চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১

১৮ এপ্রিল, ২০২১ | ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

রায়হান আজাদ 

রমজান গুনাহগারের জন্য পাপমুক্তির প্রকৃত সময়

ইবাদতের বসন্তকাল নামে খ্যাত মাহে রমজানকে যারা যথাযথ মর্যাদায় বরণ করে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারবে তারাই হবে প্রকৃত সফলকাম। আত্মার পরিশুদ্ধি-পরিতৃপ্তি অর্জনের এক অনন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হচ্ছে মাহে রমজানের এ ‘সিয়াম’। এত সব ফজিলতের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসকে হাদীস শরীফে ‘শাহরুল্লাহ’ তথা আল্লাহর মাস বলে অভিহিত করেছেন।

রমজানুল মোবারক মহাত্ম ও ফজিলতে ভরপুর বরকতময় একটি মাস। ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ রোজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে কুরআন-হাদীসে প্রচুর বর্ণনা পাওয়া যায়। রমজান গুনাহগার মানুষের জন্য পাপমুক্তির প্রকৃত সময়। আত্মশুদ্ধি ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে খোদার দিদার লাভের মহোত্তম উসিলা। রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমায়েছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর একটি প্রবেশদ্বার রয়েছে আর ইবাদতের প্রবেশদ্বার হল সিয়াম’।

মাসব্যাপী রোজা  পালনের ফলে স্বাস্থ্যের বর্জ্য-ময়লা দূর হয়, স্বচ্ছ-সুন্দর হয় দৈনন্দিন জীবন ও রপ্ত হয় শরীর গঠনের বৈজ্ঞানিক নিয়মাবলী। সকল ইবাদতের জন্য একটি সুন্দর মন থাকা দরকার। প্রয়োজন বিনয়-নম্রতা ও একাগ্র অনুভূতির। অবিচল বিশ্বাস ও প্রেম ভালবাসার বাঁধনে আবদ্ধ সকল ইবাদত-বন্দেগি। আর রমজান এসব গুণাবলী বান্দার হৃদয়ে পয়দা করে দেয়। ইবাদত কবুল হওয়ার উপযুক্ত চেতনা ও মানসিকতা সৃষ্টি করে বলে ইহা ইবাদতের ভূমিকা স্বরূপ।

রমজানের ফজিলত ও বরকত বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না । এ মাসের এত সাওয়াব ও নিয়ামত আর কোন মাসে ও কোন বিধানে নেই। রাসূলে আখের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমায়েছেন, “যদি আল্লাহর বান্দাগণ পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত পুরোপুরিভাবে জানতে পারত তাহলে আমার উম্মতগণ আকাক্সক্ষা করতো যে সারা বছর যেন রমজান হয়”। রমজান নেকি অর্জনের প্রতিযোগিতার মাস। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাবার মাস। সকল সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ ও বিনোদন বাদ দিয়ে নিজের গুনাহ মাফের পর তরক্কি হাসিলের মধ্য দিয়ে এ মাস অতিক্রম করা বাঞ্চনীয়।

হযরত নবীয়ে দো জাহান মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নানাভাবে রোজার আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন এবং বুঝিয়েছেন যে, উদ্দেশ্য না জেনে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত সময় কাটানোর মাঝে কোন সার্থকতা নেই। তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করবে না তার শুধু খানাপিনা পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনই প্রয়োজন নেই”।

অন্য হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “অনেক রোজাদার এমন আছে  যে, কেবল ক্ষুধা আর পিপাসা ছাড়া যার ভাগ্যে কিছূই জুটে না। তেমনি রাত্রিতে ইবাদতকারী এমন মানুষও আছে যারা রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছূই লাভ করতে পারে না ”। উল্লেখিত হাদিস দুটি দ্বারা এ কথা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা নিবারণে রোজা হয় না। এটা রোজার অবলম্বন মাত্র। ত্যাগ, নিষ্ঠা, সংযম, সহানুভূতি ও তাকওয়ার যে শিক্ষা রোজা দেয় তা অর্জন ও বাস্তবায়ন করতে না পারলে সে রোজা অন্তঃসারশূন্য থেকে যাবে। তাতে বাহ্যিক রোজা পালন হলেও আল্লাহর কাছে এটি কবুল হবে না।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 215 People

সম্পর্কিত পোস্ট