চট্টগ্রাম বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

৫ মার্চ, ২০২১ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

দান করার বিশেষ কিছু আদব ও নিয়ম

দুনিয়ার প্রত্যেকটি কাজের কিছু নিয়ম বা শিষ্টাচার আছে। দান-সাদকারও বিশেষ কিছু আদব ও নিয়ম আছে। এখানেই ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। দানের সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি।তাহলো-

১. দানের অর্থ পবিত্র বা বৈধ হওয়া আবশ্যক। কেননা হারাম অর্থ সাওয়াবের আশায় দান করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা নিজে পবিত্র, তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া কোনো কিছুই গ্রহণ করেন না।

২. আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় আমল দান করা। এ জন্য অল্প হলেও নিয়মিত দান করা উত্তম।

৩. দানের ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেয়া। কেননা আত্মীয়-স্বজনকে দান করায় রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াবের হাতছানি।

৪. সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা। অল্প দানে লজ্জিত না হওয়া এবং তুচ্ছ মনে না করা।

৫. সাওয়াবের নিয়তে প্রশস্ত ও খুশি মনে দান করা।

৬. শুধু আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য দান করতে হবে। মানুষের প্রশংসা কিংবা বাহবা পাওয়ার আশায় দান করা যাবে না। দানের সঙ্গে দুনিয়াবি কোনো স্বার্থে জড়িত না থাকাই শ্রেয়।

৭. নিকটাত্মীয়দের পরে নিজ বাড়ি সংলগ্ন পাড়া-প্রতিবেশিকে দান করা উত্তম। দান পাওয়ার ক্ষেত্রে পাড়া-প্রতিবেশির অগ্রাধিকার বেশি।
৮. অতঃপর যার অভাব-অনটন বেশি, তাকে দান করা। তবে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি নয়।

৯. গোপনে দান করা উত্তম। দান উদাহরণ এমন হওয়া যে, ডান হাত যা দান করে তা যেন বাম হাতও টের না পায়।
১০. ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে অমুসলিমকে দান করা।
১১. পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তিকে ভালো পথে আনতে দান করা যাবে। যদি পাপাচারী ব্যক্তি দান পেলে অন্যায়-অপরাধ ছেড়ে দেয়।

১২. যদি জানা যায়, যাকে দান করা হবে তার হাতে অর্থ গেলে সে তা হারাম ও গুনাহের কাজে ব্যয় করবে তাহলে তাকে দান করা বৈধ নয়।
১৩. বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের উদ্দেশ্যে কবর, মাজার, গাছ, মন্দির ইত্যাদি স্থানে দান করা বৈধ নয়।
১৪. দান করার দানে খোঁটা দেয়া যাবে না। এটি নিষিদ্ধ কাজ। এতে সাওয়াব নষ্ট হয়ে যায়।
১৫. দান করার পর তা ফিরিয়ে নেয়া হারাম বা নিষিদ্ধ।

১৬. দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে দান করা যাবে। যদি শিরক-কুফর ও বেদাআতি শিক্ষামুক্ত প্রতিষ্ঠান হয়। তাওহিদ ও সুন্নাহ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকে।
১৭. বাবা-মা কিংবা মৃত মুসলিম বা আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকেও দান করা বৈধ। এতে যার উদ্দেশ্যে দান করা হয় তার কবরে দানের সাওয়াব পৌঁছে যায়। এক্ষেত্রে-
‘এমন স্থানে দান করা আবশ্যক। যে দান দীর্ঘস্থায়ী হয়। আর তা উত্তম। যেমন- জায়গা-জমি ওয়াকফ করা, মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণ, টিউবওয়েলের ব্যবস্থা, দরিদ্র দ্বীনি শিক্ষায় খরচ, শিক্ষার্থীদের জন্য বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, পোশাক, বই-পুস্তক ইত্যাদি। কেননা এগুলো সব সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত।’
১৮. অল্প হলেও নিয়মিত সারা বছর দান করা। তবে রমজানে অধিক পরিমাণে দান করা সুন্নত।

১৯. সমাজের অভাবি লোকদের খোঁজ নিয়ে তাদের বাড়িতে দানের সামগ্রী গোপনে পৌঁছে দেয়া উত্তম ও সাওয়াবের কাজ।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1389 People

সম্পর্কিত পোস্ট