চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৪ মে, ২০১৯ | ৯:৪১ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

 চলে গেলেন বিশ্বের ‘বয়স্কতম’ মানুষটি

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষটি ১২৩ বছর বয়সে চলে গেলেন। দীর্ঘসময় ধরে বাঁচার অভিজ্ঞতা নিয়ে এই রুশ নাগরিক দেখেছেন রাশিয়ায় জার শাসকের পতন, দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধসহ পৃথিবীর অসংখ্য ঘটনাবলী।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ জীবনধারী এই ব্যক্তির নাম আপেজ ইলিয়েভ। মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন এতকাল বেঁছে থাকার রহস্য । জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় ঘুমাতে যেতেন, আর ঘুমাতেন ১১ ঘণ্টা।
জর্জিয়ার কাছে সাবেক রাশিয়ার ইঙ্গুসেতিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আপেজ ইলিয়েভ। আট সন্তানের এই জনক বলেন, তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরিচারক হিসেবে কাজ করেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন বয়স্ক সেনা হিসেবে। এরপর জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন মেষপালক হিসেবে।
আপেজ ইলিয়েভের দাবি ছিল, প্রতিরাতে ১১ ঘণ্টা ঘুমাতেন। সন্ধ্যা ৭টায় ঘুমাতে যেতেন। আর উঠতেন সকাল ৬টায়। উঠেই ভেড়ার পালের যত্ন নিতেন। যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতেন ডাক্তার ও ওষুধ। তবে ১২১ বছর বয়সে ছত্রাকের কারণে চোখের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল তাঁকে।
কেবল নিজের বাগান থেকে তোলা তাজা সবজি খেতেন এই দীর্ঘজীবী মানুষটি। মাংস আনতেন রাশিয়ান কাকেসাস পর্বতমালার গুলি নামের দূরবর্তী এক গ্রাম থেকে। আর পান করতেন গরুর খাঁটি দুধ ও ঝরনার পানি।
কীভাবে সাত বছর বয়সে মেষপালক হয়েছিলেন, তাও ব্যাখ্যা করেন ইলিয়েভ। তিনি জানিয়েছিলেন, ১৯১৭ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ায় চলা গৃহযুদ্ধে সেদেশের রেড আর্মির হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন তিনি।
কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ৪৫ বছর বয়স হলে নিজেকে নিষ্প্রভ মনে করেন তিনি। এ সময় তিনি ট্র্যাক্টর চালকের পেশা গ্রহণ করেন। ১৯৪৪ সালে তাঁকে ইঙ্গুশ নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজাকস্তানে বহিষ্কার করে স্ট্যালিন সরকার। সেখানে তাঁকে বেশ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে হয়। একটা পর্যায়ে মেষ পালকের পেশা বেছে নেন ইলিয়েভ।
জন্ম সনদ হারিয়ে যাওয়ায় বয়স যাচাই করা যায়নি ইলিয়েভের। এর আগে সনদ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সারাহ কনাস। ১১৯ বছর ৯৭ দিন বয়সে ১৯৯৯ সালে মারা যান তিনি। তারও আগে ১৯৯৭ সালে মারা যান ফরাসি নারী জেইন ক্যালমেন্ট। দাবি করা হয়, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২২ বছর ১৬৪ দিন। তবে তার সত্যতা নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে।
জাপানে ২০১৩ সালে ১১৬ বছর ৫৪ দিন বয়সে মারা যান জিরেমন কিমুরা। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষ। তাঁর মৃত্যুর পর সেদেশের সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষ হিসেবে দাবি করছেন দেশটিতে বর্তমান জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি কান তানাকা। এখন তাঁর বয়স ১১৬ বছর, ১২৭ দিন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট