে কিছু জেলেরা মাছ ধরছিলো ঐখানে কালিদা বললেন,‘বোট থামাও।’ বোট থামলো। সবাই নেমে গেলাম ছোট্ট আইল্যান্ডটাতে। জেলেরা তখন জাল টানছিল। আমরা সবাই পিছে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম জেলেদের জাল টানা। হঠাৎ দেখি উল্টো দিক থেকে একটা মানুষ সাঁতরে আসছেন জেলেদের নৌকার দিকে। এর মধ্যে কালিদা লেকে নেমে যে সাঁতরানো শুরু করেছেন তা টেরই পাইনি। অনেকটা পথ সাঁতরে কালিদা জেলেদের নৌকায় উঠে আমাদের সবাইকে ডেকে বললেন, ‘সবাই নাম পানিতে। এক সাথে সাঁতরাবো।’
চট্টগ্রামের ছেলে আমি। কাপ্তাই, রাঙামাটি আমি কয়েকশোবার গেছি বেড়াতে কিন্তু কোনদিনই লেকে নামা হয়নি। একটু ইতস্তত করছিলাম। এর মধ্যে আমার মেয়ে বলছিল-“বাবা কালি আঙ্কেল কে দেখেছো? এই বয়সেও কি প্রাণবন্ত, যখন যেটা মনে চাইছে করছেন, লেকে সাঁতরাচ্ছেন, মাশাআল্লাহ্ কি ফিট উনি।” মেয়ের কথা শুনে নিজেকে নিজের কাছে একটু কেমন কেমন যেন লাগে। কালিদারচে বয়সে ৩০ বছরের ছোট হলেও মনশক্তিতে কিংবা জীবনের ক্ষণগুলো উপভোগের ব্যাপারে নিজেকে মনে হচ্ছিল প্রায় ৯০ বছরের বুড়ো। আমি নিজে এত বছর এতবার রাঙামাটি বেড়াতে এসেও কখনও লেকের পানিতে পা পর্যস্ত ভেজাই নি, সাঁতরানো তো দূরের কথা। আর কালিদা ৭২ বছর বয়সে কি সুন্দর সাঁতরে যাচ্ছেন। কালিদার সাঁতরানো দেখে আমরা সবাই নেমে পড়ি লেকের পানিতে। এ প্রথম লেকে নামা।

সেদিন সন্ধ্যায় ফিরে এলাম চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম পৌঁছে আমার বাসায় রাতে খেয়ে আবারও ছবি আঁকলেন। রাতে হোটেলে পৌঁছে দিই। তারপর দিন সকালের ট্রেনে কালিদারা চলে যান ঢাকা।
২০১৯ শুক্রবার, অক্টোবরের ১৮ তারিখ। গ্রামের বাড়িতে মা’র কবর জিয়ারত করে ফিরছি। মোবাইলে ফোন এল সৌরভের। ওর ফোন দেখে ভালোই লাগল, ছেলেটা মজা করে কথা বলতে পারে। আড্ডা জমে ওর সাথে। ভাবলাম, ওর সাথে কথা বলে সময়টা কাটবে। ফোনটা ধরতেই বললো-‘তারেক ভাই কালিদা নেই।’ প্রথমে আমার বিশ্বাস হয় না। জিজ্ঞেস করি, ‘মানে কি?’ ‘ঘণ্টা খানেক আগে কালিদা চলে গেছেন।’ একটা মানুষ এভাবে হঠাৎ করে কি চলে যেতে পারে? ফোন রেখে ড্রাইভারকে গাড়ির এসিটা বন্ধ করে দিতে বলি। দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আয়নাটা নামিয়ে দিই। বাইরের বাতাসটা মুখে লাগাই। মন মানতেই চায় না কালিদা আর নেই। চোখের কোণে অল্প অল্প জল জমছিলো, ধেয়ে আসা বাতাসগুলো চেষ্টা করছিলো শুকিয়ে দিতে। ক্রমাগত জলের ধারার সাথে পেরে উঠছিলো না।

কালিদা, যিনি কোন ঋণ রেখে যান নি কারো কাছে, এমনকি নিজের জীবনের কাছেও না। চলে গেলেন রাজার মতো, আমাদের ঋণী রেখে।
ওপারে ভালো থেকো প্রিয় “কালিদা”

কালিদাস কর্মকার
১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত ফরিদপুরে তাঁর জন্ম হয়। ৭৩ বৎসর বয়সে ২০১৯ এর ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিজ বাসগৃহে পরলোকগমন করেন।
বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী যিনি নিরীক্ষাধর্মীতার জন্য বিখ্যাত। পলিমাটির এই দেশ তার চিন্তায় মিশে ছিল সব সময় তাইশিল্পীর সব প্রদর্শনীর সঙ্গে “পাললিক” শব্দটি জড়িয়ে থাকত।
জীবদ্দশায় তিনি ২০১৫ সালে সুলতান স্বর্ণপদর্ক, ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক এবং ২০১৮ সালে একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

The Post Viewed By: 169 People

সম্পর্কিত পোস্ট