চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

বিশ্ব অর্থনীতিতে সুখবর নেই

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান জর্জিভা চলতি মাসের শুরুতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুই শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। মহামারি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সময় এবং ২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সঙ্কট চলাকালে সর্বশেষ এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

 

এর ক’মাস আগে বিশ্বব্যাংক’র একটি গবেষণা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, বিশ্ব অর্থনীতির তিন মূল চালিকাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপের অর্থনীতি দ্রুত গতি হারাচ্ছে। ফলে আগামী বছর মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

 

আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটির এ আশঙ্কা সত্যি হলে, উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সম্ভাব্য এ মন্দায় সবচেয়ে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করবে বলেও বলা হয়েছিল। প্রতিবেদনে সম্ভাব্য মন্দার কারণ হিসেবে উন্নত দেশগুলোর ভ্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত, কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করা হয়েছিল।
বছর শেষে অর্থনীতির গতি এখন পর্যন্ত সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে বলেই অভিমত বিশ্লেষকদের।

 

 

কোভিডের আগ থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সংকেত ছিল

আইএমএফের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোর ধারা বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়, কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের ওপর কালো ছায়া মেলেছিল অর্থনৈতিক সংকট। তবে কোভিড ও পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ এ সংকটকে আরও ত্বরান্বিত এবং গভীর করেছে।

 

 

সুদের হার বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির দুষ্টচক্র

প্রধানত উল্লিখিত দু’ কারণে সারা বিশ্বেই জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। যার কাঁধে ভর দিয়ে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা। পরিস্থিতি সামলে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুদের হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে।

 

 

ইউরো জোনেই মূল্যস্ফীতির প্রভাব বেশি

ইউরো জোনে গত আগস্টে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড হারে বেড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। মূল্যস্ফীতির এ বৃদ্ধি আগে করা পূর্বাভাসের থেকেও বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্টাটের প্রতিবেদনে এ মূল্যস্ফীতির জন্য জ্বালানির উচ্চ মূল্যবৃদ্ধিকেই দায়ী করা হয়েছে। এ অঞ্চলে টানা নয় মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে চলেছে। এটাও একটি রেকর্ড। দেশগুলোর বেশির ভাগই তাদের জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

 

 

ইউরোপ সহজে পার পাচ্ছে না

ইউরো জোনের অর্থনীতির আশু উত্তরণের তেমন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অর্থনৈতিক পরামর্শক সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পোর গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের অর্থনীতিবিষয়ক প্রধান কেনেথ ওয়াট্রেট। তিনি বলেছেন, ইউরো জোন মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এটা নিশ্চিত। এর প্রভাব কতটা গভীর কিংবা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, এখন সেটাই হলো প্রশ্ন।

 

 

সুদের হার বৃদ্ধি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শেষমেষ ভালো কিছু হবে না

পরিস্থিতি সামলাতে আপাতত সুদের হার বৃদ্ধি করে মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর দিকেই মনোযোগ দিয়েছে ইউরো জোনের দেশগুলো। তবে এ সময়ে এসে বিশ্ব অর্থনীতির গতি আরও শ্লথ হয়ে পড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে আইএমএফের সবশেষ প্রতিবেদন। পাশাপাশি ২০২৩ সালের মধ্যেই মন্দার প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হওয়া শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

 

 

পরিস্থিতি লাগামছাড়া হলে বিশ্বে দেখা দিতে পারে দুর্ভিক্ষ

আইএমএফের মতে, দুর্যোগের কালো মেঘ এখনই দিগন্তে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতি এখনই সামলাতে না পারলে বিশ্বের দেশে দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিগুলো ধসে পড়া শুরু করতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের দেশে দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধির পাশাপাশি তৈরি হতে পারে খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষ।
চাকরি হারাচ্ছেন প্রায় ২ লাখ মার্কিনি

 

ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে আসছে বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭৫ হাজার লোক নতুন করে বেকার হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকা। পাশাপাশি ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব বেড়ে সাড়ে ৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে তারা।

 

এশিয়াকেও ছুঁয়েছে মন্দার ঢেউ

প্রায় ২৫ বছর পর এশিয়ার দেশগুলোতে আবারও অর্থনৈতিক মন্দার ঢেউ লেগেছে। ছোটখাটো অর্থনীতির দেশ তো আছেই, চীন এবং জাপানের মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশও এ মন্দার রেশ কাটাতে পারছে না। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতির কারণে এশিয়ায় তার আঁচ লেগেছে। পরিস্থিতি এখন এশিয়ার দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। শেষ পর্যন্ত এটি মন্দাবস্থার দিকেই যাচ্ছে বলা হচ্ছে সবগুলো সমীক্ষাতেই।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট