চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২০ মে, ২০২২ | ৩:৫২ অপরাহ্ণ

এবার কুতুব মিনার নিয়ে বিতর্ক

ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত কুতুব মিনার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন আঞ্চলিক ডিরেক্টর ধর্মবীর শর্মা দাবি করেছেন, কুতুবউদ্দিন আইবেক নন, রাজা বিক্রমাদিত্য এই মিনার বানিয়েছেন। এর আগে জ্ঞানবাপী মসজিদ, তাজমহলকে হিন্দুত্ববাদীদের সম্পদ দাবি করায় বেশ কিছুদিন বিতর্ক চলছিল।

ধর্মবীর শর্মা জানান, ‘কুতুব মিনার একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থাপত্য। এর কাছে থাকা মসজিদের সঙ্গে এই মিনারের কোনও সম্পর্ক নেই। এমনকি কুতুব মিনারের দরজাও উত্তরমুখী। ধ্রুবতারাকে দেখতেই মিনারের দরজা উত্তরমুখী করা হয়েছে। এটা কুতুব মিনার নয়। সূর্যের অবস্থান পর্যবেক্ষণকারী মিনার। পঞ্চম শতকে রাজা বিক্রমাদিত্য এই মিনার বানিয়েছিলেন। আমার কাছে এ বিষয়ে অনেক প্রমাণ আছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, সূর্যের উত্তরায়ণ এবং দক্ষিণায়ণের মধ্যবর্তী সময় অর্থাৎ ২১ জুন সূর্যের অবস্থান পর্যবেক্ষণের জন্য এই মিনারটি বানানো হয়। এই মিনারটি ২৫ ইঞ্চি হেলানো। সূর্যের আলোয় যাতে মিনারের কোনও ছায়া না পড়ে সেই ভাবেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বানানো হয়েছিল এই মিনার।

২৭টি হিন্দু এবং জৈন মন্দির আংশিকভাবে ভেঙে কুতুবউদ্দিন আইবেক নিজের নামাঙ্কিত মিনার বানিয়েছিলেন বলে গত বছর অভিযোগ উঠে। ওই সময় মিনার চত্বরে হিন্দু এবং জৈন মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবিতে দিল্লির সাকেত আদালতে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছিল।

সাকেত আদালতের বিচারক নেহা শর্মা বৃহস্পতিবার মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি খারিজ করে বলেন, ‘ভারতের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজবংশ শাসন পরিচালনা করেছে। আবেদনকারী পক্ষ ‘জাতীয় লজ্জার’ প্রসঙ্গ তুলেছেন। কিন্তু কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না, অতীতে ঘটে যাওয়া অন্যায়কে ভবিষ্যতের অশান্তির ভিত্তি হতে দেওয়া যায় না।’

উল্লেখ্য, কুতুব মিনার ভারতের ঐতিহাসিক ও সুউচ্চ নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভারত বংশের প্রথম মুসলিম শাসক কুতুবউদ্দিন আইবেক তার নামে মিনারটি তৈরি করেছিলেন। ওই জায়গায় হিন্দুদের প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আছে বলেও কথিত আছে। এছাড়া  ট্রান্সঅক্সিয়ানা হতে আগত বিখ্যাত সুফী সাধক হযরত কুতুব উদ্দিন বখতিয়ার কাকীর সম্মানার্থে এটি নির্মিত হয় বলেও বর্ণনা পাওয়া যায়। লাল বেলেপাথর দিয়ে তৈরি মিনারটির উচ্চতা ১৩২ ফুট।

পূর্বকোণ/এস

শেয়ার করুন