চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০

সর্বশেষ:

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৪:১০ পূর্বাহ্ন

টাইমের পারসন অব দ্য ইয়ার থানবার্গ

ধরিত্রীকে রক্ষায় স্কুল বাদ দিয়ে জলবায়ু আন্দোলনে শামিল হওয়া সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থানবার্গকে ২০১৯ সালের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে বেছে নিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। ১৬ বছর বয়সী থানবার্গ ইতোমধ্যে তার তীক্ষèধার জবান আর সোজাসাপ্টা বাচনভঙ্গির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে। ‘বিশ্ব জলবায়ু সঙ্কট’ থেকে এই পৃথিবীকে বাঁচাতে বিশ্বনেতাদের দ্রুত উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছে সে। টাইম ম্যাগাজিন লিখেছে, জলবায়ু সংকট থেকে উত্তরণের জন্য

আরো ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ২০১৮ সালের আগস্টে স্কুল বাদ দিয়ে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে একাকী অবস্থান নিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা শুরু করেছিল এই কিশোরী, এক বছরের মধ্যে তা একটি বৈশ্বিক আন্দোলনের রূপ পেয়েছে।-বিডিনিউজ

গত ১৬ মাসে সে জাতিসংঘে গিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মের দাবির কথা জানিয়ে এসেছে; দেখা করেছে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে। জলবায়ু সঙ্কট নিয়ে রাষ্ট্রনায়কদের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে থানবার্গ বাহাসে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। এই কিশোরীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্ব^রে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইকে যোগ দিয়েছে সারা বিশ্বের ৪০ লাখ তরুণ, যাকে জলবায়ু আন্দোলনে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি বলা হচ্ছে।

কানাডার লেখক মার্গারেট অ্যাটউড এই কিশোরীকে তুলনা করেছেন ফরাসি বীরকন্যা জোয়ান অব আর্কের সঙ্গে। কলিনস ডিকশনারি চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত শব্দ হিসেবে বেছে নিয়েছে থানবার্গের ভাবনাপ্রসূত ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ শব্দটিকে। আসছে জানুয়ারিতে ১৭ বছরে পা দিতে যাওয়া গ্রেটা থানবার্গ তার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে পরিপূর্ণ উদ্যমে। গতকাল বুধবার মাদ্রিদে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে সে বলেছে, জলবায়ু আন্দোলনের আহ্বান বিশ্ব শুনেছে, অথচ রাজনীতিবিদরা এখনও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী টাইম প্রতি বছরের শেষে আলোচিত ব্যক্তিত্ব নির্বাচন করে, যাকে তারা বলে ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’। পেশাগত কাজ করতে গিয়ে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন, এমন একদল সাংবাদিককে ২০১৮ সালের আলোচিত ব্যক্তিত্ব ঘোষণা করেছিল টাইম।

এবারের ‘পারসন অব দ্য ইয়ারের’ মনোনয়নের তালিকায় আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির নামও ছিল।

শেষ পর্যন্ত গ্রেটা থানবার্গকে ওই খেতাবে ভূষিত করায় টাইম ম্যাগাজিনের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতা আল গোর বলেছেন, ‘এটা দারুণ একটি সিদ্ধান্ত’। “জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলায় এখনই উদ্যোগী হওয়ার দাবি তুলে তরুণ পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে গ্রেটা। আমার মত সারা বিশ্বের মানুষের জন্য সে এক অনুপ্রেরণার নাম।”

The Post Viewed By: 61 People

সম্পর্কিত পোস্ট