চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

২৮ মে, ২০২২ | ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাঙ্কিপক্স রোগীদের পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়ানো উচিত

ধীরে হলেও বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই ছড়িয়ে পড়া আরেক ভাইরাস মাঙ্কিপক্সের। এই পরিস্থিতিতে মাঙ্কিপক্স রোগীদের জন্য নতুন নির্দেশনা সামনে এনেছে যুক্তরাজ্য। দেশটি বলছে, মাঙ্কিপক্স ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের পোষ্য প্রাণী থেকে দূরে থাকা উচিত।

মূলত এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ২১ দিনের জন্য পোষ্য প্রাণী থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ)। শনিবার (২৮ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ১০৬ জন মাঙ্কিপক্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার নতুন এই নির্দেশনা জারি করে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ।

বিবিসি বলছে, জার্বিল, হ্যামস্টার এবং অন্যান্য ইঁদুরগুলো মাঙ্কিপক্স রোগের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হতে পারে এবং সংক্রমিত মানুষের মাধ্যমে এই ভাইরাসটি প্রাণীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। যদিও ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, পোষা প্রাণীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত কোনো সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়নি এবং এই সংক্রান্ত ঝুঁকি এখনও কম।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক লরেন্স ইয়ং বলেছেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো সংক্রামক এই ভাইরাসটি গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে এবং এরপরই মূলত তাদের মাধ্যমে ফের মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি সতর্ক না হই তবে এই রোগে বহু পোষ্য প্রাণী আক্রান্ত হতে পারে এবং এরপর এটি আবার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাঙ্কিপক্সে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে সেই পরিবার থেকে পোষা গিনিপিগ, ইঁদুর ও ইঁদুর জাতীয় অন্য প্রাণীগুলোকে ২১ দিনের জন্য সরিয়ে দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে রোগের জন্য পোষ্য এসব প্রাণীর পরীক্ষা করা উচিত বলেও জানানো হয়েছে।

বিক্রয়ের তথ্য উল্লেখ করে বিবিসি বলছে, যুক্তরাজ্যে ২০ লাখ পরিবারে কোনো না কোনো ধরনের পোষা ইঁদুর রয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়া কেউ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হলে কুকুর এবং বিড়ালের মতো অন্যান্য পোষা প্রাণীকেও আইসোলেশনে রাখার পাশাপাশি তাদের শরীরে কোনো উপসর্গ পাওয়া যাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত হতে নিয়মিত পশু চিকিৎসকদের সাথেও যোগাযোগ রাখা উচিত।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পরিবেশ বিষয়ক দপ্তর ও ফুড অ্যান্ড রুরাল অ্যাফেয়ার্স (ডেফ্রা) থেকে বলা হয়েছে, খাবার তৈরি করা বা পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শে যাওয়ার মতো কাজ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগীদের এড়িয়ে চলা উচিত। সম্ভব হলে পরিবারের অন্য কেউ এটি করতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা।

ইংল্যান্ডের চিফ ভেটেরিনারি অফিসার ক্রিস্টিন মিডলমিস বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যে পোষ্য প্রাণীদের মধ্যে মাঙ্কিপক্সে সংক্রমণের কোনো ঘটনা এখনও পাওয়া যায়নি এমনকি সন্দেহজনক কিছু শনাক্তও হয়নি। এই বিষয়ে ঝুঁকি কম রয়েছে।’

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট