চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

৮ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১:২৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

মোদির রেকর্ড জয় গুজরাটে, হিমাচলে এগিয়ে কংগ্রেস

গুজরাটে আবারও মোদির জয়। এই নির্বাচনে ২০০২-এর থেকেও ভালো ফল করতে চলেছে বিজেপি। অন্যদিকে কংগ্রেস অনেকটাই এগিয়ে হিমাচলে।

 

ভোটগণনা শুরু হওয়ার ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, গুজরাটে বিজেপি তাদের সবচেয়ে ভালো ফল করতে চলেছে। এমনকি ২০০২ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি জিতেছিল ১২৭টি আসন। আর এবার তারা এগিয়ে ১৫৩টি আসনে। কংগ্রেস এগিয়ে মাত্র ১৯টি আসনে। আম আদমি পার্টি (আপ) ছয়টিতে।

 

এতদিন পর্যন্ত গুজরাটে বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের লড়াই হতো। কিন্তু এবার গুজরাটে কেজরিওয়ালের আপ খুব গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনে লড়েছে। গত ছয় মাস ধরে কেজরিওয়াল সেখানে প্রচার করেছেন। জনসভা, রোড শো, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার— কিছুই বাকি রাখেননি। এর ফলে বিরোধী ভোট ভাগ হয়েছে। এই ভোটভাগের ফলে কংগ্রেসকে অনেক আসন হারাতে হয়েছে বলে প্রাথমিক ফলের পর দলের নেতারা অনুমান করছেন।

 

কেজরিওয়ালের আশা ছিল, গুজরাটে আপ অন্তত কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে দুই নম্বর দল হবে। এখনও পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হওয়ার ইঙ্গিত নেই। তারা সামান্য কয়েকটি আসনে জিততে পারে। ফলে মোদি-রাজ্যে গিয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গিয়ে খুব বেশি সাফল্য পাননি কেজরিওয়াল। তবে গুজরাটে আসন জেতাকে যদি বড় সাফল্য বলে ধরা হয়, তাহলে সেই সাফল্য আপ পেতে চলেছে।

 

দ্বিতীয় আরেকটি কারণ হলো, এবার কংগ্রেস থেকে হার্দিক প্যাটেলসহ একগুচ্ছ নেতা ও বিধায়ক বিজেপিতে চলে গেছেন। অল্পেশ ঠাকোরের মতো প্রভাবশালী নেতারাও সেখানে নাম লিখিয়েছেন। ফলে বিজেপি সেই আসনগুলোতে জিতেছে। এভাবেই ২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও বিজেপি রেকর্ড সংখ্যা নিয়ে গুজরাটে ক্ষমতায় আসতে চলেছে। মোদি-শাহ প্রমাণ করে দিয়েছেন, গুজরাটে তাদের দূর্গে ভাঙন ধরাবার ক্ষমতা এখন কংগ্রেস বা আপের নেই। আগামী লোকসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

এমনিতে এই পাহাড়ি রাজ্যের প্রবণতা হলো, সেখানে একবার কংগ্রেস ও একবার বিজেপি ক্ষমতায় আসে। সেইমতো এবার কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার পালা। কিন্তু দেশজুড়ে কংগ্রেসের যা অবস্থা, তাতে তারা একটি রাজ্যে নিজের জোরে ক্ষমতায় আসছে, তা সাম্প্রতিককালে বিশেষ দেখা যায়নি।

 

 

এই অবস্থায় হিমাচলে প্রথমদিকে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে প্রবল লড়াই চলছিল। কখনো কংগ্রেস এগিয়ে যাচ্ছিল, কখনো বিজেপি। হিমাচলে আপও লড়েছিল। কিন্তু তারা কোনো আসনে এগিয়ে নেই। যত সময় এগিয়েছে, ততই কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির এগিয়ে থাকা আসনের পার্থক্যও বেড়েছে। বেলা ১২টা নাগাদ প্রবণতা হলো, কংগ্রেস ৩৯টি আসনে এগিয়ে, বিজেপি ২৬টিতে। ৩৫টি আসন পেলেই হিমাচলে সরকার গঠন করা যায়।

 

ফলে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন না হলে, গুজরাটে বিপুল জয় পেলেও বিজেপির বিজয়রথ পাহাড়ি রাজ্যে আটকে যাচ্ছে।

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট