চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২

১৮ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:২৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের সমুদ্র এলাকায় উত্তর কোরিয়ার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বর্ধিত সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় আরও আগ্রাসী পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করার একদিন পর, উত্তর কোরিয়া শুক্রবার একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণ করেছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান যৌথ বিমানঘাঁটিতে আড়ালে আশ্রয় নেওয়ার আদেশ জারি করা হয়।

উত্তর কোরিয়ার ঐ আইসিবিএম এক ঘণ্টার বেশি সময় উড্ডয়ন করে জাপানের সমুদ্রের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসে পড়ে। সেটি জাপানের উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডো জেলা থেকে ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমের সাগরে আছড়ে পড়ে বলে, জাপানের কর্মকর্তারা জানান।

 

মিসাওয়া বিমানঘাঁটি জাপানের উত্তরাঞ্চলের হোনশু দ্বীপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের একটি যৌথ সামরিক স্থাপনা। বিমানঘাঁটিটি তাদের ফেসবুক পেজে বলে, পূর্বসতর্কতাস্বরূপ কর্তৃপক্ষ আড়ালে আশ্রয় নেওয়ার আদেশ জারি করে। তবে তাতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রতিক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশ দক্ষিণ কোরিয়া, যৌথ বিমান মহড়া পরিচালনা করে। মহড়ায় এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান লেজার-গাইডেড হামলা পরিচালনা করে বলে, দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়।

 

এদিকে ওয়াশিংটনে, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়ে সেটিকে “জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবের নির্লজ্জ লঙ্ঘন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে “যা বিনা কারণে উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করে।”

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলে যে, ঘটনাটি একটি “উল্লেখযোগ্য উস্কানি এবং গুরুতর হুমকি সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড যা কিনা [কোরিয়া ও বিস্তৃত অঞ্চলে] শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে খর্ব করে”।

 

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেন যে, তার দেশ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে “কঠোর প্রতিবাদ” জানিয়েছে, যাদের সম্পর্কে তিনি বলেন যে, তারা “নজিরবিহীনভাবে বারবার তাদের উস্কানির পুনরাবৃত্তি করেছে”।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসুকাজে হামাদা বলেন যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতেও ১৫,০০০ কিলোমিটার উড্ডয়নে সক্ষম।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটিতে খুব সম্ভবত হোয়াসং-১৭ আইসিবিএম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র। কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ সেটিকে “দানব ক্ষেপণাস্ত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের একদিন আগে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো সন হুই যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরও “হিংস্র ” কর্মকাণ্ডের অঙ্গীকার করেছিলেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কোন দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রেরই পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা

 

পূর্বকোণ/রাজীব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট