চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১ নভেম্বর, ২০১৯ | ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

মিন্টু চৌধুরী

সমাজতন্ত্রের স্বাপ্নিক অনুপম সেন

‘সমাজতন্ত্রের স্বাপ্নিক’ অধ্যাপক ড. অনুপম সেন সাম্যের বাংলাদেশ দেখে যেতে চান, যেখানে মানুষকে মানুষের মর্যাদা দেয়া হবে এবং মানুষ তার জীবসত্ত্বাকে অতিক্রম করে মানবিক সত্ত্বাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

১৯৪০ সালের ৫ অগাস্ট চট্টগ্রামের আইস ফ্যাক্টরি রোডে জন্ম নেয়া অধ্যাপক অনুপম সেন নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবেই দেখতে পছন্দ করেন এবং শিক্ষক হওয়াকেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন।
জীবনে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কোন আফসোস না থাকলেও সাম্যের বাংলাদেশ দেখতে না পারাটা তার জন্য হতাশার। অধ্যাপক অনুপম সেনকে এ উপমহাদেশের অন্যতম শীর্ষ সমাজবিজ্ঞানী হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

শিক্ষায় একুশে পদকজয়ী শিক্ষাবিদ-সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন গত ২০১৫ সালের ৩ অগাস্ট চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ির ভিআইপি টাওয়ারে নিজ বাসায় আলাপচারিতায় বরেণ্য এ শিক্ষাবিদ তুলে ধরেন তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের চাওয়া-পাওয়া এবং অনুভূতির বিভিন্ন দিক।

একইসাথে তিনি তার স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের ভূমিকা ও করণীয় নিয়েও কথা বলেন।
১৯৬৫ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে শিক্ষকতা শুরু করা অধ্যাপক অনুপম সেন এখনো এই পেশার সাথে যুক্ত। ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেয়ার পরও পালন করছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব।

বড় প্রাপ্তি আমি একজন শিক্ষক
প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা জীবনে অনেককে পড়িয়েছেন। তার অনেক ছাত্র দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত।
অধ্যাপক অনুপম সেন বলেন, ‘‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড়প্রাাপ্তি আমি একজন শিক্ষক। আমি শিক্ষকই হতে চেয়েছি। প্রায় ৫০ বছরের শিক্ষকতাজীবনে ছাত্র-সহকর্মীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি তার কোন তুলনা নেই।’’
তার মতে, মানুষকে মানুষের মর্যাদা দেয়ার মধ্যেই সার্বিক কল্যাণ নিহিত। শিক্ষকতা পেশার মধ্যেই তা সম্ভব।

আমি আগাগোড়াই সমাজতন্ত্রী
অধ্যাপক অনুপম সেন নিজে সমাজতত্ত্বের ছাত্র, পরে হয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষকতার পাশাপাশি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশকে, করেছেন গবেষণাও।
তিনি এখনো নিজেকে সমাজতন্ত্রের স্বাপ্নিক মনে করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি আগাগোড়াই সমাজতন্ত্রী। সাম্যের বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি এখনো দেখি।’’
‘‘ভেবেছিলাম স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে যথার্থ অর্থে একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ হবে। আমি ভেবেছিলাম বিশ্বের অসাম্যটা কমবে। কিন্তু তা হয়নি।’

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ
অধ্যাপক সেন বলেন, আমি একটা সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ চেয়েছি। যেখানে প্রতিটি মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, বিনোদন, অবসর ও সংস্কৃতির অধিকার পাবে। যেখানে স্টেশন-বস্তিতে জন্ম নেয়া শিশু বঞ্চনা নিয়ে বড় হবে না। যেখানে সে এগুলোকে রাষ্ট্র প্রদত্ত মৌলিক অধিকার হিসেবে পাবে।
‘‘আমি সেই বাংলাদেশ চাই না যেখানে কিছু লোক বিত্ত শক্তির দম্ভে অন্যদের প্রতি ভৃত্যতুল্য আচরণ করবে, অন্যদের মানবতাকে অপমান করবে। দেশের প্রতিটি মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিতে হবে। কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে।’’

সাম্যের বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে
তার স্বপ্ন সাম্যের বাংলাদেশ। সেই সাম্যের বাংলাদেশ এখনো অনেক দূরের বলে তার উপলব্ধি।
তিনি বলেন, বিশ্বের অর্ধেক লোকের সম্পদের সমান সম্পদ মাত্র ৮৫ জন লোকের হাতে পুঞ্জীভূত রয়েছে। এর চেয়ে বড় অসাম্য আর কি হতে পারে। বিশ্বে এখনো দেড়শ কোটি লোকের দৈনিক আয় দেড় ডলারের নিচে। তাদের অনেকেই একবেলা খেয়ে ঘুমাতে যায়। এদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
‘‘বাংলাদেশে গত এক দশকে আয় বাড়লেও এই বৃদ্ধিতে কিছু সংখ্যক লোকের হাতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে। এখনো ২৪ শতাংশের মতো লোক দুবেলা ঠিকমতো খেতে পায় না। বঙ্গবন্ধু যে আদর্শ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সমাজতন্ত্রের আদর্শের কথা বলেছিলেন, সাম্যের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আমরা তার থেকে এখনো অনেক দূরে।’’

তবুও আশা
আজকের বিশ্ব অনেক বেশি সজাগ মনে করলেও অনুপম সেন বলেন, এখনো সম্পদের শক্তি, ধর্মান্ধতার শক্তি, কুসংস্কারের শক্তি সম্পূর্ণভাবে পদানত হয়নি। তবে সারাবিশ্বে এসবের পরাজয়ের সূচনা দেখতে পাচ্ছি। একসাথে আমাদের দেশেও।
তবে এর জন্য অবশ্যই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকসময় এ অন্ধকারের শক্তি জনগণের নিষ্ক্রিয়তার কারণে দীর্ঘকাল ধরে শাসন শোষণ করে গেছে। তবে বর্তমান সময়ে এসে এভাবে আর পারা সম্ভব হবে না।
তিনি দিকে দিকে মানুষের জাগার লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন মন্তব্য করে বলেন, দক্ষিণ আমেরিকায় বিভিন্ন দেশে জনগণের শক্তি, সমাজতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় এসেছে, আসছে। আমাদের এখানেও হবে।

পুঁজিবাদ ব্যক্তিস্বার্থকে বেশি মূল্য দেয়
দিন দিন সমাজে মানুষের এককেন্দ্রিক চিন্তা বাড়তে থাকা নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে অনুপম সেন বলেন, বাজার অর্থনীতিতে প্রতিটি ব্যক্তি তার স্বার্থকেই বেশি প্রধান করে দেখে। তারা তাদের অর্থনৈতিক অর্জনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়।
পুঁজিবাদী চিন্তা ‘স্বার্থান্ধ ও এককেন্দ্রিক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা ব্যক্তিস্বার্থকে বেশি প্রধান করে দেখে। এর ফলে মানব সমাজ যে পারস্পরিক কল্যাণের মধ্যে নিহিত তা আধুনিক সমাজে এসে ভুলতে বসেছে। এর ফলেই সমাজে নানা দ্বন্দ্ব।
এ দেশের মানুষ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। সেইজন্যই তারা যেমন আর্দশের জন্য জীবন দেয়। তেমনিভাবে অনেক সময় তাদের ভুল পথে চালিত করাও সহজ হয়। বাঙালির মধ্যে একইভাবে বিরাট আলো ও গভীর অন্ধকার রয়েছে। মহত্ত্বের বোধ ও ধ্বংসের আকাঙ্খাও রয়েছে।
জীবনের নানা পর্যায়ে তিনি শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলনের সাথেও। ছাত্রজীবন থেকে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী আন্দোলন সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন। সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত না থাকলেও তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য।

৪৪ বছরের বাংলাদেশে বড়প্রাপ্তি যুদ্ধাপরাধীর বিচার
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছরে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে চট্টগ্রামের সকল প্রগতিশীল আন্দোলনের একজন প্রত্যক্ষ সংগঠক ও অংশগ্রহণকারী ছিলেন অধ্যাপক অনুপম সেন।
এছাড়া যুদ্ধের সময়ে তিনি প্রবাসী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্ত্রের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেন। স্বাধীন বাংলা বুদ্ধিজীবী সমিতিতেও সম্পৃক্ত ছিলেন।
অধ্যাপক অনুপম সেনের মতে, ‘‘যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছিল তাদের জন্য সবচেয়ে হতাশার কাল ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬। এই সময়কালে স্বাধীনতার যে আদর্শ নিয়ে আমরা গড়ে উঠেছিলাম তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল। এই সময়েই জাতিকে সবচেয়ে বেশি স্বার্থপর ও প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলা হয়। মানুষকে মানুষের মর্যাদা দেয়ার যে শিক্ষা তা ভূলিয়ে দেয়া হয়।’’
‘‘সংবিধান থেকে আর্দশকে সার্বিকভাবে নির্বাসন দিয়ে ব্যক্তির লোভ লালসা ও শক্তির আস্ফালনকে বড় করা হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মকেও সেদিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এ থেকে ফিরিয়ে আনার পথ সৃষ্টি করতে কম কষ্ট হয়নি।’’
অধ্যাপক সেনের মতে, ‘‘১৯৭১ থেকে এই সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। যে নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ নিরীহ লোককে হত্যা করা হয়েছিল তার বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।’’
‘‘বিশাল অন্যায়কে মেনে না নিয়ে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এ সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন। কারণ তা মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিচ্ছে, নির্বিচার হত্যাকে অবমুক্তি দিচ্ছে না।’

‘তরুণ প্রজন্মের প্রতি’
বঞ্চিত জনগণের প্রতি তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল হতে হবে। এদেশ যেন একটি বঞ্চনাহীন সুখী-সমৃদ্ধ দেশ হয়। যেখানে প্রতিটি মানুষ যেন তার ব্যক্তিত্বকে পূর্ণতা দিতে পারে। তরুণরা যেন কোনভাবেই স্বার্থান্ধ না হয়। নিজের উন্নয়নকেই যেন সর্বোচ্চ মূল্য না দেয়।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার জন্য তরুণদের অবশ্যই আমাদের সংবিধানের চার মূল স্তম্ভকে জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

তরুণদের পড়তে হবে
এখনকার তরুণরা পড়ালেখা কম করছেন বলে আফসোস অনুপম সেনের।
তিনি মনে করেন, পরীক্ষার পড়ার বাইরে তারা অনলাইনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এসবের পাশাপাশি তরুণদের বেশি বেশি পড়তে হবে।

অবসর নিয়ে লিখবেন ও পড়বেন
শিক্ষকতা করছেন সেই ১৯৬৫ সাল থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে সমাজতত্ত্বে এমএ পাশ করার পরেই ১৯৬৫ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমান বুয়েট)। পরের বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক এবং ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।
এ সময়ের মধ্যে তিনি বিভাগীয় প্রধান হওয়া ছাড়াও চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, দুই দফা সভাপতি এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিলেও তিনি শিক্ষকতা পেশা ছাড়েননি। একই বছরের ১ অক্টোবর থেকে তিনি চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলে জীবনের বাকি সময় তিনি পড়বেন এবং লিখবেন। অনুপম সেন বলেন, ‘‘অনেক কিছু লেখা ও পড়ার বাকি আছে। সুতরাং লিখব বেশি, পড়ব কম।’’

সবচেয়ে বেশি আনন্দ বই পড়ায়
শিক্ষকতার বাইরে বই পড়া ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেই বেশি পছন্দ করতেন অধ্যাপক অনুপম সেন।
তিনি বলেন, ‘‘বইপড়ার মতো আনন্দ আমি আর কোথাও পাই না।’’
‘‘আগে বন্ধূদের সাথে আড্ডা দিতে ভাল লাগত। তাদের অধিকাংশই এখন ঢাকায় এবং অনেকেই এখন আর নেই। এখন আর সেই আড্ডা নেই।’’
আর তরুণদের সাথে কথা বলেও খূব আনন্দ পান বলে জানান তিনি।

এখন আর গান শোনেন না
১৯৬৬ সালে উমা সেনগুপ্তাকে বিয়ে করেন অধ্যাপক অনুপম সেন। তাদের এক মেয়ে ইন্দ্রানী সেন গুহ থাকেন ঢাকায় স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে।
প্রায় ৪৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে সুখে-দুঃখে কেটেছে তাদের। একসাথে গান শুনতে পছন্দ করতেন। ২০০৯ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে একপ্রকার কোমায় আছেন অনুপম সেনের স্ত্রী উমা সেনগুপ্তা। চট্টগ্রামের ভিআইপি টাওয়ারের বাসায় একজন সেবিকার তত্ত্বাবধানেই চলে তার চিকিৎসা। অধ্যাপক সেনও এই বয়সে তার দীর্ঘজীবনের সঙ্গীর চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করেন নিয়মিত।
তিনি বলেন, আগে খুব গান শুনতাম। আমার স্ত্রীর সাথেই ঘরে শোনা হতো বেশি।
‘‘সে অসুস্থ হয়ে যাবার পর থেকে আর তেমনভাবে গান শোনা হয় না।’’

৭৫ বছরের জীবনে কোন আফসোস নেই
পচাঁত্তর বছর বয়সে এসে নিজের কোন আফসোস সেই বলে মনে করেন অধ্যাপক অনুপম সেন। তিনি যা হতে চেয়েছেন তা হয়েছেন। অনেক স্বপ্নই হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু তা নিয়ে তার কোন আফসোস সেই।
তিনি বলেন, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষক-ছাত্র-সহকর্মী এবং বিভিন্ন সময়ে নানা মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি।
অনুপম সেন বলেন, ‘‘কোন কিছুর জন্য কখনো আমার আফসোস হয় না।’’
১৯৪০ সালের ৫ অগাস্ট আইস ফ্যাক্টরি রোডে জন্ম নেয়া অনুপম সেনের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে। বীরেন্দ্র লাল সেন ও ¯েœহলতা সেনের পুত্র অনুপমের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ধলঘাট ইংলিশ হাই স্কুলে (বর্তমান ধলঘাট হাই স্কুল)। এরপর তিনি কলকাতার সেন্ট ক্যাথিড্রাল মিশনারি স্কুলেও পড়েন।
১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন এবং ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজতত্ত্বের সম্মান কোর্সে ভর্তি হন।
ঢাবি থেকে ১৯৬৩ সালে এমএ পাশ করার পর ১৯৬৫ সালে তিনি তৎকালীন বুয়েটে সমাজতত্ত্ব ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতায় যুক্ত হন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুনরায় এমএ এবং পিএইচডি করেন। তার অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল: ‘দি স্টেট ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন অ্যান্ড ক্লাশ ফরমেশন ইন ইন্ডিয়া’।
১৯৮২ সালে প্রকাশিত এই বইটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বহুদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো এবং রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

‘প্রকাশিত হয়েছে ১৪ বই’
২০১৪ সালে শিক্ষায় একুশে পদকজয়ী এ সমাজবিজ্ঞানীর এ পর্যন্ত ১৪ টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হল- দি স্টেট ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন অ্যান্ড ক্লাশ ফরমেশন ইন ইন্ডিয়া; পলিটিক্যাল এলিটস অব পাকিস্তান অ্যান্ড আদার সোসিওলজিক্যাল এসেস; বাংলাদেশ: রাষ্ট্র ও সমাজ (সামাজিক অর্থনীতির স্বরূপ); বাংলাদেশ ও বাঙালি রেনেসাঁস: স্বাধীনতা চিন্তা ও আত্ম অনুসন্ধান; বিলাসিত শব্দগুচ্ছ: প্রতীচী ও প্রাচ্যের কয়েকটি কালজয়ী কবিতার অনুবাদ; সমাজ, সংস্কৃতি, সাহিত্য: নানা কথার নানা ভাবনা নানা অর্ঘ্য; দি পলিটিক্যাল ইকোনমি অব বাংলাদেশ।
সোস্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যান্ড সোশ্যাল ক্যারেক্টার অব বাংলাদেশ ন্যাশনালিজম; আদিঅন্ত বাঙালি: বাঙালি সত্ত্বার ভূত ভবিষ্যৎ; কবি সমালোচক শশাংক মোহন সেন: বাংলা তুলনামূলক সমালোচনা সাহিত্যের নির্মাতা; সুন্দরের বিচার সভাতে (কবিতার বই); সাতটি বক্তৃতা (বিভিন্ন স্মারক বক্তৃতার সংলন); জীবনের পথে প্রান্তরে এবং বাংলাদেশ ভাবাদর্শগত ভিত্তি ও মুক্তির পথ।

The Post Viewed By: 124 People

সম্পর্কিত পোস্ট