চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১

১৫ মে, ২০১৯ | ৮:৩৯ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

সোয়া লাখ বছরে দু’বার প্রত্যাবর্তন বিলুপ্ত পাখির!

ভারত মহাসাগরের উপরে অবস্থিত আলডাবরা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাল দ্বীপ । ছবির মতো সাজানো এ দ্বীপেই একসময় বাস ছিল হোয়াইট থ্রোটেড রেল পাখির। প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় দ্বীপটি। বাসস্থান খুইয়ে হারিয়ে গিয়েছিল আকারে মুরগির মতো পাখিটিও। কিন্তু প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের দাবি, আবার ফিরে এসেছে বিলুপ্ত হওয়া সেই ‘হোয়াইট থ্রোটেড রেল’পাখি।

তবে এ ফিরে আসার কাহিনিও বিচিত্র। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তারা অবলুপ্তির গহ্বর থেকে ফিরে এলো। বিশেষজ্ঞদের দাবি, লাখো বছর আগের ওই ঘটনার কয়েক হাজার বছর পরে পাখিটি আবার ফিরে এসেছিল। সে সময় সমুদ্রের পানি নেমে গিয়েছিল। পানি নামতেই দ্বীপটি আবার জেগে ওঠে। আর তখনই পাখিটি ফের রাজ্যপাট গড়ে তোলে ওই প্রবাল দ্বীপে। এ দুই ঘটনার আগে-পরের জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এখন তারা বলছেন, ‘আলডাবরা দ্বীপে পাখিটি এখনও রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, একে ‘ইটেরেটিভ ইভোলিউশন’ বলে। অর্থাৎ কোনও প্রাণীর উত্তরসূরিদের মধ্যে কোনও একটি প্রজাতির একাধিক বিবর্তন ঘটে এবং ইতিহাসের বিভিন্ন সময় ফিরে ফিরে আসে তারা। অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে দেখা গেলেও ‘রেল’ বা মাটিতে বসবাসকারী ছোট বা মাঝারি মাপের পাখিদের মধ্যে এমন নজির এই প্রথম। পাখিদের মধ্যেই এটি বেশ উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

বিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকা ‘লিনিয়ান সোসাইটি’তে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ডেভিড মারটিল বলেন, ‘রেল বা কোনও পাখির মধ্যেই আমরা এ ধরনের ঘটনা দেখিনি। এমন কোনও উদাহরণ নেই।’

অবলুপ্তি ফিরে আসার ইতিহাসটা রকম :

‘রেল’ পরিবারের পাখিদের পূর্বপুরুষের বাস ছিল পূর্ব আফ্রিকার উপকূল থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরের ম্যাডাগাস্কার দ্বীপে। একসময় এদের সংখ্যা এত বেড়ে যায়, যে এরা দ্বীপ ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দেয়। কেউ উত্তরের দিকে উড়ে যায়, কেউ দক্ষিণে। কিন্তু এরা কেউই তেমন উড়তে পারত না। এতে লম্বা রাস্তা পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই ভারত মহাসাগরে ডুবে যায়। যারা পশ্চিমে যায়, তারা আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডে পৌঁছায়। কিন্তু অচেনা অজানা জায়গায় গিয়ে বিপদে পড়ে। প্রাণ হারায় অধিকাংশই। কারও কারও ভাগ্য ভালো ছিল। তারা মরিশাস, রিইউনিয়ন, আলডাবরা পৌঁছায় এবং সেখানে রাজ্যপাট গড়ে তোলে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ওড়ার ক্ষমতাটাই হারিয়ে ফেলে। কারণ ওই সব দ্বীপে তাদের ওড়ার প্রয়োজন পড়ত না। এতে দ্বীপেই বন্দি হয়ে পড়ে। তাই দ্বীপ যখন সমুদ্রের তলদেশে ডুবতে থাকে, তারা আর পালানোর সুযোগ পায়নি। ততদিনে তারা আর একটুও উড়তে পারে না। এতে দ্বীপের সঙ্গেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় তারা। ঠিক যা ঘটেছিল, ডোডো পাখিদের ক্ষেত্রে। কিন্তু ডোডো যা পারেনি, তাই করে দেখিয়েছে ‘হোয়াইট-থ্রোটেড রেল’।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 329 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট