চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২১ মে, ২০২২ | ২:৩৭ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

দ্রুত ছড়াচ্ছে মাঙ্কিপক্স, ইউরোপেই আক্রান্ত শতাধিক

ইউরোপের প্রায় নয়টি দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসজনিত বিরল রোগ মাঙ্কিপক্স। বানর থেকে সৃষ্ট এইরোগে আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে স্পেনে (২৪ জন)।

রয়টার্সের প্রতিবেদেনে বলা হয়, ইতোমধ্যে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য— ৯ ইউরোপীয় দেশে শনাক্ত হয়েছে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগী। ইসরায়েলেও সম্প্রতি একজন রোগী মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তি সম্প্রতি পশ্চিম ইউরোপ থেকে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছিলেন। চলমান সংক্রমণ পরিস্থিতিকে ইউরোপে মাঙ্কিপক্সের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব বলে উল্লেখ করেছে জার্মানি।

 

মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত অসুখ। স্মলপক্স ভাইরাস শ্রেণীর একটি ভাইরাস এ রোগের জন্য দায়ী। ভাইরাসটির দু’টি রূপান্তরিত ধরন রয়েছে— মধ্য আফ্রিকান ও পশ্চিম আফ্রিকান। বিশেষজ্ঞদের মতে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার উষ্ণ ও আদ্র বনাঞ্চলের বানররা ছিল এ রোগের প্রথম শিকার। তারপর মানবদেহেও সংক্রমিত হতে শুরু করে রোগটি। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে শুক্রবার ডব্লিউএইচওর ইউরোপীয় শাখা জরুরি বৈঠকও করেছে।

রোগটির বিভিন্ন লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ঘেমে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশির টান ও অবসাদ। প্রথম পর্যায়ে রোগীর জ্বর আসে, পাশাপশি শরীরে দেখা দেয় ফোস্কা ও অধিকাংশ ঘটনায় শুরুতে মুখে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে; বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের তলা।

 

গত ৭ মে প্রথম একজন ইউরোপীয়ের দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়। নাইজেরিয়া থেকে ওই ব্যক্তি ইংল্যান্ডে ফিরে এসেছিলেন। এরপর থেকে আফ্রিকার বাইরে ১০০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে ইউনিভার্সিট অব অক্সফোর্ড একাডেমিক। এর আগে ১৯৭০ সালের পর থেকে আফ্রিকার ১১ দেশে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের পর নাইজেরিয়ায় এবার সবচেয়ে বেশি এ রোগের প্রকোপ দেখা গেছে। এবছর এখনও পর্যন্ত ৪৬ জনের দেহে উপসর্গ দেখা গেলেও ১৫ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সার্স-কোভ-২ বা করোনাভাইরাসের মতো মাঙ্কিপক্স ভাইরাস সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। গণ সংক্রমণের ঝুঁকিও খুব কম। এদিকে যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, স্পেন ও ইতালিতে যৌন সংস্পর্শে আসার কারণে এই রোগ ছড়িয়েছে বলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছে।

এতদিন কেবল মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকাতেই এ রোগে আক্রান্ত রোগীর দেখা মিলত। এ কারণে এই ভাইরাসটি করোনা মহামারির মতো দুর্যোগ বয়ে আনবে না বলেই ধারণা করছেন সংক্রামক রোগ ও জীবাণু বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে ডব্লিউএইচও এতটা নিশ্চিত হতে পারছে না। মাঙ্কিপক্স রোগের জন্য এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা জানিয়েছে, স্মলপক্স বা জলবসন্তের জন্য ব্যবহৃত টিকা মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে ৮৫ শতাংশ কার্যকর।

 

পূর্বকোণ/এস

শেয়ার করুন