চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

৩০ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বলপ্রয়োগ আর ফিলিস্তিনিদের রক্তবন্যা সমানে চলেছে

জাতিসংঘ ২০০৬ সালের পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে ২০২২ সালকে ঘোষণা করেছে। এই সময়ে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বলপ্রয়োগের প্রমাণ আর কট্টর ডানপন্থীদের উত্থানের মাঝে রক্তবন্যা বয়ে গেছে ফিলিস্তিনে। সংঘাত, অভিযান আর ফিলিস্তিনের প্রখ্যাত সাংবাদিককে হত্যা- ২০২২ সালে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনার অংশ।

 

ফের গাজায় সংঘাত

গাজা উপত্যকার পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বোমা হামলার ১৫ মাসেরও কম সময় পর গত আগস্টের তিন দিন অবরুদ্ধ এই অঞ্চলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান আক্রমণ চালায়। এতে ১৭ শিশুসহ কমপক্ষে ৪৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

ইসরায়েলি বাহিনীর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) প্রধানকে গ্রেপ্তার উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করে। যার ফলে ইসরায়েল ও গাজা সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে ইসরায়েল।

সেই সময় এই সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের দিকে যাবে বলে শঙ্কা ছিল- বিশেষ করে পিআইজের কমান্ডারদের হত্যার পর। কিন্তু মিসরীয় মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিন দিন পর সংঘর্ষ বন্ধ হয়ে যায়।
আর এই সংঘাত বৃদ্ধি না পাওয়ার প্রধান কারণ ছিল হামাস। গত ১৫ বছর ধরে গাজা শাসন করে আসা এই গোষ্ঠী লড়াই থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

গত বছরের ১১ দিনের সংঘাতের পর পুনর্নির্মাণের পথে হাঁটা গাজায় তারপরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতার হুমকি এখনও ফুরিয়ে যায়নি। গাজায় ফিলিস্তিনিরা ক্রমাগত ভীতিকর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন। অনেকে ‘পরবর্তী যুদ্ধ অনিবার্য’ বলে মনে করছেন।

 

ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র প্রতিরোধ বেড়েছে

চলতি বছরে পশ্চিম তীরে বড় ধরনের যেসব পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, তার মধ্যে অন্যতম জেনিন এবং নাবলুসের উত্তরের শহরগুলোতে ছোট ছোট সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি। ২০২১ সালের জুনে জামিল আল-আমোরি নামের এক ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি সৈন্যদের হত্যার পর জেনিনের শরণার্থী শিবিরে ‘জেনিন ব্রিগেড’ গঠিত হয়। পরে এই ধরনের অন্যান্য আরও কয়েকটি গোষ্ঠী আত্মপ্রকাশ করে। জেনিন ব্রিগেডকে অনুসরণ করে ২০২২ সালে নাবলুস ব্রিগেড, লায়ন্স’ ডেন, বালাতা ব্রিগেড, তুবাস ব্রিগেড এবং ইয়াবাদ ব্রিগেড গঠন করা হয়। এই গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা সীমিত হলেও তারা প্রায় প্রত্যেকদিনই অভিযানের জবাবে ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের দিকে মনোনিবেশ করে এবং ইসরায়েলি সামরিক তল্লাশি চৌকি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ইসরায়েলি সৈন্য ও বসতি স্থাপনকারীকে হত্যা করা হয়েছে, এমন সব হামলারও দায় নেয় তারা। ওই ইন্তিফাদা বা বিদ্রোহের শেষে ভূখণ্ডের বেশিরভাগ অস্ত্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) দখলে চলে আসে।

 

ফিলিস্তিনিদের নিয়তিই যেন অভিযান আর হত্যা

গত মার্চ মাসে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর একের পর এক হামলার পর ইসরায়েল ‘ব্রেক দ্য ওয়েভ’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। জেনিন এবং নাবলাসকে এই অভিযানের কেন্দ্র বানিয়ে পশ্চিম তীরে প্রায় প্রতিদিন অভিযান, গণগ্রেফতার এবং হত্যাযজ্ঞ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে বেসামরিক ব্যক্তি এবং পথচারীরাও নিহত হন। লক্ষ্যকৃত গুপ্তহত্যা ও সশস্ত্র সংঘর্ষের সময় ফিলিস্তিনি যোদ্ধারাও মারা যান। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীর এবং দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ৩০ শিশুসহ কমপক্ষে ১৭০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। আর আহত হয়েছেন আরও কমপেক্ষ ৯ হাজার মানুষ।

 

শিরীন আবু আকলেহ হত্যাকাণ্ড-

গত ১১ মে জেনিনের শরণার্থী শিবিরে অভিযানের সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি বাহিনী আল জাজিরার প্রবীণ সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ৫১ বছর বয়সী আবু আকলেহ আল জাজিরা আরবির ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছিলেন। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনি ভূখ-ে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সংবাদ কাভার করেছিলেন তিনি।

 

কট্টর ডানপন্থীদের উত্থান

গত চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে চলতি বছরে ইসরায়েলে পঞ্চমবারের মতো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয় রাজনৈতিক দলগুলো। যে কারণে ইসরায়েলের ৭৪ বছরের ইতিহাসে কট্টর ডানপন্থীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে জোট সরকার। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টি কট্টর ইহুদিবাদি এবং অতি-রক্ষণশীল অর্থোডক্স দলগুলোর সাথে জোট গঠন করেছে। এই জোটের মাধ্যমে ১২০ সদস্যের নেসেটে ৬৪ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তারা। [তথ্যসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স]

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট