চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ | ১১:৫৪ am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ছবি-এএফপি

কাশ্মীরে মোবাইল সেবা চালুর পর এসএমএস সেবা বন্ধ

অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ পুনর্বহালের কয়েক ঘণ্টা পর সেখানে এসএমএস সেবা বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় সরকার। এর আগে সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে এক ট্রাকচালক নিহত ও যানটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানায়, সোমবার রাতে আপেলবাহী একটি ট্রাক রাস্তায় রাখা ছিল। এ সময় মুখোশ পরা দুজন অস্ত্রধারী রাস্তা থেকে ট্রাকটি সরিয়ে নিতে বলেন। কিন্তু চালক ট্রাক সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানালে অস্ত্রধারীরা চালককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আলাদাভাবে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেন, রক্তে ভেজা হিমালয় অঞ্চলটিতে কার্যত সীমান্তে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর গোলাবিনিময়ে ২৪ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন।

নিয়ন্ত্রণরেখার বরাবর পাকিস্তানি জেলায় বাবা ও তার দুই শিশুসন্তানসহ তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গোলা এসে তাদের বাড়িতে আঘাত হানলে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, এসএমএস সেবা বন্ধের সিদ্ধান্তে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যোগাযোগের সক্ষমতাকে কমিয়ে দিয়েছে।

মুসলমান অধ্যুষিত রাজ্যটিতে ৭২ দিনের যোগাযোগ অচলাবস্থার পর সোমবার মোবাইল ফোনের কল ও বার্তা পাঠানোর সুবিধা পুনর্বহাল করেছিল কর্তৃপক্ষ।

৭০ লাখের বেশি জনসংখ্যার বসবাস হিমালয় অঞ্চলটিতে। ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার এই মূল পাদপীঠের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়ার পর ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ বলছে, সোমবার রাজ্যটির এসএমএস সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সোফিয়ান জেলায় আপেলবাহী একটি ট্রাকে হামলার পর এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, মুখোশধারী বন্দুকধারীরা চালককে তার গাড়ি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিতে বলেন। কিন্তু গাড়িটি হড়কে গিয়ে রাস্তায় আটকে যায়। তখন বন্দুকধারীরা ট্রাকটিতে গুলি করে আগুন ধরিয়ে দেয়।

কাশ্মীরে আপেল আহরণ একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় বাজারে ফলের বড় একটা সংখ্যা এখান থেকে রফতানি করা হয়।

বহু ফলবাগানের মালিক বলেন, স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে চলতি বছরে তারা আপেল আহরণ করবেন না।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানকার নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মোবাইল সেবা বন্ধ করে দেয় সরকার। এর ৭২ দিন পর গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে সরকার রাজ্যটিতে মোবাইল সেবা আংশিকভাবে চালু করে। কাশ্মীরে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ মোবাইল সেবার আওতায় আছেন।

পূর্বকোণ/পিআর

The Post Viewed By: 66 People

সম্পর্কিত পোস্ট