চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৩ আগস্ট, ২০১৯ | ৩:৫১ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

কাশ্মীর মধ্যস্থতার প্রস্তাব বিবেচনার মধ্যে নেই: ভারতীয় রাষ্ট্রদূত  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতা করার কথা আর ভাবছেন না।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘‘দশক পুরনো মার্কিন নীতিতে কাশ্মীর নিয়ে আমেরিকার মধ্যস্থতা করার কোনও উল্লেখই নেই। বরং বলা আছে, এ বিষয়ে ভারত  ও পাকিস্তান দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানসূত্র খুঁজে বের করুক। “

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যস্থতা করার তাঁর প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টি ভারত এবং পাকিস্তান, উভয় দেশের উপরেই নির্ভরশীল। যেহেতু এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব ভারত গ্রহণ করেনি, তাই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এটি আর বিবেচনার মধ্যে নেই” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শ্রিংলা।

২২ জুলাই, হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের গণমাধ্যমের সামনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতকে হতবাক করে দাবি করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীর  ইস্যুতে তাঁর “মধ্যস্থতা / সালিশি” চেয়েছিলেন।

তৎক্ষণাৎ ভারত এই বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে দৃঢ়ভাবে জানায় যে প্রধানমন্ত্রী মোদি  আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে এ জাতীয় কোনও অনুরোধ করেননি এবং কাশ্মীর ইস্যুটি ইসলামাবাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতেই ইচ্ছুক ভারত ।

এক সপ্তাহ আগে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন যে ভারত ও পাকিস্তান চাইলে কাশ্মীরের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে “অবশ্যই হস্তক্ষেপ করবে” আমেরিকা। তিনি বলেছিলেন যে কাশ্মীর ইস্যুটি সমাধান করা ভারত ও পাকিস্তানের বিষয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ যদি এই সমস্যা সমাধানে তাঁর সহায়তা চায় তবে তিনি সেই সহায়তা করতে প্রস্তুত।

যদিও ভারত আমেরিকাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই বিষয়ে যে কোনও আলোচনা হলে তা কেবলমাত্র পাকিস্তানের সঙ্গেই হবে এবং কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে নয়, কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে।

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শ্রিংলা বলেন যে কাশ্মীরের বিষয়ে আমেরিকার কোনও মধ্যস্থতা নীতি আগেও ছিল না। বরং দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীকে কাশ্মীর সহ দ্বিপক্ষীয়ভাবে তাদের মতপার্থক্য নিরসনে উৎসাহিত করার কথাই বলা আছে মার্কিন নীতিতে, যা নিয়ে শুধুমাত্র নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যেই আলোচনা হবে।

আমেরিকা’র দশক পুরনো নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটিই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন নীতি।”

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজও এই বিষয়টি নিয়ে খুব স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে ।

দুই দেশের মধ্যে হওয়া সিমলা চুক্তি এবং লাহোর ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে,” বলেন তিনি ।

“সুতরাং, এটি কোনও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মীমাংসা করার মতো ইস্যু নয় I আমি মনে করি এটি এমন একটি বিষয় যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন,” বলেন রাষ্ট্রদূত শ্রিংলা।

সূত্র: এনডিটিভি

পূর্বকোণ/পলাশ

The Post Viewed By: 232 People

সম্পর্কিত পোস্ট