চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

২৬ এপ্রিল, ২০২২ | ৫:৩০ অপরাহ্ণ

গৃহশিক্ষকের সম্মানী

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি প্রচুর টিউশনি করেছি। ওটা দিয়েই মূলত নিজের খরচ চালিয়েছি। বাবা রিটায়ার করায় তাঁর কাছ থেকে টাকা নিতে খুব খারাপ লাগতো। আমার মনে পড়ছে, ভার্সিটি থেকে প্রায় না খেয়ে ট্রেন ধরতাম টিউশনির জন্য। আমার পেটে আগুন জ্বলতো খিদায়। তাই আমি টিউশনির বেতন না পাওয়ার কষ্ট বুঝি। আমি খুব বুঝতে পারি, প্রায় খালি পেটে বাচ্চা পড়ানোর সময় পেট কীভাবে মোচড় দেয়।

কথা যেহেতু আসলো, একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।
আমি এক সময় জনপ্রিয় গায়ক শ্রদ্ধেয় নাসিম আলীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে পড়াতাম। সে পড়তো ইংলিশ মিডিয়ামে। তাই জুন মাসে প্রায় দুই মাসের জন্য স্কুল বন্ধ হয়ে যেতো। পড়াশুনাও। কারণ বার্ষিক পরীক্ষা শেষ।

তো, আমার ছাত্রের স্কুল বন্ধ হয়ে গেলো।
আমি পড়লাম মহা বেকায়দায়। কারণ এই দুই মাস আমার চলবে কীভাবে? চিন্তায় আমি অস্থির। কারণ আমি বাবা থেকে পকেট খরচ জান গেলেও নেবো না। এ টিউশনির টাকাই আমার ভরসা।
খুব মন খারাপ করে দুমাসের জন্য টিউশনি বিরতি দিয়ে যখন চলে আসবো, তখন ভেতর বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলেন ছাত্রের মা। গ্লোরিয়া ভাবি।
তিনি একটি খাম এগিয়ে দিয়ে বললেন, বাদল, ছুটির দুমাসের বেতন।
আমি তো হতবাক!
কোনো রকমে বললাম,ভাবি, আমি তো এ সময় পড়াবোনা—
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি বললেন,।তাতে কী? তাই বলে তো আমার ছেলের প্রতি তোমার শিক্ষকতা তো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না! রাখো তো টাকাটা।

আমার পরিষ্কার মনে আছে, সে বাড়ির সিঁড়ি ভেঙে নেমে আসার সময় আমার চোখে জল ছিল কৃতজ্ঞতার জল।

অভিজ্ঞতাটি লেখলাম যাতে ঈদের আগেই আমরা গৃহশিক্ষকদের সম্মানী দিয়ে দেই।

লেখক: কথাসাহিত্যিক বাদল সৈয়দ 

পূর্বকোণ/এএইচ 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট