চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৬ আগস্ট, ২০১৯ | ২:০৮ এএম

রোহিঙ্গা সমাবেশ যেন জনসমুদ্র

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গণহত্যা দিবস পালিত
‘৫ দফা দাবি না মানলে একজন
রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে যাবে না’
নিজস্ব সংবাদদাতা হ উখিয়া

বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গারা আবারও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা ছাড়া মিয়ানমার ফিরতে অনীহা প্রকাশ করেছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গার অংশগ্রহণে বিশাল সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
গতকাল (রোববার ) উখিয়ার কুতুপালং মেগা ক্যাম্পে পৃথক পৃথক সমাবেশ করে রোহিঙ্গারা। গতকাল সকাল থেকে উখিয়ার ২০টি ক্যাম্প থেকে হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুরা মিছিল সহকারে সমাবেশ স্থলে যোগ দেয়। কুতুপালং মেগা ক্যাম্পের বর্ধিত -৪ নং ক্যাম্পের মাঠে বর্ষপূর্তি সমাবেশের আয়োজন করে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)।

এতে লক্ষাধিক রোহিঙ্গার সমাগম ঘটতে দেখা গেছে। সমাবেশে সংগঠনের রোহিঙ্গা নেতারা বক্তব্য দেন। এআরএসপিএইচ’র চেয়ারম্যান মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, আমরা বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমার ফিরতে চাই। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, মিয়ানমারে স্বাধীন ও মর্যাদার সাথে নিজ নিজ ঘর বাড়িতে বসবাসের নিশ্চয়তা ফেলে ফিরে যেতে প্রস্তুত।

এছাড়া কুতুপালং ২ নং ক্যাম্পের ডি- ব্লকের মাঠে আরেকটি বর্ষপূর্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রোহিঙ্গা রিফুউজি কাউন্সিলের আয়োজনে সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, ডাক্তার জাফর আলম বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদি ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিত তাহলে সেটিই হত বিশ্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মানবিক ট্র্যাজেডি। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার প্রাণ রক্ষা করায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চিরদিন বাংলাদেশ ও স্থানীয় লোকজনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। তারা বলেন, আমরা আশাবাদী বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যেভাবে উদারতা ও সহানুভূতি দেখিয়েছে সেভাবে রোহিঙ্গাদের জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেবে। তারা বলেন, নিজেদের নাগরিক অধিকার ও হারানো ভিটে মাটি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হবে। ৫ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারের ফিরে যাবে না। কারণ মিয়ানমার সরকারের উপর আস্থা রাখা বোকামি।
সমাবেশে ঘোষণাকৃত দাবিগুলো হলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে হবে, নিরাপওা ও অবাধে চলাচলের স্বাধীনতা, নিজেদের হারানো ভিটে মাটি ফেরত দিতে হবে ও ২৫ আগস্টের নির্যাতনের বিচার করতে হবে।
সমাবেশে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম। উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন মসজিদে গণহত্যার বিচার চেয়ে দোয়া করা হয়। এদিকে ক্যাম্প অভ্যন্তরের দোকান পাটগুলো গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
উখিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর বলেন, আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

The Post Viewed By: 707 People

সম্পর্কিত পোস্ট