চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১১:১৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

দেশে ডায়াবেটিস রোগীর ৩৪ শতাংশ ভোগেন বিষণ্নতায়

দেশে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ১৫ থেকে ৩৪ শতাংশ ব্যক্তি স্বল্প, মধ্যম ও উচ্চমাত্রার বিষণ্নতায় ভোগেন। বহুমাত্রার বিষণ্নতা ডায়াবেটিস রোগীদের অসুস্থতার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর ডায়াবেটিস ও বিষণ্নতা একসঙ্গে রয়েছে-এমন ব্যক্তির আয়ু ২০ বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে বিশেষ থেরাপির মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীর বিষণ্নতা মোকাবিলা করা সম্ভব।

ডায়াবেটিস ও বিষণ্নতা নিয়ে বুধবার ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বাডাস) আয়োজিত এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মালটিপারপাস হলে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিষণ্নতার ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে অবহিত হতে হবে। চিকিৎসা নিতে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় বিষণ্নতা ও ডায়াবেটিস শনাক্ত ব্যক্তিদের জন্য আচরণগত সক্রিয়করণ পদ্ধতির বিকাশ ও মূল্যায়ন’ শিরোনামের চলমান গবেষণা প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণাভিত্তিক এ প্রকল্পটিকে সংক্ষেপে ডায়াডেম বলা হয়। প্রকল্পটি আচরণগত সক্রিয়করণ নামের এক ধরনের থেরাপি নিয়ে কাজ করছে। পশ্চিমা বিশ্বে এটি বিষণ্নতা মোকাবিলায় একটি কার্যকর থেরাপি। বাংলাদেশেও এই থেরাপি কার্যকর কিনা, তা বোঝাই এ গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।

প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে বাডাসের সেন্টার ফর হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (সিএইচআরআই) এবং যুক্তরাজ্যের ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়। চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ডায়াবেটিস শনাক্ত ব্যক্তিদের ওপর বিষণ্নতা ও বহু ধরনের অসুস্থতার অবস্থা বুঝতে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়।

প্রকল্পে বাংলাদেশ সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপনকারী ডায়াডেম গবেষণার ট্রায়াল সমন্বয়কারী নাভীদ আহমেদ বলেন, এ বছরের মার্চে ডায়াডেমের সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। মার্চের শেষ থেকে মে মাস পর্যন্ত গবেষণার জন্য রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঢাকা ও সিলেটের ৩৫৩ জনকে যাচাই-বাছাই করার পর ৬৪ জন রোগীকে নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে ৩২ জনকে ছয়টি সেশনে বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সেবা দেওয়া হয়। বাকি ৩২ জনকে সাধারণ সেবা দেওয়া হয়। ১৬ আগস্ট তাদের তিন মাসের ফলোআপ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ২ অক্টোবর থেকে ৬ মাসের ফলোআপ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষের পর সেবা পাওয়া ব্যক্তিদের অবস্থা জেনে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, এই ব্যক্তিরা আগের চেয়ে ভালো বোধ করছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্য অনুসারে, ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম। আনুমানিক দেড় কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ বিষণ্ন্নতায় ভুগছেন। এ ছাড়া ডায়াবেটিস আক্রান্ত জনসংখ্যার ১৫ থেকে ৩৪ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রার বিষণ্নতায় ভোগেন।

বাডাসের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক একে আজাদ খান বলেন, ডায়াবেটিস আক্রান্ত ও বিষণ্নতায় ভোগা ব্যক্তিদের এই থেরাপি নিতে কীভাবে সচেতন করা যায় চিকিৎসকদের সে উপায় খুঁজে বের করতে হবে। কোন ভাষায় কথা বললে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষ বিষণ্নতা দূর করতে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হবেন, সে ভাষা জানতে হবে। বিষণ্নতা দূর করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, কারা তা অব্যাহত রাখছেন, সেটিও দেখতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রয়োজনে ধর্মীয় নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পের প্রধান গবেষক পাকিস্তানের নাজমা সিদ্দিকি বলেন, একই সঙ্গে ডায়াবেটিস ও বিষণ্নতা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের আয়ু ২০ বছর কমে যেতে পারে। ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসিক অসুস্থতার আশঙ্কা দুই থেকে তিন গুণ বেশি। ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরান সিদ্দিকি প্রথম দিকেই ডায়াবেটিস ও বিষণ্নতা শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন-ডায়াডেম প্রকল্পের উপ-পরিচালক আবদুল কুদ্দুস। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, একই হাসপাতালের শিশু-কিশোর এবং পারিবারিক মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক এমকেআই কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ। তথ্যসূত্র: যুগান্তর

পূর্বকোণ/সাফা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট