চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ | ৩:১০ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এবার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সের বাড়িতেও মিলল গোপন নথি

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পর এবার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের বাড়ি থেকেও গোপনীয় বেশকিছু রাষ্ট্রীয় নথি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

রিপাবলিকান পেন্স পরে তার ইন্ডিয়ানার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এসব নথি এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরও করেছেন বলে তার আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আর্কাইভকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন।

 

আইনজীবী গ্রেগ জ্যাকবের লেখা ওই চিঠিগুলো মঙ্গলবার দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

 

ন্যাশনাল আর্কাইভকে ১৮ জানুয়ারি লেখা চিঠিতে ওই গোপন নথিগুলো পাওয়ার কথা জানান জ্যাকব, পরে ২২ জানুয়ারি লেখা চিঠিতে বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্টের বাড়িতে এসে এফবিআই ওই নথিগুলো সংগ্রহ করেছে।

 

গত সপ্তাহে পেন্সের আইনজীবী ন্যাশনাল আর্কাইভস কর্তৃপক্ষকে জানান, ২০২১ সালে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকারি বাসভবন ছেড়ে আসার সময় ভুলবশত বাক্সে করে গোপনীয় নথিগুলো ইন্ডিয়ানার বাড়িতে এনেছিলেন পেন্স।

 

গতকাল পেন্স রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদের পর্যবেক্ষক কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার এ তথ্য জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে কোমার বলেন, কংগ্রেসের তদন্তে তিনি পরিপূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

 

ওই সব নথিতে কী ধরনের তথ্য আছে কিংবা এগুলোর গোপনীয়তার মাত্রা কতটুকু, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাবেক, বর্তমান দুই প্রেসিডেন্টের গোপনীয় নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয় দুই বিশেষ কাউন্সেলকে নিয়োগ দিয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষে অন্য প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার মধ্যবর্তী সময়ে বিদায়ী প্রশাসনের কাছে থাকা যাবতীয় নথি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আর্কাইভের আইনি দায়িত্বে চলে যাওয়ার কথা।

 

উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা জানা থাকা সত্ত্বেও গোপন নথি বা জিনিস সরিয়ে ফেলা বা নিজের কাছে রেখে দেওয়া বেআইনি। গোপন জিনিসপত্র ঠিকমত সুরক্ষিত রাখতে না পারলে, তা ভুল হাতে পড়লে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

 

পেন্সের বাড়ি থেকে গোপন নথি উদ্ধারের ঘটনা বাইডনকে রাজনৈতিকভাবে খানিকটা স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

 

ট্রাম্পের বাড়ি থেকে গোপন নথি উদ্ধারের ঘটনায় কড়া সমালোচনা করেছিলেন বাইডেন, পরে যখন তার বাড়ি, গ্যারেজ আর কার্যালয়েই গোপন নথি মেলে তখন তা ডেমোক্র্যাট পার্টির জন্যও বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

 

গোপন নথি উদ্ধারের ঘটনা ট্রাম্প এবং বাইডেন উভয়ের জন্যই বড় ধরনের রাজনৈতিক দায় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তারা দুজনই ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

বাইডেনের কট্টর সমালোচক ও ট্রাম্পের মিত্র রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, সাবেক, বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেউই ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করেছেন বলে মনে করেন না তিনি।

 

স্পষ্টতই এটা একটা সমস্যা। সম্ভবত আমরা নথিপত্র বেশি বেশি গোপনীয়তার কাতারে শ্রেণিবদ্ধ করছি, এটাও সমস্যার অংশ হতে পারে। রিপাবলিকানদের জন্য যেটা রাজনৈতিক সমস্যা ছিল, তা এখন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, বলেছেন গ্রাহাম।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট