চট্টগ্রাম শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৭ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাণ খুলে হাসুন, বেশিদিন বাঁচুন

প্রাণ খুলে হাসুন, বেশিদিন বাঁচুন। হাসি একটি প্রাকৃতিক ওষুধ। এটি মানুষের আবেগকে সহজেই স্পর্শ করে। তাই হাসিকে সুস্থতার মহা ওষুধও বলা হয়। হাসির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানসিক, এমন কি শারীরিক ভালো মন্দ। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, হাসি নানাভাবে শরীর গঠনে সাহায্য করে। শরীরকে চাঙ্গা ও সুস্থ রাখতে হাসির কোনো বিকল্প নেই। আজকাল চারপাশে স্ট্রেসের মাত্রা বেড়ে গেছে। হাসি-ই পারে সেই স্ট্রেসের হাত থেকে বাঁচাতে।

হাসির অনেক রকমের উপকারিতার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ১০টি উপকারিতা হলো- হাসি শরীরের টি-সেলের ক্ষমতা বাড়ায়। এই বিশেষ ধরনের কোষটির শক্তি যত বাড়ে তত শরীর ভেতর থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। যখনই মনের মধ্যে রাগ, হতাশা বা দুঃখ আসে, তখনই এমন কিছু করা উচিৎ যাতে প্রাণ খুলে হাসা যায়।

প্রাণ খুলে হাসি শরীরে সেরাটোনিন এবং এন্ডোরফিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে নিমিষে মন ভাল হতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে মানসিক এবং শারীরিক যন্ত্রণাও কমে যায়। তাই এ ২টি হরমোনকে চিকিৎসকেরা ‘ফিল গুড’ হরমোনও বলে। হাসলে ফুসফুসে বিশুদ্ধ অক্সিজেনে ভরে যায়। এতে ফুসফুস তরতাজা হয়ে ওঠে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসার সময় সারা শরীরে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। রক্তনালীগুলি প্রসারিত হতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই শিরা-ধমনীর উপর চাপ কম পরে। এতে ব্লাড প্রেসার কমে যায়। হাসি এক ধরণের ব্যায়াম। শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি বিপুল পরিমাণ বার্ন হতে সাহায্য করে।

শুধু তাই নয়, এই সময় পেটেও খুব চাপ পড়ে। ফলে সবদিক থেকে ওজন হ্রাস পায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে ১০ মিনিট নৌকা চালানো কিংবা ১৫ মিনিট সাইকেল চালানোর সমান শারীরিক কসরত হয় ১০০ বার হাসিতে। এতে রক্তে সংযুক্ত হয় বেশি পরিমাণ অক্সিজেন। ডায়াফ্রাম, পেটের ও রেসপিরেটরি মাংসপেশিসমূহ এবং মুখ, এমনকি পা কিংবা পিঠের মাংসপেশির চমৎকার এক্সারসাইজ হয়। দেহের ক্লান্তিভাব, কষ্ট দূর হয় এবং হাসি হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে।

 

বিশ্ব হাসি দিবস
আজ বিশ্ব হাসি দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ডু এন এক্ট অফ কাইন্ডনেস, হেল্প ওয়ান পার্সন স্মাইল’।

১৯৯৯ সাল থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম শুক্রবার পালন করা হচ্ছে এ দিবসটি। তেমনি বাংলাদেশেও কিছু সংগঠন দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৬৩ সালে শিল্পী হারভে রোজ বল হলুদ রঙের বৃত্তের মধ্যে দুটি চোখ ও একটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির মুখের ছবি আঁকেন, যা ‘স্মাইলি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্মাইলির বাণিজ্যিক ব্যবহারে ব্যাপক পরিচিতি পান যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী হারভে। তার সেই চেষ্টায় ১৯৯৯ সাল থেকে অক্টোবরের প্রথম শুক্রবার দিনটিতে বিশ্ব হাসি দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট