চট্টগ্রাম শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২১ নভেম্বর, ২০২২ | ১:৪৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

রুশ ডিজেল মজুদে ইউরোপে তোড়জোড়

রাশিয়াকে কাবু করতে এবার রুশ ডিজেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও কার্যকর হয়নি এবং এই সুযোগে রুশ ডিজেল মজুদে তোড়জোড় চলছে ইউরোপে।

 

সোমবার (২১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ডিজেল আমদানির বিষয়ে ইইউয়ের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে বিকল্প উৎসগুলো থেকে এই তেল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত থাকায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে রাশিয়ার ডিজেল দিয়েই নিজেদের ট্যাংক ভরছে ইউরোপ।

 

রয়টার্স বলছে, ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগে রাশিয়ান ডিজেল দিয়ে এই অঞ্চলে ট্যাংকগুলো পূরণ করতে কার্যত ছুটছে। কারণ বিকল্প কোনও উৎস থেকে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ সীমিত।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূলত আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাশিয়ান তেল পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করবে। যদিও পুরো ইউরোপই রুশ ডিজেলের ওপর খুব বেশি নির্ভর করে থাকে। এছাড়া ফেব্রুয়ারির আগেই আগামী ডিসেম্বরে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে ইইউ।

এনার্জি অ্যানালিটিক্স ফার্ম ভর্টেক্সার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক পামেলা মুঙ্গের বলছেন, আমস্টারডাম-রটারডাম-অ্যান্টওয়ার্প (এআরএ) স্টোরেজ অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত রাশিয়ান ডিজেল আমদানি গত ১ নভেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত বেড়ে প্রতিদিন ২ লাখ ১৫ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। শতকরা হিসেবে অক্টোবরের তুলনায় এই হার বেড়েছে ১২৬ শতাংশ।

 

অন্যদিকে রিফিনিটিভ ডেটা অনুযায়ী, চলতি নভেম্বর মাসে এ পর্যন্ত ইউরোপের সড়ক জ্বালানির মোট আমদানির ৪৪ শতাংশই রাশিয়ান ডিজেল। যা গত অক্টোবরের তুলনায় বেশি। কারণ গত অক্টোবরে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ।

 

যদিও রাশিয়ার জ্বালানির ওপর ইউরোপের যে নির্ভরতা ছিল, তা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে মস্কোর আক্রমণের পর ৫০ শতাংশ কমে গেছে। তবে এরপরও রাশিয়া এখনও ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলোর বৃহত্তম ডিজেল সরবরাহকারী।

 

এফজিই-এর পরিশোধন এবং পণ্যের বাজার বিশ্লেষক ড. ইউজিন লিন্ডেল বলছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করে তা প্রতিস্থাপনের জন্য ইইউকে অন্য দেশ থেকে দৈনিক ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি নিশ্চিত করতে হবে। আর বিকল্প যেসব উৎস থেকে এসব তেল ইউরোপে যাবে সেগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতের মতো সুয়েজের পূর্ব এলাকা থেকে।’

 

ডাচ কনসালটেন্সি ইনসাইটস গ্লোবাল’র লারস ভ্যান ওয়াগেনিনজেন বলেছেন, আমস্টারডাম-রটারডাম-অ্যান্টওয়ার্প (এআরএ) ট্যাংকে যাওয়া রাশিয়ান জ্বালানি সম্ভবত দ্রুত ব্যবহার বা বিক্রি হতে পারে। যেখানে বর্তমান যে মূল্য রয়েছে, তা পরবর্তী মাসগুলোতে হবে এখনকার চেয়েও বেশি।

 

অবশ্য কেবল ইউরোপেই নয়, রুশ তেল ক্রয়ে ভারতের নামও রয়েছে ওপরের সারিতেই। এমনকি ভারতে জ্বালানি তেল সরবরাহে সৌদি আরব ও ইরাককে হটিয়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছে রাশিয়া।

 

কেবল গত অক্টোবর মাসেই ভারতে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের রপ্তানি বেড়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ব্যারেল; শতকরা হিসেবে এই বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ। অক্টোবর মাসে মোট যে পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করেছে ভারত, শতকরা হিসেবে তার ২২ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট