চট্টগ্রাম সোমবার, ১৭ মে, ২০২১

সর্বশেষ:

৩০ এপ্রিল, ২০২১ | ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

রায়হান আজাদ 

ঐতিহাসিক বদর দিবস কাফির-মুসলমানের মাঝে প্রথম সম্মুখ সমর

আজ ১৭ রমজান। ঐতিহাসিক বদর দিবস। ৬২৪ সালে ২য় হিজরির এই দিনে মদিনা মুনাওয়ারাহ হতে ৮০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে বদর উপত্যকায় রাসুলে আকরাম (সা.) অধিনায়কত্বে মুসলিম বাহিনী  আর কুখ্যাত কুরাইশ নেতা আবু জেহেলের নেতৃত্বে কাফির বাহিনীর মধ্যে প্রথম সম্মুখ সমর সংগঠিত হয়। আল কুরআনের নির্দেশ,“আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ কর যারা তোমার সাথে যুদ্ধ করে। তবে সীমা লঙ্ঘন করো না।

কারণ আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” এ যুদ্ধে রাসুল (সা.) পক্ষে মদিনার আনসার ও  মক্কার মুহাজিরদের ৩১৩জন বীর মুজাহিদ মক্কার ১০০০ কুরাইশ সৈন্যের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করেন। কাফির বাহিনীর ১০০ অশ্বারোহী ও ৭০০ উষ্টারোহী এবং পর্যাপ্ত রসদপত্র থাকলেও মুসলিম বাহিনীতে মাত্র ২ জন অশ্বারোহী আর বাহন পাওয়া গেল ৭০টি উট। কাফির ও মুসলিম বাহিনীতে এ অসম যুদ্ধে ইসলামের শত্রু কাফির সম্প্রদায়ের শোচনীয় পরাজয় ঘটে।

যুদ্ধে আবু জেহেল, উতবা, শায়বা, ওয়ালিদসহ কাফির সরদাররা নিহত হয়। ৭০ জন কুরাইশ সৈন্য মারা যায় এবং  তাদের আরো ৭০ জন বন্দী হয়। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের পক্ষে মুহাজিরদের ৬ জন এবং আনসারদের ৮জন সর্বমোট ১৪ জন সাহাবি শাহাদাত বরণ করেন। কেউ বন্দী হননি। কাফিরদের মধ্যে যারা বন্দী হয়েছিল তাদের সাথে মহানবী (সা.) যে উদার ও আন্তরিক ব্যবহার করেন তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি চারহাজার দিরহাম মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেন।

এ যুদ্ধে বিজয়ের ফলে ইসলাম একটি আদর্শিক ও  সামরিক শক্তি  হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। শুধু আরবেই নয়, অনারব অঞ্চলেও  মহানবী ও ইসলামের সার্বজনীনতা ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক হিট্টির মতে, “এ সশস্ত্র সম্মুখ যুদ্ধে মুসলমানগণ যে নিয়মানুবর্তিতা ও মৃত্যুর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এতে ইসলামের পরবর্তী বিজয়ের বিশেষ লক্ষণ পরিস্ফুটিত হয়।

বদরের যুদ্ধে মুসলিম বিজয় ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সূচনা করে এবং পরবর্তী একশ বছরের মধ্যে (৬২৪-৭২৪) ইসলাম পশ্চিম আফ্রিকা  থেকে পূর্ব ভারতবর্ষ ও মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে”। আসুন, ঐতিহাসিক বদরের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা অসত্য-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 228 People

সম্পর্কিত পোস্ট