চট্টগ্রাম বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

উঠল না কাশ্মীর প্রসঙ্গ

ভারত-চিন ‘নতুন পর্বের’ জন্ম মোদি-শি বৈঠকে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : কাশ্মীর প্রসঙ্গ উঠলই না। মমল্লপুরমের সমুদ্রসৈকতের কাছে একটি রিসর্টে ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন যুগ শুরু হল। দুই প্রতিবেশী দেশ সিদ্ধান্ত নিল, বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ দমনে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে।

আর বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও জোরাদার করে তুলবে ভারত ও চিন।

চেন্নাই থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে মমল্লপুরমের সমুদ্রসৈকতের কাছে একটি রিসর্টে শুক্র ও শনিবারের দু’দফার বৈঠকের পর দৃশ্যতই খুশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, ‘‘উহানের শীর্ষ সম্মেলন ভারত ও চিনের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্পর্ককে জোরদার করতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। আর চেন্নাইয়ের এই বৈঠকে (‘চেন্নাই কানেক্ট’) দু’দেশই পারস্পরিক সম্পর্কে একটি নতুন যুগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’ চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর দু’দেশের প্রতিনিধিদদলের বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে একই কথা জানিয়েছেন বিদেশসচিব বিজয় গোখলে।

শুক্রবার রাতের বৈঠক সম্পর্কে চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং মোদির সুরে সুর মিলিয়েই বলেছেন, ‘‘গত কাল প্রধানমন্ত্রীর (নরেন্দ্র মোদি) সঙ্গে আমার বন্ধুর মতো কথা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কথা হয়েছে খুবই আন্তরিক ভাবে। নতুন যুগ শুরু হল দু’দেশের সম্পর্কে।’’ এ দিন বিদেশসচিব গোখলে বলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠক সেরে নেপাল রওনা হওয়ার আগে চিনা প্রেসিডেন্ট জানিয়ে গিয়েছেন বৈঠকে তিনি খুব খুশি। দু’দেশের সম্পর্কে একটি নতুন যুগ শুরু হতে চলেছে।’’
কাশ্মীর নিয়ে কোনও অস্বস্তি যাতে মাঝপথে তৈরি না-হয়, সে জন্য কোনও প্রশ্ন ওঠেনি মমল্লপুরমে শি-মোদির দু’দফার বৈঠকে। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল, কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে এবং দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে যে চাপ তৈরি করা শুরু করেছিল বেজিং, তার থেকে বেরিয়ে কিছুটা খোলা বাতাস বইয়ে দেওয়া গিয়েছে সম্পর্কে।

আপাতত কাশ্মীর নিয়ে কোনও বড় মাপের বিরোধিতা বেজিংয়ের পক্ষ থেকে আসবে না- এমনটাই আশা করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্তার মতে, ‘দ্বিপাক্ষিক স্বস্তি’ই হল মমল্লপুরমের মূল কথা। দুই শীর্ষ নেতার এই বৈঠককে চলতি পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জন্য বার্তাবহ বলেও মনে করা হচ্ছে।

গত কাল প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে মহাবলীপুরম মন্দির ঘুরে দেখেন চিনফিং, যা এখন মমল্লপুরম নামে পরিচিত। তার পর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। অনুষ্ঠানের পর নৈশভোজও সারেন তাঁরা।
শুক্রবার রাতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়, ‘‘কট্টরপন্থা ও সন্ত্রাসবাদকে সাধারণ চ্যালেঞ্জ হিসাবে বিবেচনা করে ভারত ও চিন তার বিরুদ্ধে এক সঙ্গে লড়াই করতে রাজি হয়েছে।’’

The Post Viewed By: 141 People

সম্পর্কিত পোস্ট