চট্টগ্রাম সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৮ নভেম্বর, ২০২২ | ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

ইকারিয়ার গোপন নিবাস

আরব্য রজনির কিচ্ছা-কাহিনিতে ‘আলিবাবা ও ৪০ চোর’ এর কথা শুনেছি। চোর তো নয়, সাক্ষাৎ দস্যু। এ দস্যুরা থাকত দুর্গম পাহাড়ের গোপন গুহায়। সেখানে রক্ষিত ছিল তাদের বিপুল গুপ্তধন। স্বর্ণ, রুপা, মণি, মুক্তা, হীরা, জহরত- গোপন ডেরায় ছিল সবই।

এগুলোর সন্ধান পেয়ে যান বনে কাঠ কাটতে যাওয়া আলিবাবা। তিনি দস্যুদের গুহায় ঢুকে কিছু গুপ্তধন নিয়ে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগোয় গল্প, যা অনেকেরই জানা। ইউরোপের দেশ গ্রিসে বর্তমানে ওই গল্পের একটি উল্টো রূপ দেখা যাচ্ছে। সেখানে ‘আলিবাবা’রা (সমাজের ভদ্রলোক অর্থে) থাকেন গুহায়, আর দস্যুরা সাগরের ঢেউয়ে।

 

কথা হচ্ছিল গ্রিসের উত্তর আজিয়ান সাগরের দ্বীপ ইকারিয়ার বাসিন্দা এবং তাদের গোপন ঘরবাড়ি নিয়ে। দ্বীপটির একাংশের বাসিন্দা পাথরের পাহাড়ের গোপন কোটরে বাস করেন। তাঁদের এসব বাড়ি দূর থেকে দেখা যায় না; কেবল পাথর দেখা যায়। এসব ঘরের সামনে নেই কোনো সড়ক, নেই প্রধান ফটক। প্রবেশদ্বারটিও গোপন। বাইরে থেকে অতি সাধারণ এগুলোর ভেতরে মজুত আছে আধুনিক জীবনের প্রায় সব উপকরণ। প্রকৃতি-পরিবেশ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধাসহ নানা কারণে বাসিন্দারা দ্বীপটি ছাড়েন না।

গুহায় বাস করার যুগ মানুষ হাজার হাজার বছর আগে ফেলে এসেছে। আদি মানুষরা পাহাড়ের ঢালে বা খাঁজে ঘর করে থাকতেন। তাঁরা থাকতেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটের এ আধুনিক যুগে ইকারিয়ার মানুষ গুহায় থাকেন কেন? মূলত তাঁরা গুহায় থাকেন জলদস্যুর ভয়ে। তাঁদের বাড়িঘর সাগর থেকে দেখা গেলে দস্যুরা হানা দিতে পারে- এমন ভয়ে ঘরগুলো গোপন করে রাখা হয়। সাগর থেকে দ্বীপটি পরিত্যক্ত মনে হয়। এই ভেবে দস্যুরা আক্রমণ চালায় না।

 

আজিয়ান সাগর ইকারিয়ার বাসিন্দাদের জন্য একই সঙ্গে আশীর্বাদ ও অভিশাপ। দ্বীপের বাসিন্দারা সাগরপথে সহজেই পুরো গ্রিসে মদ, জলপাই, মধুসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বাণিজ্য করতে পারেন। অন্যদিকে, সাগর নিয়ে আসে জলদস্যুদেরও। দস্যুরা জানে, দ্বীপের বাসিন্দাদের কাছে আছে নগদ অর্থ।

জলদস্যুর আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা একমাত্র দ্বীপ এই ইকারিয়া নয়। গ্রিসে এ ধরনের আরও অনেক দ্বীপ আছে। তবে আরেকটি কারণে ইকারিয়া গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসে বহুবার বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসনের শিকার হয়েছে দ্বীপটি। পারস্য, রোমান, বাইজানটাইন, উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে গিয়েছিল ইকারিয়া। বিশেষ করে ভৌগোলিক কারণে এর গুরুত্ব অনেক।

 

উপনিবেশ হওয়ার মতো ইকারিয়ায় জলদস্যু আক্রমণের ইতিহাসও পুরোনো। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে দ্বীপটিতে জলদস্যুরা আক্রমণ চালায়। এর আগে রোমান ও বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল দ্বীপটি। তখন আক্রমণ হলেও নিশ্চিত হওয়া যায় না।

দ্বীপের অপর অংশে ছোট্ট বন্দরে অফিস এলিনি মাজারির। তিনি একজন আবাসন ব্যবসায়ী। ইকারিয়ায় এসব ‘দস্যু-নিরোধ ঘরবাড়ি’ বানান ও বিক্রি করেন। অফিসে এসব ঘরবাড়ির হরেক নকশাও তিনি রেখেছেন। এগুলো দেখে আগ্রহীরা পছন্দের বাড়ি বানানোর নির্দেশ দেন। এসব ঘর যত বেশি গোপন থাকবে, বানানোর ক্ষেত্রে ততবেশি দক্ষতা হিসেবে দেখা হবে।

 

দ্বীপটির অবস্থান গ্রিসের মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটা দূরে তুরস্কের ভূখণ্ডের কাছাকাছি। গ্রিক পুরাণের ডিডেলাসপুত্র ইকারুসের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয় ইকারিয়া। তবে এর সব বাড়িঘর ‘দস্যু-নিরোধ’ বা গোপন নয়। একাংশে রয়েছে দারুণ সব অট্টালিকা। সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে ইকারিয়া দারুণ এক গন্তব্য। সূত্র :বিবিসি।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন