চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

২২ নভেম্বর, ২০২২ | ২:২৩ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নথি ফাঁস : বিলিয়নিয়ার পাকিস্তান সেনাপ্রধানের পরিবার, তদন্তের নির্দেশ

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার আর মাত্র দু’সপ্তাহ বাকি। এর আগেই তার পরিবার সম্পর্কে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে অনুসন্ধানমূলক প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট ফোকাস। কর নথির বরাত দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জাভেদ বাজওয়ারের ছয় বছর দায়িত্ব পালনকালে বিলিয়নিয়ারের খাতায় নাম লিখিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এরপরই বেআইনিভাবে কর নথি ফাঁসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার।

সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাপ্রধান বাজওয়ার পরিবারের কর নথি ‘বেআইনি ও অন্যায্যভাবে’ ফাঁসের বিষয়টি সোমবার গুরুত্বের সঙ্গে নেন অর্থমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি আইনে দেওয়া কর তথ্যের সম্পূর্ণ গোপনীয়তার স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

 

আগের দিনই কথিত কর রিটার্ন ও সম্পদের তথ্যের বরাত দিয়ে নিউজ ওয়েবসাইট ফ্যাক্টফোকাসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেনাপ্রধানের পরিবার গত ছয় বছরে কয়েক’শ কোটি রুপির সম্পদ গড়ে তুলেছে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের বাইরে সেনাপ্রধানের জ্ঞাত সম্পদ ও ব্যবসার পরিমাণ ১ হাজার ২৭০ কোটি রুপি। ২০১৬ থেকে ৬ বছরে জেনারেল বাজওয়ার স্ত্রী আয়েশা আমজাদের (ঘোষিত ও জ্ঞাত) সম্পদের পরিমাণ শূন্য থেকে ২২০ কোটি রুপিতে গিয়ে ঠেকেছে।

এতে আরও বলা হয়, এই সম্পদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে তার স্বামীকে দেওয়া আবাসিক প্লট, বাণিজ্যিক প্লট ও বাড়িগুলো হিসাবে ধরা হয়নি। জেনারেল বাজওয়ার পুত্রবধূ মাহনুর সাবিরের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ২০১৮ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ছিল শূন্য। পরে ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর তা ১ হাজার ২৭১ মিলিয়ন (প্রায় ১২৭ কোটি) রুপিতে গিয়ে দাঁড়ায়। মাহনুরের বোন হামনা নাসিরের সম্পদ ২০১৬ সালে ছিল শূন্য, যা পরের বছর ‘কয়েক শ’ রুপিতে গিয়ে ঠেকে।

 

এছাড়াও, সেনাপ্রধানের বেয়াই সাবির হামিদের শত কোটি টাকা সম্পদের বিবরণ দেওয়া হয় ওই প্রতিবেদনে। বাজওয়ার দুই ছেলের সম্পদের তথ্য পেতে তারা সমর্থ হয়নি। সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার পর তাদের ওয়েবসাইটে পাঠকদের প্রবেশ ‘বিঘ্নিত’ হয়। তাদের ওয়েবসাইটটি ‘বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’ বলেও সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ অবধি অজানা কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এই গুরুতর ত্রুটির পরিপ্রেক্ষিতে কর আইনের লঙ্ঘন, কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ডের (এফবিআর) তথ্য হাতিয়ে নেওয়া ও অর্পিত দায়িত্ব ভঙ্গের বিষয়টি তদন্তে ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজস্ববিষয়ক বিশেষ সহকারী তারিক মাহমুদ পাশাকে নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন