চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

৩১ অক্টোবর, ২০২২ | ১২:১২ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যে কারণে গুজরাটে ভেঙে পড়ল ব্রিটিশদের তৈরি ঝুলন্ত সেতু

ভারতের গুজরাটে ১৪০ বছর আগে মাচ্ছু নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল ঝুলন্ত সেতু। সেতুটি মেরামতের পর চার দিন আগে অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু এটি উন্মুক্ত করার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি বা এর ফিটনেস সনদ নেওয়া হয়নি। অবশ্য ব্রিজটি ফের খুলে দেওয়ার পর সেটির নির্মাণ সংস্থা জানিয়েছিল, আগামী ১৫ বছর ব্রিজটির সংস্কার করতে হবে না। তবে সংস্কারের ৫ দিনের মাথায় কীভাবে এতোবড় দুর্ঘটনা ঘটল বা ওই বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে উঠে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

রবিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ধসে পড়ার সময় সেতুটিতে আনুমানিক ৫০০ মানুষ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুটিতে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। তারা এর ওপর দৌড়াচ্ছেন, লাফাচ্ছেন। তাদের এরকম কর্মকাণ্ডের জন্য সেতুটি দুলছিল।

 

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই সোস্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শত শত মানুষ ওই ব্রিজে উঠে পড়েছে। শুধু তাই নয় কেউ সেই ব্রিজে উঠে লাফাচ্ছেন, কেউ মারছেন রেলিংয়ে লাথি। প্রবলভাবে দুলতে থাকে সেতুটি। এমনই একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ওই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

 

বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শনিবার এই ছবি এবং ভিডও ধরা পড়েছিল ওই সেতুটিতে। সেখানে সেদিন প্রায় শ’খানেক মানুষের ভিড় ছিল। আর তার ঠিক পরের দিনই এই বিপর্যয় ঘটল।

 

এনডিটিভি সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে ভেঙে পড়ে সেতুটি। ওই সময় ছটপুজো উপলক্ষে প্রায় ৫০০ মানুষের জমায়েত হয়েছিল। তা হলে কি অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামলাতে না পেরেই ভেঙে পড়ল সেতুটি?

 

জানা গেছে, সেতুটি উন্মুক্ত করার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি বা এর ফিটনেস সনদ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় মিনিউসিপ্যাল প্রধান ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিকে এ কথা বলেন।

 

অরেভা নামের একটি প্রাইভেট ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠান সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে সেতুটি মেরামতের কাজ পায়। সেতুটি মেরামত শুরুর পর থেকে সাত মাস এটি বন্ধ ছিল। গত ২৬ অক্টোবর এটি খুলে দেওয়া হয়।

 

মরবি মিউনিসিপ্যাল এজেন্সি প্রধান সন্দীপন জালা বলেন, অরেভা কোনো ফিটনেস সনদ না নিয়েই সেতুটি চালু করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, এটা সরকারি টেন্ডার। অরেভা গ্রুপের সেতুটি উন্মুক্ত করার আগে মেরামতের বিস্তারিত জানিয়ে ফিটনেস সনদ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা সেটা করেনি। সরকার এটার বিষয়ে অবগত ছিল না।

 

এর আগ গতকাল সন্ধ্যায় গুজরাটে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক ঝুলন্ত সেতু ছিঁড়ে পড়ে। এ ঘটনায় এখণ পর্যন্ত নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১ জনে। এ ঘটনায় আরও অনেকে গুরুতর আহত হওয়ায় নিহত বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে কেউ কেউ সেতুর ভাঙা অংশের রেলিং ধরে ঝুলতে থাকেন। আবার কেউ নদীতে সাঁতরে ডাঙায় ওঠার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের দাবি, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশ মহিলা ও শিশু।

 

এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে গুজরাট সরকার।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট