চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১০ আগস্ট, ২০২২ | ২:০১ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

৭০ বছরে মা হলেন তিনি!

বিয়ের পর ৫৪টা বছর কেটে গেছে। কিন্তু সন্তান আসেনি কোলে। এতদিন পর রাজস্থানের সেই নিঃসন্তান দম্পতির মুখে হাসি ফুটল।

সোমবার (৮ আগস্ট) রাজস্থানের প্রৌঢ়া আইভিএফ পদ্ধতিতে ৭০ বছর বয়সে মা হলেন। পঁচাত্তরের বৃদ্ধ গোপীচাঁদ হলেন বাবা। এই বয়সে সন্তানধারণের জন্য আইভিএফ বা ইন ভার্টো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছেন ওই দম্পতি।

রাজস্থানের আলওয়ারের একমাত্র রেজিস্টারড আইভিএফ সেন্টার হল ইন্দো আইভিএফ টেস্টটিউব বেবি সেন্টার। সেখানেই জন্ম নিয়েছে চন্দ্রাবতী, গোপীচাঁদের ফুটফুটে ছেলে।

গোপীচাঁদ এবং চন্দ্রাবতী হরিয়ানা সীমান্তের কাছে রাজস্থানের ঝুনঝুনু এলাকার একটি গ্রামে থাকেন। ৫৪ বছর আগে বিবাহিত জীবন শুরু করলে ও সন্তান হয়নি তাদের। সেই আক্ষেপ সারাজীবন দুজনকেই কুরে কুরে খেয়েছে।

গোপীচাঁদ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় তার পায়ে গুলি লেগেছিল।

আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডাঃ পঙ্কজ গুপ্তা জানান, দেড়বছর আগে তাদের সেন্টারে এক আত্মীয়ের সঙ্গে আসেন গোপীচাঁদ। তিনি এবং তার স্ত্রী বহু বছর ধরে চিকিৎসার জন্য দেশের একাধিক বড় বড় শহরে ঘুরেছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

৯ মাস আগে আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তানধারণে সফল হন গোপীচাঁদের স্ত্রী চন্দ্রাবতী। তিন বারের চেষ্টায় সাফল্য আসে। মা হতে পারার সে আনন্দ ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তবে বয়সের কারণে কিছুটা ঝুঁকি এবং উদ্বেগ ছিলই। তবে সেসব কাটিয়ে সোমবার জন্ম নিয়েছে তাদের সন্তান। মা এবং সন্তান দুজনেই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

কী এই আইভিএফ পদ্ধতি? স্বাভাবিক উপায়ে দম্পতি সন্তানধারণে সক্ষম না হলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। এতে হবু মায়ের গর্ভ থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। তারপর ল্যাবরেটরিতে সেই ডিম্বাণুকে শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত করা হয়। এই নিষিক্ত ডিম তারপর আবার গর্ভে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। আইভিএফের এই সম্পূর্ণ পদ্ধতিতে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। কখনও কখনও তার চেয়ে বেশিও সময় লাগে।

পূর্বাকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট