চট্টগ্রাম শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০

১৪ জানুয়ারী, ২০২০ | ৫:২০ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক

নির্ভয়া ধর্ষণ: চার ধর্ষকের ফাঁসি ২২ জানুয়ারি

ভারতে নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যায় মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সর্বসম্মতভাবে তাদের কিউরেটিভ পিটিশন বাতিল করে দিয়েছেন বিচারপতিরা। ফাঁসির সাজার রায় সংশোধনের আবেদন (কিউরেটিভ পিটিশন) দায়ের করেছিলেন দুই সাজাপ্রাপ্ত। শীর্ষ আদালতের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সেই আবেদন সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে আইনি পথে মৃত্যুদণ্ড রদের আর কোনো বিকল্পই খোলা রইল না দোষীদের। এর পর এক মাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানাতে পারবেন তারা।

দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২২ জানুয়ারি চার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হবে। চলতি মাসের শুরুতেই দিল্লির আদালত চারজনের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে। ২২ তারিখ সকাল সাতটা নাগাদ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে পবন গুপ্তা, অক্ষয়, বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিং-কে। দেশে এই প্রথম চারজনকে একইসঙ্গে একই সময়ে ফাঁসি দেয়া হবে। দুই অপরাধী বিনয় ও মুকেশ প্রাণভিক্ষা চেয়ে যে কিউরেটিভ পিটিশন করেছিল। মঙ্গলবার সেই আবেদনের শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। পিটিশন খারিজ করে দেয় বিচারপতি এনভি রামানা, অরুণ মিশ্র, আরএফ নরিম্যান, আর ভানুমতী ও অশোক ভূষণের বেঞ্চ। এটাই ছিল এই মামলার শেষ আইনি লড়াই।

রবিবারই তিহাড় জেলে নকল ফাঁসির মহড়া চালানো হয়। সেখানে চার দোষীর ওজন অনুসারে ইট-পাথর ভর্তি বস্তা ঝুলিয়ে ফাঁসিকাঠ পরীক্ষা করা হয়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, অপরাধীদের গলার মাপ নেয়ার সময়ই কান্নায় ভেঙে পড়ে নির্ভয়াকাণ্ডের চার আসামি। পরীক্ষার পর উত্তরপ্রদেশের কারা বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ। ২২ জানুয়ারি তিহাড়ের ৩ নম্বর জেলের কক্ষে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে নির্ভয়ার অপরাধীদের। অপরাধীদের মানসিক অবস্থা ঠিক রাখতে নিয়মিত তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন সংশোধনাগারের আধিকারিকরা। দিল্লির প্যারামেডিক্যাল ছাত্রী নির্ভয়াকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের দায়ে চারজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। দিল্লি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। এরপর রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ হয়। শেষ পর্যন্ত দিল্লির তিস হাজারি আদালত চার দোষীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে। তারপর দুই সাজাপ্রাপ্ত বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিংহ সুপ্রিম কোর্ট রায় সংশোধনের আর্জি জানান। সেই আর্জির শুনানি হয় বিচারপতি এন ভি রামান্নার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে। তবে এজলাশের বদলে বিচারপতির চেম্বারে হয় শুনানি। শুনানির পর আর্জি বাতিল করে দেয় বেঞ্চ।

 

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/এম

The Post Viewed By: 97 People

সম্পর্কিত পোস্ট