চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২০ আগস্ট, ২০২২ | ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জান্তা সরকারের সঙ্গে সু চি’র আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গৃহবন্দি থাকা গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন দেশটির সামরিক জান্তা সরকার। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ কথা জানান সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

বিবৃতিতে বলা হয়, জান্তাচালিত আদালতে সু চির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আমরা তার প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে (আলোচনার বিষয়টি) বিবেচনা করতে যাচ্ছি। মূলত অভ্যুত্থানের ফলে সৃষ্ট সংকটের অবসান ঘটাতে আমরা আলোচনায় বসতে রাজি।

 

এর আগে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। বন্দি করা হয় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। শান্তিতে নোবেলজয়ী ৭৬ বছর বয়সী অং সান সু চির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় এক ডজন মামলা দায়ের করা হয়। মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোর জান্তানিয়ন্ত্রিত আদালতেই সেসব মামলার বিচার চলছে।

এএফপি বলছে, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভিন্ন অভিযোগে অং সান সু চিকে এখন পর্যন্ত ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সু চির বিরুদ্ধে আরও কয়েক দশকের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হতে পারে।

 

মূলত আবদ্ধ একটি জান্তা আদালতে এই বিচার চলছে এবং সেখানে একাই লড়ছেন সু চি। এই বিচার কার্যক্রম থেকে সাংবাদিকদের দূরে রাখা হয়েছে। এমনকি সু চির আইনজীবীরাও মিডিয়ার সাথে কথা বলা থেকে বিরত ছিলেন। এছাড়া সু চির এই বিচার কখন শেষ হতে পারে তার কোনো ইঙ্গিতও এখন পর্যন্ত দেয়নি জান্তা।

এদিকে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের বিশেষ দূত নোলিন হেইজার প্রথমবারের মতো মিয়ানমার সফর করেন। এই পদে নিযুক্ত হওয়ার পর এবারই প্রথম তিনি দেশটিতে যান এবং জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংসহ অন্যান্য শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন। কিন্তু এই সফরের সময় তাকে সু চির সাথে বৈঠক করতে দেওয়া হয়নি।

 

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, নোলিন হেইজারের এই সফরের ফলে সামরিক বাহিনীকে তার রক্তাক্ত দমনপীড়ন বন্ধ করতে এবং অভ্যুত্থানের বিরোধীদের সাথে জান্তাকে সংলাপে রাজি হবে; এমন বিষয়ে তারা খুব কমই আশাবাদী ছিল।

এএফপি বলছে, স্থানীয় একটি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর তথ্য মতে, ক্ষমতা দখলের পর থেকে ভিন্নমতের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর দমন অভিযানে ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১৫ হাজারেরও বেশি আটক করা হয়েছে।

 

পূর্বকোণ/এএস/এএইচ

শেয়ার করুন