চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

২৯ জুলাই, ২০১৯ | ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা , উখিয়া

উখিয়ায় সাংবাদিকদের মিন্ট থোয়ে

মিয়ানমার বিদেশি নাগরিক হিসাবে দেখবে রোহিঙ্গাদের

‘নাগরিকত্ব না পেলে মিয়ানমারে ফিরে যাবে না রোহিঙ্গারা’

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিদেশি নাগরিক হিসেবে দেখবে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে। তাদের বিদেশি হিসেবে মিয়ানমারে থাকার অনুমোদন দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। গতকাল (রোববার) দুপুর ২টার দিকে ২য় দিনের মত উখিয়ার কুতুপালংয়ের ডি-৪ ক্যাম্পে হিন্দু ও খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোববার (গতকাল) এবং শনিবার আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে কথা বলেছি। মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন মোতাবেক তিন ধরনের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। সেই মোতাবেক আইনের তিন নম্বর ধারা অনুযায়ী যারা তিন প্রজন্ম ধরে মিয়নামারে বসবাস করে আসছেন তাদের ‘নেট্টালাইজড সিটিজেনশিপ’ দেওয়ার বৈধতা আছে। সুতরাং তারা সরাসরি মিয়ানমারের নাগরিক না হলেও তাদের এই ধারার আওতায় মিয়ানমারে বিদেশি নাগরিক হিসেবে থাকার বৈধতা দেওয়া হবে। এই মোতাবেক আমরা তাদের জাতীয় আইডি (ইআইডি) কার্ড দেব। যার মাধ্যমে তাদের মধ্যে জাতীয়তা কিংবা গোত্র নিয়ে কোন ধরনের সমস্যা থাকবে না। এর আগে সকালে ক্যাম্প-৪ এ মুসলিম রোহিঙ্গাদের সাথে বৈঠক করেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সে দেশের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে। তার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ১০ সদস্য।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের পক্ষে মাস্টার মুহিব উল্ল­াহ’র নেতৃত্বে ৩০ সদস্যে মিয়ানমার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারমধ্যে ৫ জন নারী সদস্য রয়েছেন। তাদের সাথে আসিয়ানের ৫ প্রতিনিধিও রয়েছে। পরে ৪ খ্রিস্টান ও ১০ হিন্দু রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এ প্রতিনিধি দল।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে ১০ সদস্য। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে তাদের এ সফর বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নানান শর্তের কারণে সঠিক কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। এরই মাঝে রোববার (গতকাল) আবারো বৈঠকে বসলো দুই পক্ষ।
২০১৭ সালের ২৪ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এরপর দফায় দফায় চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দ্বিতীয়বারের মত প্রতিনিধি দল পাঠালো মিয়ানমার।
বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের কাছে রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. মুহিব উল্ল­­াহ। তিনি বলেন, শনিবারের আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। রোববার (গতকাল) আবার বৈঠক করেছেন। আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি। মুহিব বলেন, তারা সেই পুরনো প্রস্তাবগুলোই আমাদের দিয়েছেন। মিয়ানমারে গিয়ে আগে এডিপি ক্যাম্পে থাকতে হবে। আমরা তাদের এসব প্রস্তাবে রাজি নই। তিনি আরো বলেন, নাগরিকত্ব না দিলে কোন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরতে রাজি নয়। মিয়ানমার প্রতিনিধি দলকে ২ মাস পর রোহিঙ্গাদের সাথে সংলাপের জন্য আবারো আসতে বলেছি।
নতুন-পুরাতন মিলিয়ে বর্তমানে সাড়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখন কক্সবাজারে অবস্থান করছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 346 People