চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২১ মে, ২০১৯ | ১:২২ পূর্বাহ্ণ

শারমিন আকতার

গোপাল ভাঁড়ের

কানামাছি ভোঁ-ভোঁ

তোমার নিশ্চয় গোপাল ভাঁড়ের নাম শুনেছো। আমাদের পূর্বপুরুষরা তার নাম শুনে এসেছে। গোপালের কা- দেখে হাসি চাপা রাখা যায় না। গোপাল ভাঁড় নামে কেউ ছিলো কী না তা সঠিক বলা যাবে না। শোনা যায়, কৃষ্ণ নগরের রাজার রাজসভায় ভাঁড় ছিলো গোপাল। রাজাকে শুধু হাসির গল্প শোনাতো না, রাজা বিপদে পড়লে গোপাল বুদ্ধি দিয়ে তাকে রক্ষা করতো। অনেকবার রাজাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে গোপাল। এবার আসা যাক মূল ঘটনায়-
একদিন গোপাল ভাঁড় ও তার বন্ধুর সঙ্গে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ভিন গাঁয়ে যাচ্ছিল। তখন আজকের মতো মসৃণ পিচ ঢালা সড়ক ছিল না। যেতে যেতে দেখতে পেল, একটা মিষ্টির দোকানে থালায় থালায় থরেথরে মিষ্টি সাজানো আছে। মিষ্টি দেখেই দুজনের জিভে পানি এসে গেল।
দুজন পকেট হাতড়িয়ে দেখে, মিষ্টি খাওয়ার মতো পয়সা তাদের পকেটে নেই। কিন্তু মিষ্টি না চেখে চলে যেতে তাদের পা উঠছে না।
তারা দুজনেই লোভ সামলাতে পারল না। সঙ্গে পয়সা না থাকলেও গোপাল ও গোপালের বন্ধু পোশাক-পরিচ্ছদের দিক থেকে বেশ পরিপাটিই ছিল। দেখে দুজনকে বেশ বনেদি পয়সাওয়ালা ঘরের সন্তান মনে হচ্ছিল।
তখন ভরদুপুর। দোকানি ছাড়া আর কেউ ছিল না। গোপাল আর গোপালের বন্ধু আগে থেকে মতলব এঁটে নিয়ে দোকানে ঢুকে পড়ল। দুজনই বেশ পেটপুরে যা ইচ্ছা সব রকম মিষ্টিই খেয়ে নিল। বড়লোক খদ্দের ভেবে দোকানদার একটু একটু করে কৃতার্থের হাসি হাসে।
দোকানদার যখন দাম চাইল তখন গোপাল বলল, ‘আমি দিচ্ছি। কত দাম হয়েছে তোমার?’ গোপালের বন্ধুটি বলল, ‘না, আমি দিচ্ছি, কত দাম বলো।’ দুজনের মধ্যে দাম দেয়া নিয়ে দস্তর মতো রেষারেষি শুরু হয়ে গেল। গোপাল দাম দিতে যায়, তার বন্ধুটি বাধা দেয়।
বন্ধুটি দাম দিতে এগোয়, গোপাল বাধা দেয়। না, তুমি দেবে না, আমি দেব, এই বলে দুজনের মধ্যে কে আগে দেবে, এ মনোভাব যেন। দোকানি এসব দেখে হেসে লুটোপুটি। পরিশেষে গোপাল দোকানিকে বলল, মশায়, আপনার কাঁধের গামছাখানা দিয়ে আপনার চোখ বেঁধে দিচ্ছি। আপনি চোখ বাঁধা অবস্থায় আমাদের দুজনের মধ্যে যাকে প্রথমে এসে ধরবেন, সে-ই খাবারের দাম দেবে। বলুন, রাজি আছেন?
দোকানি গোপালের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল। গোপাল দোকানির কাঁধের গামছাখানা দিয়ে তার চোখ দুটো কষে বেঁধে দিলে। তারপর গোপাল আর গোপালের বন্ধু দোকান থেকে আরো কিছু মিষ্টি নিয়ে তাড়াতাড়ি কেটে পড়ল। দোকানি দুহাতে এদিক-ওদিক করে যেতে লাগল।
বেশ কিছুক্ষণ কানামাছি ভোঁ-ভোঁ খেলা চলার পর গোপালের বন্ধুটি গোপালকে বলল, ‘অনেক দিন পরে বেশ কানামাছি খেললে তো।’
গোপাল বন্ধুর কথা শুনে মুচকি হেসে বলল, আমি আর কানামাছি খেললুম কোথায়? দোকানি ব্যাটা এখনো বোধ হয় খেলছে।
তার পর দুজনে হাসতে হাসতে জোরে জোরে পা চালিয়ে পগারপার! তবে বলে রাখছি বন্ধুরা তোমরা কখনো এরকম করবে না। করলে বিপদ আসন্ন। সেকালে যা সম্ভব একালে তা সম্ভব নয়। দোকানে ক্লোজ ক্যামেরা লাগানো আছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট